কমলনগরে মেঘনার অবৈধ বালুর রমরমা ব্যবসা নিরব প্রশাসন
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
সিরাজুল ইসলাম কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালুর রমরমা ব্যবসা চলছে দীর্ঘদিন থেকে। মেঘনা নদীর ভোলার অংশে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি তোলা হলেও এর বেশিরভাগ অংশ বিক্রি হচ্ছে কমলনগরের বিভিন্ন স্পটে ।
মেঘনা নদীর ভাঙন কমলনগরবাসীর জন্য দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। নদীর সংবেদনশীল এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ ও তীরের স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।
নদী থেকে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রির কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় পর্যায়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং এ সব বালুর ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত, কোথা থেকে বালু আনা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না? তা যাচাই করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করছেন সচেতন মহল।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে মেঘনার মাঝ নদীতে একটি চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করছেন। সরকার পতন হলেও ওই চক্রের বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। ওই উত্তোলনকৃত বালি উপজেলার লুধুয়া, মাতাব্বরহাট, কাদিরপণ্ডিতেরহাট ও চরলরেন্স ইউনিয়নের নবীগঞ্জ মেঘনার তীরবর্তী এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে তুলেছেন বালুমহল। ওই সব বালি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে দিব্যি বিক্রি করে যাচ্ছেন তারা।
সরজমিন উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের নবীগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মিলন ভান্ডারী, সুমন, আবদুস সাত্তার এবং কাদিরপন্ডিতেরহাট অংশে কামাল হোসেন ও আজাদ উদ্দিন পাহাড় সমান বালির স্তুপ গড়ে তুলেছেন। ওই সব বালু প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্নস্থানে বিক্রি করছেন তারা।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ এলাকার বালু মহলের ব্যবসায়ি মিলন ভান্ডারী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে মেঘনা নদীর ভোলার অংশে বালু তোলা হচ্ছে । আমরা তাদের থেকে কিনে এনে এখানে ব্যবসা করছি। তাদের অনুমোদন আছে কিনা তা আমার জানা নেই। বিভিন্ন সমস্যার কারণে গত এক মাস থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এ ব্যবসা করতে কোন অনুমোদন লাগে কিনা? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অনুমোদন লাগে কিনা; আমার জানা নেই। আমরা ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছি।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাহাত উজ জামান বলেন, মেঘনার কোন অংশে বালি উত্তোলন হচ্ছে খোঁজ নেবো। অনুমোদনহীনভাবে এ সব বিষয়ে খুব শীগ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।