বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়ন্ত্রণমূলক জটিলতা দূর করার তাগিদ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান:
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়ন্ত্রণমূলক জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের সীমাবদ্ধতা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড—এআরটি) স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে শুল্কপ্রক্রিয়া সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্নীতি হ্রাস, আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পণ্যের গুণগত মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিভিন্ন অশুল্ক প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি তুলে ধরে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, খাদ্যপণ্য আমদানিতে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার মতো কিছু বিধিনিষেধ পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় বাধা দূর করা গেলে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মডুলার পারমাণবিক চুল্লির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষিপণ্য, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিমান পরিবহন খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর, মাতারবাড়ী ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনাল এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আধুনিক এভিয়েশন লজিস্টিকস হাবে রূপান্তর করা গেলে চট্টগ্রামকে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও লজিস্টিকস কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের ব্যবসায়ীদের ব্যয়ের বড় অংশ চলে যায় লজিস্টিকস খাতে। এ খাতে ব্যয় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যয় ৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
বাংলাদেশের মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস খাতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে চেম্বার সভাপতি বলেন, চট্টগ্রামে তিনটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা এবং একটি বৃহৎ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। এসব অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতের পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প, উচ্চপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
সভায় বক্তব্য দেন মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, চেম্বারের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী আলী আহমেদ, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এমএ সালাম, সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, সাবেক পরিচালক এসএম আবু তৈয়ব, ডা. মইনুল ইসলাম মাহমুদ, রাহবার এ আনোয়ার, রকিবুর রহমান টুটুল, বর্তমান চেম্বার পরিচালক আকতার পারভেজ, বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরআলী হোসেন এবং সাইনশাইন গ্রামার স্কুলের অধ্যক্ষ সাফিয়া রহমান গাজী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক ও পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, চেম্বারের বর্তমান সহসভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন, পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, এসএম সাইফুল আলম, আমান উল্লাহ আল ছগীর, আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, মো. আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), প্রকৌশলী মো. গোলাম সরওয়ার, মো. জাহিদুল হাসান, আসাদ ইফতেখার, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, এএসএম ইসমাইল খান, ক্যাপ্টেন মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, শহীদুল আলম, মোহাম্মদ শফিউল আলম (বাদশা) ও মো. সেলিম নুর।
এ ছাড়া মার্কিন দূতাবাসের শ্রমবিষয়ক অ্যাটাশে লীনা খান, অর্থনৈতিক কর্মকর্তা জন ব্রান্সডেল, নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অ্যারিক ওয়েলস, অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ আসিফ আহমেদসহ দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তা সভায় উপস্থিত ছিলেন।