গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে: জামায়াতে আমির
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঢাকা থেকে খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের বহর বাগেরহাটের কাটাখালীতে পৌঁছেছে। পথসভায় বক্তব্য রাখছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির জননেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বহুল আলোচিত সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড়ে পথসভায় মিলিত হয়েছে। লংমার্চের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কাটাখালী ও আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়।
পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে জোটের নেতারা তাঁদের রাজনৈতিক দাবি ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরছেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায় উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
যুবসমাজের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, কারও ছলনায় কান দেওয়া যাবে না। আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বৃহত্তর ত্যাগের জন্য যুবসমাজকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও আঞ্চলিক স্বার্থের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। সমাজকাল
সাত দফা দাবিতে লংমার্চ
১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
· গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন।
· জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার।
· জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিচার।
· নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ।
· বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন।
· আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি।
· দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ।
বাগেরহাটে রাজনৈতিক গুরুত্ব
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড় খুলনা বিভাগের প্রবেশপথের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগস্থল। ঢাকা থেকে খুলনামুখী এই লংমার্চে কাটাখালী একটি গুরুত্বপূর্ণ পথসভাস্থল হিসেবে নির্ধারিত হয়।
পথসভায় বাগেরহাটের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সমাজকাল
সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও গোপালগঞ্জ অতিক্রম করে বহরটি বাগেরহাটের ফকিরহাটে পৌঁছায়। এরপর কাটাখালী থেকে খুলনা মহানগরী, ফুলতলা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চের কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। বিশেষ করে জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নে এই লংমার্চের বক্তব্য ও পরবর্তী কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরও পড়ুন
মানিকগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
জেল-জুলুম ও হয়রানির শিকার নেতারাই থাকবে ধামইরহাটের যুবদলের নেতৃত্বে: কেন্দ্রীয় নেতা জুয়েল
বগুড়া-কালাই মহাসড়কে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট অটোরিকশা: প্রাণ গেল দুজনের, পা বিচ্ছিন্ন হয়ে চিকিৎসাধীন চালক