বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ: বড় ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা;

নেত্রকোনার বারহাট্টায় পৈতৃক বাড়ির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই সাইকুল ইসলাম (৩৫) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও মেয়েও আহত হয়েছেন। তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইকুল ইসলামের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে তার পরিবার। এর আগে রোববার বিকেলে বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে পৈতৃক বাড়ির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সাইকুল ইসলাম চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। অভিযুক্ত তাঁর আপন বড় ভাই সাইদুর রহমান।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বাড়ির সীমানা নিয়ে ঢাকায় বসবাসকারী বড় ভাই সাইদুল মিয়ার (৪৫) সঙ্গে ছোট ভাই সাইকুল ইসলামের বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে সাইকুল মিয়া বাধা দিলে সাইদুর রহমান তার স্ত্রী ও ছেলে সিয়ামকে নিয়ে সাইকুলের ওপর হামলা চালান। এ সময় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে সাইকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার মেয়ে সূচনার হাতেও আঘাত লাগে এবং হাত ভেঙে যায় বলে পরিবারের দাবি। এছাড়া সাইকুলের স্ত্রীর মাথায়ও আঘাত করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় ভাইয়ের মধ্যে সাইকুল একাই গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। অন্য ভাইদের মধ্যে তিনজন ঢাকায়, একজন প্রবাসে এবং অপরজন বারহাট্টা শহরে থাকেন। কয়েক দিন আগে সাইদুর রহমান স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন এবং বাড়ির সীমানা নির্ধারণ ও দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে ছোট ভাই সাইকুলের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে সাইদুর, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে মিলে লাঠিসোঁটা নিয়ে সাইকুলের ওপর হামলা চালান। এ সময় সাইকুলের মাথায় একাধিক আঘাত লাগে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত সাইকুল মিয়াকে উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সাইদুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সেকুল মিয়া বলেন, চিৎকার শুনে সুহেলসহ কয়েকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, সাইকুল মিয়া মাটিতে পড়ে আছেন। তার ভাই সাইদুল, তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমরা সাইকুলকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। কিছুক্ষণ পর তাদের আর সেখানে পাওয়া যায়নি। তারা চলে গেছেন। আমরা গ্রামবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এ ঘটনায় নিহত সাইকুল মিয়ার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিম তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বাড়ির সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। সামান্য সীমানার বিরোধে একটি প্রাণ চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, মমেক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সাইকুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাইদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন, তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com