কোথাও ওয়ার্ড, কোথাও পুরো ইউনিয়ন—গঙ্গাচড়ায় লটারি নিয়ে বিতর্ক
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া,রংপুর প্রতিনিধি:
একই প্রকল্প, একই ধরনের নিয়োগ; অথচ লটারি আয়োজনে অনুসরণ করা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি। কোথাও ওয়ার্ডভিত্তিক, কোথাও পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের নিয়ে লটারি। আবার জনপ্রতিনিধিদের আপত্তিতে এক ইউনিয়নে লটারি স্থগিত হলেও অন্য ইউনিয়নে আপত্তি উপেক্ষা করে তা সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পের (আরআরএমপি) আওতায় নারী কর্মী নিয়োগের লটারি নিয়ে এভাবেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর গজঘণ্টা ইউনিয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এর চার দিন পর ১ নভেম্বর সকালে আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদে পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের একসঙ্গে নিয়ে লটারি আয়োজনের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। তবে এ পদ্ধতিতে আপত্তি জানান উপস্থিত ইউপি সদস্যরা। তাঁদের বাধার মুখে লটারি সম্পন্ন না করেই ফিরে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী মামুন মিয়া, কমিউনিটি অর্গানাইজার মো. ফিরোজ মামুন এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. পারভেজ মাহমুদ।
তবে একই দিনের চিত্র ছিল পাশের কোলকোন্দ ইউনিয়নে ভিন্ন। সেখানে ইউপি সদস্যদের আপত্তি সত্ত্বেও পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের নিয়ে লটারি সম্পন্ন করেন এলজিইডির কর্মকর্তারা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, একই প্রকল্পে একেক ইউনিয়নে একেক পদ্ধতি কেন? জনপ্রতিনিধিদের আপত্তির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও কি অনুসরণ করা হচ্ছে ভিন্ন নীতি?
আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, একই প্রকল্পের আওতায় কোথাও ওয়ার্ডভিত্তিক, আবার কোথাও পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের নিয়ে লটারি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে আবেদনকারীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। সব ইউনিয়নে একই নিয়ম অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে কর্মী নির্বাচন করা উচিত।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কবির লাল বলেন, তাঁদের ইউনিয়নে ইউপি সদস্যদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের নিয়ে লটারি করা হয়েছে। অথচ অন্য ইউনিয়নে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। একই প্রকল্পে ইউনিয়নভেদে আলাদা নিয়ম কেন—এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কর্মী নির্বাচনে সবার জন্য সমান নিয়ম ও সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জয়া সান্যালের বক্তব্যেও উঠে এসেছে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়টি। তিনি বলেন, ‘আলমবিদিতর ইউনিয়নে বাধার মুখে লটারি বন্ধ হয়নি, কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। আমাদের মনে হয়েছে, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দেওয়া দরকার। তাই স্থগিত করা হয়েছে। কোলকোন্দ ইউনিয়নে টিম কাজ করছে। আর গজঘণ্টা ইউনিয়নে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, চেয়ারম্যান ও মেম্বার সবার অনুরোধে নিয়োগকারী কর্মকর্তা ওয়ার্ডভিত্তিক লটারি দিয়েছিলেন।’
একই প্রকল্পে নারী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোথাও ওয়ার্ডভিত্তিক, কোথাও ইউনিয়নভিত্তিক লটারি—আবার কোথাও আপত্তিতে আয়োজন স্থগিত হওয়ার ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার অভিন্নতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। আবেদনকারীদের মধ্যে বৈষম্য এড়াতে সব ইউনিয়নে কোন নীতিমালায় এবং কী পদ্ধতিতে কর্মী নির্বাচন করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।