চট্টগ্রামে সাবেক আ.লীগ নেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, নিখোঁজ দুই মোবাইল ফোন
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান:
চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থানা এলাকার একটি বাসা থেকে নুর নাহার বেগম (৭৫) নামে আওয়ামী লীগের সাবেক এক নেত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পূর্ব মাদারবাড়ী মাঝিরঘাট এলাকার নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের খোঁজ না মেলায় বিষয়টি তদন্তের আওতায় রেখেছে পুলিশ।
নিহত নুর নাহার বেগম পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তাঁর স্বামী মৃত আবুল কালাম। তিনি নগরীর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাট রোডের সরকারি পুকুরপাড় এলাকার নুর মোহাম্মদ মাস্টার লেনে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুর নাহার দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তাঁর বড় ছেলেও ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিনি ছোট ছেলের সঙ্গে বাসায় থাকতেন। বুধবার সকালে তাঁর ছেলে কর্মস্থলে চলে যান। অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূও ছিলেন বাবার বাড়িতে। ফলে ঘটনার সময় বাসায় একাই ছিলেন নুর নাহার।
সন্ধ্যায় বাসার পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান ভাড়াটিয়ারা। পরে তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের বিছানায় নুর নাহারকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে সদরঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে।
সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, নুর নাহার ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি নিখোঁজ দুটি মোবাইল ফোনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে সদরঘাট থানায় অপমৃত্যুর মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ওসি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।