মাদারীপুরে ৯ ঘণ্টা মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ, আরএমওর অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
নাজমুল হাসান, মাদারীপুর:
মাদারীপুর সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত এক শ্রমিকের মরদেহ প্রায় ৯ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকারের পদত্যাগ, বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনেরা ও স্থানীয় জনতা। পরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং রাতেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত শ্রমিকের নাম সাইম (২৩)। তিনি মাদারীপুর পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকার শামসু মোল্লার ছেলে। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে আমিরাবাদ এলাকার সাইফুল ইসলামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাই গ্লাসের কাজ করছিলেন সাইম। কাজ করার একপর্যায়ে ভবনের খুব কাছ দিয়ে যাওয়া উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের লাইনের সংস্পর্শে এসে তিনি মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য তাঁরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি সংগ্রহ করে হাসপাতালে যান। কিন্তু হাসপাতাল থেকে মরদেহ বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ছাড়পত্র প্রদায় ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘসূত্রিতা করা হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই টালবাহানায় সারাদিন পেরিয়ে রাত হয়ে গেলেও স্বজনেরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই চরম উৎকণ্ঠা ও কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সারাদিন মরদেহ না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। রাতে তাঁরা হাসপাতালের মূল গেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন এবং তাঁর পদত্যাগ, বিচার ও অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই উত্তেজনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত সদর হাসপাতালে ছুটে যান। তাঁরা বিক্ষুব্ধ নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং পুরো বিষয়টি শান্ত করার চেষ্টা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের আশ্বাসের পর স্বজনেরা শান্ত হন এবং রাত গভীর হওয়ার দিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, "হাসপাতালে মরদেহ আটকে রাখার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করি। নিহতের স্বজনদের শান্ত করা হয়েছে এবং রাতেই মরদেহ পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "মরদেহ হস্তান্তরে কেন এই দীর্ঘসূত্রিতা হলো এবং এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"