শিক্ষক সংকটে বিপর্যস্ত দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ, ১৩ শিক্ষার্থীর কেউই পাস করেনি
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
সঞ্জু বনিক সৌরভ | পঞ্চাগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চাগড় | ১ নভেম্বর ২০২৬
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে শিক্ষক সংকটের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার মান ও পরীক্ষার ফলাফলে। ২০২৬ সালের এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানটির ১৩ জন শিক্ষার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অন্যদিকে, অনুমোদিত ৪৬টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। শূন্য রয়েছে ২৯টি পদ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফল সামনে আসে।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে প্রথমবারের মতো ১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ জন ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স এবং একজন ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ট্রেডের শিক্ষার্থী।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, কলেজটিতে অধ্যক্ষসহ অনুমোদিত শিক্ষকের পদ রয়েছে ৪৬টি। এর বিপরীতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন শিক্ষক। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটিতে ২৯টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি চলতি বছরের মে মাসে এখানে যোগদান করেছি। যোগদানের এক মাস পরই পরীক্ষা শুরু হয়। ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে মূল সমস্যা ছিল শিক্ষক সংকট। আমাদের শিক্ষক পদ ৪৬টি থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন।’
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সোহেল সুলতান জুলকারনাইন কবির বলেন, ‘জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখছি। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং কীভাবে পরবর্তী সময়ে ফলাফল ভালো করা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একই বছর প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভোকেশনাল কোর্সের মাধ্যমে নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো এইচএসসি (ভোকেশনাল) পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়।