জাতীয় যুব পুরস্কারে দেশসেরা সফল আত্মকর্মী ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় নাটোরের রায়হান
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি:
জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৬-এ সফল আত্মকর্মী ক্যাটাগরিতে সারাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা ও সাংবাদিক মোঃ আব্দুল মোত্তালেব রায়হান। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এবারের জাতীয় যুব দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
রায়হান নাটোরের লালপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মো. মজিবর রহমান এবং মা মোছা. রওশনআরা বেগম। তিনি দৈনিক দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক এবং সাপ্তাহিক লালপুর বার্তার সম্পাদক।
জানা যায়, ২০১৪ সালে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর মাত্র ছয়টি গরু নিয়ে খামার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উদ্যোক্তা জীবনের সূচনা করেন রায়হান। ধীরে ধীরে তার উদ্যোগের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে কৃষি, মৎস্য, তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, ব্যাংকিং ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে।
স্থানীয় মাছচাষিদের উৎপাদিত মাছ বাজারজাতকরণের সমস্যা সমাধানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সোনার বাংলা মৎস্য আড়ত’। পাশাপাশি অর্গানিক পদ্ধতিতে ফল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ‘আশার আলো জৈব সার কারখানা’র মাধ্যমে ট্রাইকো কম্পোস্ট ও ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন। তাঁর এ কারখানায় কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৩০ জন।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন তিনি। ‘লিড টপার’ ও ‘হলিটেক আইটি’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রায় ৩০০ তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আয়ের সুযোগ তৈরি করেছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান দুটিতে প্রায় ৫০ জন কর্মরত রয়েছেন এবং আরও ১০০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
কৃষকদের সেচসংকট নিরসনে ২৪টি গভীর নলকূপ স্থাপনে সহযোগিতা করেছেন রায়হান। স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ডক্টরস পয়েন্ট অ্যান্ড ডায়াবেটিক সেন্টার’। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের গোপালপুর ও আব্দুলপুরে দুটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ১৪ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। পরিবহন ও কুরিয়ার সেবার মাধ্যমেও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন তিনি।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রায়হান। ‘গ্রীন লালপুর’ প্রকল্পের সমন্বয়ক এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) লালপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রতিবছর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করেন। করোনা মহামারির সময় অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসহায়তা ও মাস্ক বিতরণেও ভূমিকা রাখেন।
এ ছাড়া আর্থিক সংকটে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে ‘আলোর দরজা শিশু বিদ্যা নিকেতন’ পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। সাংবাদিকতার মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম ও জনদুর্ভোগ তুলে ধরে সমাধানে ভূমিকা রাখছেন।
রায়হানের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তার এ উদ্যোগগুলো স্থানীয় অর্থনীতি, তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
জাতীয় পর্যায়ে এমন সাফল্য অর্জনে লালপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, রায়হানের এ অর্জন লালপুরসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তরুণদের উদ্যোক্তা হতে, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করতে এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।