মাদারীপুরে ১৩জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১জন-ই ফেল!
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
নাজমুল হাসান, মাদারীপুর:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘টিকটক কলেজ’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মাদারীপুর সদর উপজেলার মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নতুন করে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র দুজন। অর্থাৎ, ফেলের হার প্রায় ৮৫ শতাংশ। এমন বিপর্যয়কর ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান ব্যবস্থা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং গুণগত শিক্ষা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে তিনটি বিভাগ নিয়ে কলেজ শাখাটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে চালুর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল কখনোই সন্তোষজনক ছিল না। আগের দুই বছরের ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং চলতি বছরের এই নজিরবিহীন ফলাফল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, তীব্র শিক্ষকসংকট এবং আর্থিক অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির পুরো একাডেমিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁরা পরীক্ষার জন্য ন্যূনতম প্রস্তুতি নেওয়ারও সুযোগ পাননি।
কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের ঠিকমতো আইসিটি ক্লাস পর্যন্ত হয়নি। ক্লাসের জন্য আমাদেরই প্রতিনিধি পাঠিয়ে শিক্ষকদের ডাকতে হতো। কিন্তু শিক্ষকরা একে অন্যের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিতেন। প্রধান শিক্ষককে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। এছাড়া শুরুতে বিনা মূল্যে ভর্তির ঘোষণা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আমাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজে নিয়মিত পাঠদান তো দূরের কথা, শিক্ষকদের চরম উদাসীনতা ও শিক্ষকসংকটের কারণে বছরের পর বছর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ ও স্থানীয় প্রভাবের অভিযোগ
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, এই শোচনীয় ফলাফলের পেছনে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনাকেও দুষছেন শিক্ষকরা। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষকদের সময়মতো বেতন দেওয়া হয় না এবং ক্লাস বন্টনে চরম বিশৃঙ্খলা রয়েছে। শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার তোয়াক্কা না করেই ক্লাস দেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ‘হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষককে দিয়ে ইংরেজি ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে অধ্যক্ষ মহোদয় স্থানীয় প্রভাবের কথা তুলে আমাদের মুখ বন্ধ করে দেন। ভয়ে অনেকে কোনো কথা বলতে সাহস পান না।’
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। নেটিজেনরা ব্যঙ্গ করে কলেজটিকে ‘টিকটক কলেজ’ বলে অভিহিত করছেন এবং এর নেপথ্যের কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহলও।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং আমরা এ সম্পর্কে অবগত আছি। মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। ঠিক কী কারণে এমন বিপর্যয়কর ফলাফল হলো, তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আরও পড়ুন
পঞ্চগড়ে ওএমএস ডিলারের বিরুদ্ধে চাল-আটা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
শিবগঞ্জ ভূমি অফিসে ভুয়া রায় দিয়ে রেকর্ড সংশোধনের চেষ্টা: বাদীর ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড
গাজীপুরে মদের কারবারি ধরতে গিয়ে পুলিশের পিস্তল খোয়া যায়, উদ্ধারে ৫০ হাজার পুরস্কার ঘোষণা