রাণীনগরে ২৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি ছিনতাইয়ের ৩২ লাখ টাকা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ এএম
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগরে দিনে দুপুরে আবাদপুকুর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার কর্মকর্তাদের মারপিট করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় জরিত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতারসহ মাত্র ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। কিন্তু ঘটনার ২৫দিন অতিবাহিত হলেও আরো ৩২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে হতাশায় পরেছেন ব্যাংকের সত্বাধীকারি। তবে পুলিশ বলছে টাকা উদ্ধার এবং জরিত আরো কয়েকজনক গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত।
জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে আবাদপুকুর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার কর্মকর্তারা বগুড়ার সান্তাহার ব্যাংক থেকে টাকা তুলে মোটরসাইকেল যোগে আবাদপুকুর ফিরছিলেন। পথিমধ্যে আবাদপুকুর- আদমদীঘি সড়কের পারইল ব্রিজের দক্ষিণে মোবাইল টাওয়ার এলাকায় পৌঁছলে মারপিট করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
এঘটনায় ব্যাংকের সত্বাধীকারি ফিরোজ হোসেন বাদী হয়ে ওই রাতেই রাণীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে এবং টাকা উদ্ধারে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের তথ্যাবধানে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং রাণীনগর থানা পুলিশের সমন্বয়ে পৃথক দুটি চৌকশ টিম গঠন করা হয়। এরপর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জড়িতদের সনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা শুরু করে।
অভিযানে প্রথমেই ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল পারইল বিশিয়া গ্রাম থেকে উদ্ধার এবং মোটরসাইকেল মালিক রাব্বী আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর ছিনতাইয়ের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে বিশিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে স্বপন (২৮) এবং একই গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে হাসান আলী (২৫) কে গত ৭ অক্টোবর রাতে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় গ্রেফতারকৃতদের নিকট থেকে ছিনতাইয়ের ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্য মতে আবাদপুকুর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার লোন কর্মকর্তা রাণীনগর উপজেলার অলংকারদীঘি গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে সুজন (২৭), সিলমাদার গ্রামের ওহাব আলীর ছেলে আবু তালেব (২২) এবং অফিস সহকারী অলংকারদীঘি গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রাসেল বাবু (২২) কে গ্রেফতার করা হয়। পরে গত ১৪ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে কালীগ্রাম দিঘীরপার গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে হাসান আলী (৩২) নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করে।
এসব ঘটনায় গত ৯ অক্টোবর নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, আবাদপুকুর ইসলামী এজেন্ট ব্যাংক শাখার লোন কর্মকর্তা সুজন, আবু তালেব এবং অফিস সহকারী রাসেল বাবু দীর্ঘ দিন ধরে অনলাইনে জুয়া খেলে প্রায় ৭/৮ লাখ টাকা হেরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পরে। সেই ঋণ শোধ করতে তারা গত এক মাস আগে স্থানীয় অপরাধ চক্রের সদস্যদের সাথে মিলিয়ে ব্যাংকের টাকা লুটের পরিকল্পনা করে। এরপর গত ৬ অক্টোবর দুপুরে আবাদপুকুর ইসলামী ব্যাংক শাখা ম্যানেজার নাজমুল হক এবং অফিস সহকারী রাসেল বাবু বগুড়ার সান্তাহার ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে আবাদপুকুর ইসলামী ব্যাংক শাখায় ফেরার সময় মারপিট করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই করে।
ব্যাংকের সত্ত্বাধীকারী ও মামলার বাদী ফিরোজ হোসেন বলেন, কয়েকজনকে গ্রেফতার এবং মাত্র ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনার ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও আরো ৩২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা উদ্ধার করতে না পারায় চরম হতাশায় দিন পার করতে হচ্ছে। এঘটনার সাথে জরিতদের দ্রুত গ্রেফতারসহ টাকা উদ্ধারের দাবি জানান ফিরোজ হোসেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সাত জনকে গ্রেফতারসহ ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া জরিত আরো কয়েকজনকে গ্রেফতার এবং টাকাগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।