রাণীনগরে ঐতিহ্যবাহী কুজাইল বউ মেলার শেষ দিনে উপচে পড়া ভিড়
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
মোঃ সোহাগ খন্দকার, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষে কুজাইল বাজারে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেলা শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। মেলার শেষ দুই দিন বউ মেলায় উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
মেলায় আসা মেয়েরা চুড়ি, আলতা, ফিতা ও বাচ্চাদের খেলনাসহ নানা ধরনের জিনিস কিনছেন। জামাই-মেয়েদের উপস্থিতিতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে সবাই নিজ নিজ সাধ্যমতো কেনাকাটা করছেন। তাঁদের ভাষ্য, মেলার সার্বিক পরিবেশ খুবই ভালো। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ইচ্ছেমতো ঘুরে পছন্দের জিনিস কিনতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
মেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি রাণীনগর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বউ মেলায় নারী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অতীতে এমন নিরাপদ পরিবেশ ছিল না বলে জানান স্থানীয়রা। মেলা পরিচালনা কমিটি জানায়, এবার জিলাপি, আসবাবপত্র, মাছ ও প্রসাধনসামগ্রীর বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি।
রাণীনগর উপজেলার একমাত্র ঐতিহাসিক স্থান কাশিমপুর রাজবাড়ী। প্রচলিত আছে, সেখানকার রাজার শাসনামলে আতাইকুলা, হরিশপুর, কৌনজ, মিরাট, কাশিমপুর, বেতগাড়ী, ত্রিমোহনী ও শৈলগাছীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষে রাজার সরাসরি নির্দেশে কুজাইল বাজারে এই মেলার সূচনা হয়। বাজারের গা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনার পূর্ব পাড়েই বসে এই মেলা।
গত সোমবার বিকেল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নৌকায় প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নদীতে আসেন ভক্তরা। ঢাকঢোলের তালে নেচে-গেয়ে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে পূজা আয়োজক কমিটির সদস্যরা প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করেন।
আশপাশের গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় মেয়ে-জামাই ও আত্মীয়স্বজনের আগমনে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। কাশিমপুর গ্রামের জামাই সানাউল ইসলাম বলেন, এলাকার রেওয়াজ অনুযায়ী শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আমাকে দাওয়াত করা হয়েছিল। আজ পুরো পরিবার নিয়ে কুজাইল বউ মেলায় এসেছি। মেলার পরিবেশ অনেক ভালো। দুই ভায়রা মিলে সাধ্যমতো কেনাকাটা করলাম।
কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মকলেছুর রহমান বাবু বলেন, মেলা পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সার্বিক তত্ত্বাবধানে আমি আছি। মেলার পরিবেশ ভালো রাখতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, মেলার প্রথম দিন প্রতিমা বিসর্জন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নদীতে নৌকায় পুলিশের টহল ছিল। দ্বিতীয় দিন থেকে বউ মেলায় নারী পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুরুষ পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।