ইট উৎপাদন বন্ধ, নির্মাণসামগ্রী সংকটে ভোগান্তিতে বান্দরবানবাসী
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
আরাফাত খাঁন, বান্দরবান।
পাহাড়, বন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জেলা বান্দরবানে নির্মাণসামগ্রীর সংকট, বাড়তি ব্যয় ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলায় ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি না থাকায় নির্মাণকাজে বাইরের জেলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়ছে নির্মাণব্যয়, অন্যদিকে স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক, মাঝেরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ের মাটি ও গাছ সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও কেরানীহাটের বিভিন্ন ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ এসব এলাকার উৎপাদিত ইটই আবার বেশি দামে কিনে বান্দরবানে আনতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে পাহাড় ও পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কার পাশাপাশি বাড়তি খরচের চাপও তৈরি হচ্ছে।
বান্দরবান সদর, রুমা, থানচি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মাণে ইটের প্রয়োজন হয়। কিন্তু স্থানীয় উৎপাদনব্যবস্থা না থাকায় পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষকে বেশি দামে ইট কিনতে হচ্ছে।
লামা উপজেলার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, “নিজের বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে বাইরে থেকে ইট আনতে হয়। ইটের দাম, গাড়িভাড়া ও শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে নির্মাণব্যয় অনেক বেড়ে যায়। বান্দরবানে যদি পরিবেশের ক্ষতি না করে নিয়ম মেনে ইট উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।”
শ্রমিক বজলুল রশিদ বলেন, “কাজের সুযোগ থাকলে এলাকার মানুষকে বাইরে গিয়ে কাজ করতে হতো না। ইটভাটা চালু হলে শ্রমিক, গাড়িচালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো কাজ আমরা চাই না।”
রুমা উপজেলার বাসিন্দা মংক্যাচিং মারমা বলেন, “আমাদের এলাকায় উন্নয়নকাজের পাশাপাশি মানুষের ঘরবাড়ি নির্মাণেও ইটের প্রয়োজন হয়। দূর থেকে ইট আনতে গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়। পরিবেশ রক্ষা করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ব্যবস্থা করা গেলে পাহাড়ি এলাকার মানুষের জন্য ভালো হতো।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী নোমান বলেন, “বান্দরবানে নির্মাণকাজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু ইটের জন্য বাইরের জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সরবরাহ ও দামের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইটভাটা চালু হলে শ্রমিক, পরিবহনশ্রমিক, গাড়িচালক ও ব্যবসায়ীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পাহাড় ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই এ ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে।
এ জন্য জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরিবেশগত ঝুঁকি যাচাই করে উপযুক্ত স্থানে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর ইট উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রেখে বান্দরবানে নির্মাণসামগ্রীর সহজলভ্যতা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা হবে। পাহাড়-প্রকৃতি রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের উন্নয়ন ও জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।