পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে ৫২৯ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, নতুন মজুরি বোর্ডেও কাটেনি অস্থিরতা

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩১ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি, সঞ্জয় মজুমদার

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন ১ নভেম্বর আরও বিস্তৃত হয়েছে। ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের অসন্তোষের মধ্যে সরকার ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২ নভেম্বর রাত ১টা ৪৬ মিনিটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ নভেম্বর শ্রম অসন্তোষের কারণে দেশের ৫২৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। বিজিএমইএর তথ্য অনুসারে, ওই দিন প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে যান। এর আগে ১ নভেম্বর বেলা ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিজিএমইএর হিসাবে ৩১৮টি কারখানা বন্ধ এবং ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিকের কর্মস্থল ছাড়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। দিনের শেষভাগে পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ কারখানা ও কর্মস্থল ত্যাগকারী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে যায়।

শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে, আন্দোলনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। তবে এ অভিযোগের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আন্দোলনসংক্রান্ত ঘটনায় আটকের সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ১৯ জন আটকের তথ্য প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, bdnews24.com-এর প্রতিবেদনে ২৮ জন আটকের কথা বলা হয়েছে। ফলে আটকের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নতুন মজুরি বোর্ড গঠন শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনার একটি প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি করেছে। তবে শ্রমিকদের প্রত্যাশা, মালিকপক্ষের সক্ষমতা এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় না হলে অস্থিরতা কাটানো কঠিন হতে পারে। পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে কার্যকর আলোচনা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com