জাবির সিএলসি ইনস্টিটিউটে পরিচালক নিয়োগ নিয়ে বিএনপি-আওয়ামীপন্থি দুই শিক্ষকের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, হুমকির অভিযোগ

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০১ এএম

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) নতুন পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামীপন্থি দুই শিক্ষকের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। 

নতুন পরিচালক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে দায়িত্ব না নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিএলসি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীমের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, তাঁকে উপেক্ষা করে এক অনভিজ্ঞ শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন অধ্যাপক কামরুল। তবে বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় তোলার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর তাঁকে ফোন করে দায়িত্ব গ্রহণ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অধ্যাপক মানছুর।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা কমিটির সভায় থাকা অবস্থায় ইনস্টিটিউটের একজন শিক্ষক তাঁকে ফোন করে দায়িত্ব নিতে নিষেধ করেন এবং গেলে খারাপ পরিণতির হুমকি দেন। বিষয়টি উপাচার্যকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কোনো পদের জন্য তদবির করেননি বলেও দাবি করেন এই অধ্যাপক।

অন্যদিকে নিয়োগের প্রতিবাদে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের কাছে আপত্তি জানান অধ্যাপক হামীম।

তিনি বলেন, পরিচালক নিয়োগের আগে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী কি না, তা তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়নি। অথচ এখন বলা হচ্ছে, তিনি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর দাবি, লেখালেখি, অনুবাদ ও গবেষণায় তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং প্রায় ২০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। ইনস্টিটিউটের স্বার্থেই তিনি নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তবে অধ্যাপক হামীমের বিরুদ্ধে নতুন পরিচালককে হুমকি এবং নিজের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, অধ্যাপক হামীম শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে একধরনের চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন এবং হাউকাউ করেছেন। সেখানে টেবিল চাপড়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে তিনি হাউকাউ করতে করতে চলে যান।

উপ-উপাচার্য আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই একজন শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ গুরুতর। বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, তবে এখনো কোনো রেকর্ড শোনেননি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম পূর্বে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ এখনো সক্রিয় থেকে প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে বাধা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করছে সংশ্লিষ্টরা। 

অন্যদিকে অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুর বিএনপিপন্থী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং জাবি শাখা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে অধ্যাপক মানছুর এর আগেও দুটি ঘটনায় বিতর্কে জড়িয়ে গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন। ২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর সাদ্দাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি ২০২৩ সালের ২২ এপ্রিল এক ছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ হিসেবে প্রকাশ্যে আসে। 

এ ছাড়া ২০২১ সালের ১১ জুন দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান থাকাকালে অনলাইনে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ছয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে নিয়মবহির্ভূত দাবি করে ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন বিভাগের আট শিক্ষক।

 

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com