চার দিন গ্যাসের স্বল্পচাপ, ভোগান্তিতে চট্টগ্রামের দেড় লাখ গ্রাহক

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ এএম

চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান:

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) থেকে টানা চার দিন গ্যাসের স্বল্পচাপে ভুগতে পারেন চট্টগ্রামের প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক। এ সময়ে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা ও নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনসংকটে পড়তে পারে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত মহেশখালীতে অবস্থিত সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে পুনঃগ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (আরএলএনজি) সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাবে এবং এর প্রভাব পড়বে কেজিডিসিএলের আওতাধীন সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর।

সোমবার (২ নভেম্বর) কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানটির অধিভুক্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের সম্মুখীন হবেন। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

কেজিডিসিএলের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে তাদের মোট গ্রাহক ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৭৪ জন। এর মধ্যে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রাহক ২০৪টি এবং শিল্পগ্রাহক ৯৬২টি। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, সার, বাণিজ্যিক ও আবাসিক খাতের গ্রাহকেরাও এ সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

গ্যাসের চাপ কমে গেলে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্নায় ভোগান্তির পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ক্যাপটিভ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে শিল্পোৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ চাহিদা পূরণে স্থানীয় উৎসের পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পেট্রোবাংলার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে এ দুটি টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৯২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামিটের টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজ চলাকালে এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে যাবে।

জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় এলএনজি টার্মিনালগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি করা এলএনজি এসব টার্মিনালে প্রক্রিয়াজাত করে গ্যাসে রূপান্তরের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। ফলে কোনো একটি টার্মিনালের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলে বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ সমন্বয় করা না গেলে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রক্ষণাবেক্ষণকালীন সময়ে গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমন্বয় জরুরি। এতে আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে সম্ভাব্য ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হতে পারে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর শনিবার বিকেল ৪টার পর সামিটের টার্মিনাল থেকে আরএলএনজি সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com