পঞ্চগড়ে ওএমএস ডিলারের বিরুদ্ধে চাল-আটা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
সঞ্জু বনিক সৌরভ | পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
পঞ্চগড় | ৩ নভেম্বর ২০২৬
পঞ্চগড় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ডিলার একরামুল হক মুন্নার বিরুদ্ধে চাল ও আটা বিতরণে নানা অনিয়ম, সিন্ডিকেট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন এবং সাধারণ ভোক্তাদের সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় ভোক্তা ও এলাকাবাসী।
গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সরকারের ওএমএস কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নিম্নআয়ের ও সাধারণ মানুষের কাছে নির্ধারিত মূল্যে চাল ও আটা সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু পঞ্চগড় পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার একরামুল হক মুন্নার বিরুদ্ধে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চাল ও আটা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ডিলার একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে নির্ধারিত নিয়ম ও লাইনের বাইরে তাঁর পছন্দের ব্যক্তিদের প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণে চাল ও আটা বিতরণ করছেন। এমনকি একই ব্যক্তিকে দিনে দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত চাল ও আটা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রকৃত ভোক্তাদের চাল ও আটা না দিয়ে অনেক সময় বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিক্রির জন্য দোকানের ভেতরে চাল ও আটা মজুত রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষ তাঁদের প্রাপ্য সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পণ্য না পেয়ে অনেককে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পরিদর্শক পয়েন্টে উপস্থিত থাকলেও কিছুক্ষণ অবস্থানের পর চাল ও আটা সম্পূর্ণ বিতরণ শেষ হওয়ার আগেই স্থান ত্যাগ করেন। ফলে বিতরণ কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি হয় না এবং ডিলার অনিয়ম করার সুযোগ পান। এমনকি পরিদর্শক উপস্থিত থাকার সময়ও তাঁর সামনেই ডিলার অনিয়ম করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা তাঁদের আবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ওএমএস ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সমর্থনে ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র থাকার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা নোটিশে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য ও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের জন্য ৩ নভেম্বর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্ধারিত সময়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে চাল ও আটা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও লিখিত তথ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কিংবা অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। পরবর্তী সময়ে তদন্ত ও শুনানির সিদ্ধান্তের অগ্রগতি জানা গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ করা হবে।
আরও পড়ুন
মহাদেবপুরে সড়কে ভাঙারি ব্যবসায়ীর ৯ লাখ টাকা ছিনতাই, আহত-২
শিবগঞ্জ ভূমি অফিসে ভুয়া রায় দিয়ে রেকর্ড সংশোধনের চেষ্টা: বাদীর ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
গাজীপুরে মদের কারবারি ধরতে গিয়ে পুলিশের পিস্তল খোয়া যায়, উদ্ধারে ৫০ হাজার পুরস্কার ঘোষণা