সাতক্ষীরায় এডিসির অপসারণ দাবিতে আইনজীবীদের মানববন্ধন
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রিপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা এবং আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিবকে তাঁর কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে এবং এডিসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের নেতারা। মানববন্ধন থেকে তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলী।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১ অক্টোবর জেনারেল সার্টিফিকেট আদালতে সি.সি. মামলা নম্বর ১৭৫/২৬-এর শুনানিকে কেন্দ্র করে ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরাম আলীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস। একপর্যায়ে তাঁর গলার টাই ধরে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এডিসির আমন্ত্রণে তাঁর কক্ষে যান। সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে তাঁকে প্রায় ৪৫ মিনিট কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, একজন আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করা মানে পুরো আইনজীবী সমাজকে অসম্মান করা। তাঁদের অভিযোগ, এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস এর আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনবার আদালত বর্জনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া অ্যাডভোকেট আকবর আলীসহ প্রায় ১০ জন আইনজীবী তাঁর অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে এডিসির বিরুদ্ধে আইনজীবীদের একটি অংশের সঙ্গে বৈরী আচরণ এবং তাঁর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও বক্তব্য দেন বক্তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাসের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
অর্পিত সম্পত্তির মামলা নিয়েও বক্তব্য
মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন একটি অর্পিত সম্পত্তিসংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্পিত সম্পত্তির মামলা নম্বর ৮০৯/২০১২-এর রায় হয় ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল এবং ডিক্রি হয় ২৪ এপ্রিল। তাঁকে ওই মামলায় আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ৪ মে।
নুরুল আমিনের দাবি, তাঁর আগে নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রবীর মণ্ডল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করেননি। ফলে মামলাটিতে তামাদিসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে তাঁকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নুরুল আমিন আরও বলেন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের ১৮ ধারার বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে রায় প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর আপিল না করায় তামাদিসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এ ঘটনায় আগের আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তাঁকেও যথাযথভাবে নোটিশ দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নুরুল আমিন। তাঁর দাবি, গত ২৬ অক্টোবর মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে তাঁকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথা বলা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, অ্যাডভোকেট হেলালুজ্জামান, অ্যাডভোকেট জাকির, অ্যাডভোকেট শাহাজান, অ্যাডভোকেট জগলু, অ্যাডভোকেট একরাম ও অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমানসহ শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাসকে অপসারণের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনসহ লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তাঁরা। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট আইন মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলেও জানান বক্তারা।