মঠবাড়িয়ার ভুল চিকিৎসা গৃহবধূর মৃত্যু: ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
সালমান আহসান বাবু, মঠবাড়িয়া :
জরায়ু টিউমারের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে পাথরঘাটার কাকচিড়া সার্জিকেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রেনু বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকের শতভাগ আশ্বাসের ভিত্তিতে ক্লিনিকে ভর্তি হলেও অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার বলি হয়ে তাকে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে এমন দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
নিহত রেনু বেগম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর হলতা গ্রামের দুলাল মিয়ার স্ত্রী। আজ সোমবার (২ নভেম্বর) স্বজনরা গণমাধ্যমের কাছে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর রেনু বেগম বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা বাজারে ডা. আমির হামজার চেম্বারে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই চিকিৎসক তাকে পাথরঘাটার কাকচিড়া সার্জিকেয়ার ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এবং নিজেই সফল অপারেশন করার বিষয়ে পরিবারকে শতভাগ নিশ্চয়তা দেন।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গত ১১ অক্টোবর ওই ক্লিনিকে ভর্তি হন রেনু বেগম। ভর্তির পর প্রাথমিক পরীক্ষায় উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়লেও, দুই দিন পর তার জরায়ু টিউমারের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। তবে গত ১৯ অক্টোবর হঠাৎ রোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি করে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ অক্টোবর রেনু বেগম মারা যান।
পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে এবং স্বজনদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপর হয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে নানা ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং দাফন-কাফন ও মিলাদের খরচ বাবদ কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এমনকি মামলা করলে লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কাকচিড়া সার্জিকেয়ার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সমস্ত দায় অস্বীকার করার চেষ্টা করে। তাদের দাবি, রেনু বেগম অপারেশন শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে শেবাচিম হাসপাতালে তিনি কীভাবে মারা গেছেন, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।
তবে গণমাধ্যমের হাতে থাকা দাপ্তরিক প্রমাণ বলছে ভিন্ন কথা। ওই ক্লিনিক থেকেই সরাসরি তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল।
এদিকে অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. আমির হামজা সম্পূর্ণ দায় চাপিয়েছেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ওপর। তার ভাষ্যমতে, তিনি সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করেছেন। অপারেশনের পরের চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যার দায়িত্ব ছিল ক্লিনিকের আবাসিক সার্জনদের। তবে মাঝেমধ্যে ওই ক্লিনিকের চিকিৎসকরা তার সঙ্গে ফোনে পরামর্শ করতেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও প্রস্তুতি ছাড়া এমন ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার এবং পরবর্তী অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন
বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত
সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলা নারী ও শিশু বলাৎকার সহ আটক ২২, ইয়াবা উদ্ধার
জীবন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েলসহ গ্রেপ্তার ৩