রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন শহর থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ফিরেছেন কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক। তবে এই উদ্যোগ বৃহত্তর যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইউক্রেনের অধিকৃত ওলেশকি থেকে বেসামরিক নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন: ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতিতে মানবিক অগ্রগতি

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি সঞ্জয় মজুমদার | ০২ নভেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকি থেকে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ফিরে এসেছেন। ৩১ অক্টোবর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, খেরসন অঞ্চলের চেরনিহিভ এলাকায় ফিরে আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর এটিকে অন্যতম দীর্ঘ স্থানীয় যুদ্ধবিরতি হিসেবে উল্লেখ করেছে Reuters।

Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওলেশকি থেকে বেরিয়ে আসা বাসিন্দাদের দীর্ঘ ও জটিল পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। তাঁরা প্রথমে বাসে করে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়া হয়ে রাশিয়ার আনাপা শহরে যান। সেখান থেকে বিমানে বেলারুশের হোমেল পৌঁছানোর পর বাসে করে ইউক্রেনে প্রবেশ করেন। প্রত্যাবর্তনকারীদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুও রয়েছেন। ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎস জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য সীমান্ত এলাকায় চিকিৎসা, খাবার ও অন্যান্য জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কতজন নাগরিক ফিরে এসেছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

ওলেশকিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ২৭ অক্টোবর থেকে স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা ছিল। পোপ চতুর্দশ লিও-ও মানবিক সহায়তা ও বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সড়ক থেকে মাইন অপসারণের কাজ করা হয়। এরপর শহরে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

খেরসন অঞ্চলের দিনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ওলেশকি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধের আগে শহরটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ হাজার। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ও দীর্ঘদিনের সংকটের কারণে শহরটির জনসংখ্যা কমে আনুমানিক ১ হাজার ৭০০-তে নেমে এসেছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট সেখানে দীর্ঘদিনের সমস্যা। যুদ্ধের কারণে যোগাযোগ ও স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।

তবে এই অভিযানের মাধ্যমে শহরের সব বাসিন্দা নিরাপদে ফিরে এসেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ফিরেছেন, কেউ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আবার কেউ ওলেশকিতেই থেকে গেছেন। ফলে এই উদ্যোগকে শহরের সামগ্রিক মানবিক সংকটের সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ওলেশকির যুদ্ধবিরতি একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানবিক কার্যক্রমের জন্য নেওয়া সাময়িক ব্যবস্থা। এটি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সামগ্রিক যুদ্ধবিরতি নয়। Reuters জানিয়েছে, ওলেশকিতে সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ থাকলেও যুদ্ধের অন্যান্য এলাকায় হামলা ও সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। তাই এই ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক বা সামরিক সমঝোতার সূচনা হিসেবে বিবেচনা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই।

 

বাংলাদেশের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি ভৌগোলিক সম্পর্ক না থাকলেও এর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি, খাদ্যশস্য, সার, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের এসব পরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি ওলেশকির ঘটনা যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

সামনে ওলেশকির স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি কেমন থাকে, আরও বেসামরিক নাগরিক বেরিয়ে আসতে পারেন কি না এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকে কি না, সেদিকে নজর থাকবে। একই সঙ্গে নভেম্বরের প্রথমার্ধে আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তবে ওলেশকির মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে ওই আলোচনার সরাসরি সম্পর্ক বা কোনো সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com