দেবীগঞ্জে দ্বৈত দায়িত্বে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ব্যাহত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তদারকি!
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
মোঃ আশরাফুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে দ্বৈত দায়িত্ব পালনের কারণে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত তদারকি ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিদর্শন না করেও ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতা (টিএ-ডিএ) উত্তোলন করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক নিজের দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত তদারকি হচ্ছে না। এতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে লক্ষীরহাট স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের পরিদর্শন খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে আবু বক্কর সিদ্দিক সর্বশেষ পরিদর্শন করেছেন ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে। অন্যান্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শন খাতাতেও নিয়মিত পরিদর্শনের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন না হয়ে থাকলে ওই সময়ের টিএ-ডিএ বিল কীভাবে প্রস্তুত ও অনুমোদন করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের পরিদর্শন সূচি, ভিজিট রেজিস্টার, ভ্রমণ বিবরণী, বিল ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আবু বক্কর সিদ্দিককে প্রায়ই দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত টেবিল-চেয়ারে বসে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। অন্যদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত খোঁজখবর ও তদারকির ঘাটতি রয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
এ বিষয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “প্রায় চার মাস ধরে দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সব সময় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও আমি কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একজন কর্মকর্তাকে একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হলে কাজের চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এর প্রভাব যেন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি টিএ-ডিএ বিলসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।