পঞ্চগড়ে শিক্ষকদের মহামিলন, এআইনির্ভর শিক্ষার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
সঞ্জু বনিক সৌরভ | পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড় | ২১ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের প্রত্যয়ে পঞ্চগড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষকদের মিলন মেলা। এতে দেশের আটটি বিভাগের ৩১টি জেলার প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে উঠে আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পাঠদানকে আরও সহজ, সৃজনশীল ও কার্যকর করার নানা দিক।
বুধবার (২১ অক্টোবর) পঞ্চগড় প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) হলরুমে ফেসবুক গ্রুপ ‘শিক্ষকের কলাম’-এর উদ্যোগে এ মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল—‘শিক্ষকদের সৃজনশীল কর্ম গড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন ‘শিক্ষকের কলাম’ ফেসবুক গ্রুপের কর্ণধার ও নওগাঁর শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, পঞ্চগড় পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট মো. লুৎফল হায়দার আল মাসুম এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞ শামসুদ্দিন আহমেদ তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পেশাগত বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাদানের মান উন্নত করার লক্ষ্যেই এ মিলন মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের বিকল্প নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষকদের পাঠ প্রস্তুতি ও শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে পারে। তবে এআইয়ের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন থেকে এর ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘শিক্ষকের কলাম’ ফেসবুক গ্রুপে তিন শতাধিক সদস্য রয়েছেন। করোনাকালীন সময়ে এ গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরি করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখা হয়েছিল। বর্তমানে গ্রুপটি শিক্ষকদের মতামত প্রকাশ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘দেশের শিক্ষকদের জন্য এটি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষকরা দেশের শিক্ষা উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। আমি এই গ্রুপের সকল কার্যক্রমকে স্বাগত জানাই এবং এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।’
মিলন মেলার শুরুতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। পরে দিনব্যাপী আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে পিটিআই প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষকরা গান পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তিতে অংশ নেন।
শিক্ষকদের পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এ মিলন মেলা শেষ হয়।