মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও তৃণমূলের প্রতিভা অন্বেষণে ক্ষেতলালে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: আব্দুল কাদের
শিশু-কিশোরদের মাঠমুখী করা, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে ভবিষ্যৎ জাতীয় তারকা অন্বেষণের লক্ষ্য নিয়ে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নে সম্পন্ন হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ এর দল গঠনের বাছাইপর্ব ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত বড়তারা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে এই ক্রীড়া আসর অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফুটবল, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ইভেন্টে ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা শেষে কৃতিত্বপূর্ণ নৈপুণ্য প্রদর্শনকারী খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজনের সমাপনী দিনে বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রতিযোগিতার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বড়তারা ইউনিয়নের ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের সম্মাননা হিসেবে ট্রফি ও ক্রীড়াসামগ্রী (বল) উপহার দেওয়া। তৃণমূলের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কিশোর খেলোয়াড়রা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারা ভবিষ্যতে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখে। অতিথিরা তাদের এই স্বপ্নকে স্বাগত জানান এবং তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের মোবাইল আসক্তি, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে মাঠের খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য তৈরিতে নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা বড় ভূমিকা রাখে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সি সাংবাদিকদের জানান, এই বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উপজেলা পর্যায় হয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার সার্বিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ প্রতিভার অধিকারী ও সম্ভাবনাময় অ্যাথলেটদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
দেশব্যাপী তৃণমূল ক্রীড়াকে জাগিয়ে তুলতে জাতীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই আসর বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবারের আসরে সারা দেশ থেকে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার শিশু-কিশোর অংশ নিচ্ছে। ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাছাইকৃত তরুণদের দীর্ঘমেয়াদি সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বড়তারার এই সফল আয়োজন জাতীয় পর্যায়ে আগামীর ক্রীড়াবিদ তৈরির পথকে আরও সুগম করবে।