সৌদির আগুনে নিহত নওগাঁর বাকি ৫ প্রবাসীর মরদেহ ফিরবে শনিবার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরছে সৌদি আরবের রিয়াদে কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর আরও পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ। আগামীকাল শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। এর মধ্যে গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় ৯ জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। বাকি সাতজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতাও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সৌদি দূতাবাসের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী, দেশে ফিরতে যাওয়া নওগাঁর পাঁচজন হলেন—নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ এলাকার মজনু রহমানের ছেলে শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামাণিকের ছেলে মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানায়, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজন আত্রাই উপজেলার এবং একজন নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা।
তিনি আরও জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। এর আগে গত ২৭ আগস্ট আত্রাই উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছিল।
বাকি স্বজনদের মরদেহ দেশে ফেরার খবরে নিহতদের পরিবারে যেমন অপেক্ষার অবসান ঘটছে, তেমনি প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখার বেদনাও আরও গভীর হয়ে উঠেছে।