প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মহাসড়কের পাশে বাঁশ-খুঁটি গেড়ে দোকান নির্মাণের অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
নাজমুল হাসান, মাদারীপুরঃ
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ২০০ বছরের পুরনো কুণ্ডবাড়ি মেলা আয়োজনের আগেই প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুমতি পাওয়ার আগেই একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দোকান বরাদ্দ ও উচ্চ হারে চাঁদা তোলার মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভার ভুরঘাটার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে কুণ্ডবাড়ির প্রাঙ্গণে প্রতি বছর কালীপূজা উপলক্ষে প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পূজা ও মেলা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে সাধারণত উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে তিন থেকে পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। তবে চলতি বছর এখনো পর্যন্ত প্রশাসন থেকে মেলার কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে কালকিনি পৌরসভাধীন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুয়ালী মাদারীপুর ও দক্ষিণ গোপালপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মেলার নির্ধারিত সময়ের আগেই মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে বাঁশ ও খুঁটি গেড়ে দোকানঘর নির্মাণের তোড়জোড় চলছে। অভিযোগ রয়েছে, অনুমতির আগেই দোকান নির্মাণ করতে পারলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দোকানপ্রতি উচ্চ হারে চাঁদা তুলে তা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এই চক্রের সঙ্গে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের সখ্য থাকায় পুরো বিষয়টি একধরনের চাঁদাবাজির উৎসবে পরিণত হয়েছে, যার নেতিবাচক দায় এসে পড়ছে পূজা উদযাপন ও মেলা আয়োজক কমিটির ওপর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ১৫-২০ বছর আগেও কুণ্ডবাড়ি মেলাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কোনো চাঁদাবাজির প্রচলন ছিল না। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় দিন দিন এই সংস্কৃতি মেলাটিকে জৌলুসহীন করে তুলছে। তারা বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে চাঁদাবাজমুক্ত দেখতে চাই। স্বার্থান্বেষী মহল যেন মেলাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অবৈধ অর্থ আদায় করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এদিকে পূজা ও মেলা উদযাপন কমিটির কয়েকজন সদস্য অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, অনুমতি ছাড়া দোকান নির্মাণ ও চাঁদাবাজির কারণে অতীতে মেলায় বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাইলেও অনেক সময় প্রভাবশালী মহলের ভয়ে কিছু বলতে পারি না। প্রশাসন আন্তরিক হলে এই পরিস্থিতি থেকে খুব সহজেই উত্তরণ সম্ভব।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলের ইজারাদার আকবার সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, মহাসড়কের পাশে যে সমস্ত স্থাপনা তৈরি করা হয়েছিল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ সময় তিনি উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তার কাজে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন।
তবে তার দাবির সত্যতা যাচাই করতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ইজারাদারের তৈরি করা মূল কাঠামো আগের মতোই বহাল রয়েছে; লোকদেখানোর জন্য কেবল কয়েকটি বাঁশ ও খুঁটি সামান্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কালকিনি পৌর প্রশাসক ও কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস জানান, “মেলার স্থানের ইজারা দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত মেলা আয়োজনের কোনো অনুমতি প্রদান করা হয়নি। ইজারাদারকে ডেকে ইতিমধ্যে অবৈধভাবে তৈরি সমস্ত স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুন
জয়পুরহাটে ৮ মাসের গর্ভবতী গাভী জবাই: জামালগঞ্জ বাজারে উত্তেজনা, মাংস বিক্রি বন্ধ
মানিকগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাঈদ ও জাহাঙ্গীরকে ফুটবল রেফারিদের ফুলেল শুভেচ্ছা
৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে পারে ঘিওর উপজেলার একাংশ, শনিবার শাটডাউন