মহাদেবপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্তে সত্যতা
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ এএম
মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মহাদেবপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ।
অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। অভিভাবকদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে ওই শিক্ষক ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক আচরণ করে আসছিলেন। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষককে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী নয়, অন্য শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের ঘটনার কথা জানিয়েছে। একপর্যায়ে প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন ইউএনও মানজুরা মুশাররফ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা হৈচৈ করলে তাদের থামানোর জন্য তিনি গায়ে হাত দিতেন। এ নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল আবেদীন বর্ষণ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে শিক্ষক সংকটের কারণে তাঁকে আবারও ক্লাস নিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পবিত্র কুমার বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আপস হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত একটি আপসনামা জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ বলেন, সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধ আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য নয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের যথাযথ বিচার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবকেরা।