উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় হাবিপ্রবি, সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচন

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

নুরুজ্জামান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ৫৭৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প, গবেষণা বাজেট বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ বিরতির পর দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন উল্লেখযোগ্য।

২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা, গবেষণার পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য সংযোজন ৫৭৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সপ্তম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি হাবিপ্রবির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দের উন্নয়ন প্রকল্প।

প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, সারফেস ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গভীর নলকূপ স্থাপন, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ লাইন নির্মাণ এবং ৫০০ কেভিএ সাব-স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ভূমি উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ক্যাম্পাসের যোগাযোগব্যবস্থা, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ আরও আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব হবে।

এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ বাজেটের মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি গবেষণায়ও গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হাবিপ্রবির গবেষণা বাজেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ টাকায়। আগের অর্থবছরে এ বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে গবেষণা বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (আইআরটি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১২৩টি স্বতন্ত্র গবেষণা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১৩টি চলমান যৌথ গবেষণা প্রকল্প এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চারটি প্রকল্পের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি, প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, মৎস্য ও ভেটেরিনারি অনুষদে গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে এ বরাদ্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব গবেষণা থেকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং জনস্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষণায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে পিএইচডি ফেলোশিপ চালুর উদ্যোগও নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মাধ্যমে উচ্চতর গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি গবেষণাভিত্তিক একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন।

এ সমাবর্তনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের আট হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘদিন পর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্‌যাপনের পাশাপাশি এটি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা বলেন, ‘হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রথম সারির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। আমি আশা করি, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সামনের দিনগুলোতে হাবিপ্রবি দেশকে নেতৃত্ব দেবে। আমি দেশবাসীর কাছে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অনন্য বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তুলে ধরতে চাই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি গবেষণার মান ও পরিধি বাড়ানো, পর্যাপ্ত শিক্ষক-গবেষক নিয়োগ, আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা গেলে হাবিপ্রবি শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, জাতীয় পর্যায়েও উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com