কালীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে তিন ভাইকে কুপিয়ে জখম, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আব্দুল মতিন খান
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিন ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আহতদের মধ্যে শরীফ ও রুহুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী গ্রামের মোঃ মোস্তফা পাঠানের পরিবারের সঙ্গে তাঁর আপন চাচা নাজিম উদ্দিন পাঠান এবং চাচাতো ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে মোস্তফা পাঠান ও তাঁর দুই ভাই বাড়ির পূর্ব পাশে আতাব উদ্দিনের বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাজিম উদ্দিন পাঠানের নির্দেশে নাজমুল ও সোহেলসহ অভিযুক্তরা দা, ছেন, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় নাজমুল পাঠান ধারালো ছেন দিয়ে মোস্তফা পাঠানের বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল কেটে গুরুতর জখম করেন। ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শরীফ পাঠানের ডান কাঁধ ও ডান গালে কোপ দেন সোহেল পাঠান। অন্যদিকে, নাজিম উদ্দিন পাঠান শরীফের বাম বাহুতে কোপ মেরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেন। একই সময় সোহেল পাঠান রুহুল পাঠানের বাম কাঁধে ও কাঁধের নিচে উপর্যুপরি কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করেন। এ ছাড়া অভিযুক্ত পরিবারের নারী সদস্যরাও লাঠিসোটা দিয়ে তাঁদের মারধর করেন এবং তাঁদের কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তিন ভাইকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে শরীফ ও রুহুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁদের সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের দাবি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শরীফের হাত ও কাঁধ এবং রুহুলের বাম কাঁধের হাড় ও রগ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ মোস্তফা পাঠান বাদী হয়ে তাঁর চাচা নাজিম উদ্দিন পাঠান, চাচাতো ভাই নাজমুল পাঠান ওরফে বাবলু, সোহেল পাঠান, নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী হাজেরা বেগম, বাবলুর স্ত্রী শান্তা বেগম এবং সোহেল পাঠানের স্ত্রী মুক্তি বেগমের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় ২৮(১০)২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে আসামীদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাদের বাড়ীতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্বব হয়নি।