বিরামপুরে ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি বড় ভাই গ্রেফতার
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
রফিকুল ইসলাম সাবুল : রংপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুরে জমিতে ময়লা ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই মুকুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি বড় ভাই এ টি এম শামসুজ্জামানকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন উত্তম স্কুল অ্যান্ড কলেজ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী একটি বাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার এ টি এম শামসুজ্জামান দিনাজপুরের বিরামপুর থানার কৃষ্ণচাঁদপুর গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি পলিপ্রয়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
এসআরবি-১৩ সূত্রে জানা যায়, মুকুল হোসেনের সঙ্গে তার ভাইদের জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল। পলিপ্রয়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করতেন মুকুল। অভিযোগ রয়েছে, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিফিনের উচ্ছিষ্ট, ছেঁড়া কাগজ ও অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা মুকুলের ধানখেতে ফেলা হতো। এতে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর বিষয়টি জানাতে বিদ্যালয়ে যান মুকুল। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও তার মেজো ভাই এ টি এম শামসুজ্জামানের সঙ্গে মুকুল ও তার স্ত্রীর কথা-কাটাকাটি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনার জেরে শামসুজ্জামান তার বড় ভাই দেলোয়ার হোসেনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ক্ষিপ্ত করে তোলেন। একই দিন রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মুকুল ও তার স্ত্রীর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় মুকুলকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তার স্ত্রী মাহমুদাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মুকুলকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত মুকুলের স্ত্রী বাদী হয়ে গত ৬ অক্টোবর বিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এসআরবি-১৩।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১৩-এর সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্প ও সিপিএসসি, রংপুরের একটি যৌথ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি এ টি এম শামসুজ্জামানকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।