টেকনাফে মাদকের চালান আত্মসাতের অভিযোগে পাহাড়ে নির্যাতন, দুইজন নিহত; আহত ২
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
উচমান গনি টেকনাফ কক্সবাজার (প্রতিনিধি):
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের চালান ছিনতাই ও আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চারজনকে ধরে নিয়ে পাহাড়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোক্তার কামাল (৪৮) ও আলী আকবর ওরফে আব্বুয়া (৩০) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসসংলগ্ন ভিলেজার পাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোক্তার কামালের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুপুর দেড়টার দিকে একই ইউনিয়নের লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি জঙ্গল থেকে আলী আকবরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোক্তার কামাল হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। আলী আকবর ওরফে আব্বুয়া একই এলাকার কালু ফকিরের ছেলে। আহত দুজন হলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে ইলিয়াস (৩৫) এবং মৃত আমির হোছনের ছেলে আলী আহমদ (৪০)।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পানখালী বন বিট অফিসসংলগ্ন ভিলেজার পাড়া এলাকায় কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় আহত ইলিয়াস ও আলী আহমদকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দুপুরে লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আহত ইলিয়াসের দাবি, আটজন মিলে মাদকের একটি চালান চেকপোস্ট পার করে হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তরের পথে ডাকাত দলের সদস্যরা সেটি ছিনিয়ে নেয়। চালানটিতে আনুমানিক ১০ কাট (এক লাখ পিস) ইয়াবা ছিল। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের ৭ কাট (৭০ হাজার পিস) উদ্ধার করা গেলেও বাকি ৩ কাট (৩০ হাজার পিস) ইয়াবার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার না হওয়া ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ থেকেই বিরোধের সূত্রপাত বলে দাবি করেন তিনি।
ইলিয়াস আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতলী এলাকার মিজান সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বিচারের কথা বলে তাঁদের চারজনকে হ্নীলার একটি গ্রুপের হাতে তুলে দেন। পরে ওই গ্রুপের সদস্যরা তাঁদের পাহাড়ে নিয়ে ব্যাপক মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেন। নির্যাতনকারীদের হাতে অস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ইলিয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে মোক্তার কামালের মৃত্যু হয়। পরে তিনি ও আলী আহমদ আহত অবস্থায় উদ্ধার হন। তাঁদের সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তির মরদেহ পরে উদ্ধার করা হয়।
মাদকের চালানটির মালিক হ্নীলার এক মাদক কারবারি বলেও দাবি করেছেন ইলিয়াস। তবে মাদক কারবার, চালান ছিনতাই, ৩০ হাজার পিস ইয়াবা আত্মসাৎ এবং চারজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ইয়াবা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়া চলছে।”
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকা থেকে একজনের এবং লেচুয়াপ্রাং পাহাড়ি জঙ্গল থেকে আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে মাদকের চালান আত্মসাৎ ও পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।