১৮ মাসেও নগদায়ন হয়নি ১০টি এফডিআর ও পে-অর্ডার, চিঠি গভর্নর ও মন্ত্রীকে

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা আটকে

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান:

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও পে-অর্ডারের ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা আটকে রয়েছে। গত ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে নানা চেষ্টা করেও এসব অর্থ উত্তোলন করতে পারছে না সমিতি। এতে আর্থিক সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবীদের পাওনা পরিশোধ এবং তাঁদের পরিবারের চিকিৎসা, জীবনযাত্রা ও সন্তানদের শিক্ষাব্যয় নির্বাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

আটকে থাকা অর্থ দ্রুত ফেরত পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। চিঠিতে বিশেষ বিবেচনায় এফডিআর ও পে-অর্ডারের অর্থ নগদায়নের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনউদ্দীনের স্বাক্ষরিত চিঠি সূত্রে জানা গেছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাভুক্ত চারটি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় সমিতির মোট ১০টি এফডিআর ও পে-অর্ডারে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা জমা রয়েছে।

এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কদমতলী শাখায় তিনটি এফডিআরে ২ কোটি টাকা এবং বহদ্দারহাট শাখায় একটি এফডিআরে ৮০ লাখ টাকা রয়েছে। ইউনিয়ন ব্যাংকের আগ্রাবাদ ও খাতুনগঞ্জ শাখায় দুটি এফডিআরে আটকে আছে ৬০ লাখ টাকা। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মুরাদপুর, রাউজান ও কেরানীহাট শাখায় তিনটি এফডিআরে রয়েছে ৭০ লাখ টাকা। এ ছাড়া গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় একটি এফডিআরে জমা রয়েছে ৫০ লাখ টাকা।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে এসব আমানত নগদায়নের জন্য বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সমিতি। কিন্তু ১৮ মাসের বেশি সময় পার হলেও কোনো অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। গত সেপ্টেম্বর মাসে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছেও চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তাতেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।

সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সরকারি অনুদান, ভাড়া, সদস্যদের চাঁদা এবং স্থায়ী ও মেয়াদি আমানতের মুনাফার ওপর নির্ভর করে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সমিতির তহবিল থেকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল আইনজীবীদের সহায়তা ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা হয়।

কিন্তু তহবিলের বড় একটি অংশ ব্যাংকে আটকে থাকায় মৃত আইনজীবীদের পরিবারের সদস্যদের পাওনা এবং অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবীদের প্রাপ্য অর্থ যথাসময়ে পরিশোধ করা যাচ্ছে না। এতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো আর্থিক দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং ২৬ অক্টোবর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে সমিতি। চিঠিতে আইনজীবীদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ অবমুক্ত করে তাঁদের পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা গত ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে নানা তৎপরতা চালিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। আর এক মাস অপেক্ষা করব। এরপর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com