মীরসরাইয়ে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
চট্রগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান:
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউপি সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এ মামলাটি করেন সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।
মামলার আসামিরা হলেন করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মীরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন নয়ন, সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার ও তাহেরা বেগম এবং সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলী।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থায়নে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ ভাউচার জাল বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। ভাউচারে উল্লেখিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক দুদকের অনুসন্ধানকারীদের জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ভাউচারে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর তাঁদের নয়।
এ ছাড়া প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে অন্য সদস্যদের অধিকাংশ স্বাক্ষরও জাল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এজাহারে বলা হয়, ১ শতাংশ করের অর্থে নেওয়া মোট ৫৫টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। তাঁদের পারস্পরিক যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা ও নীতিমালা লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং জাল ভাউচার তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়