কিউএস এশিয়া র্যাঙ্কিং: ৫০ ধাপ এগিয়ে ৮০১-৮৫০ এর ঘরে নোবিপ্রবি
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
মোহ জাহিদ হাসান, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কোয়াকোয়ারেলি সাইমন্ডস বা কিউএস (QS) প্রকাশিত ‘এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং ২০২৭’-এ দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এই বৈশ্বিক তালিকায় আগের চেয়ে ৫০ ধাপ উন্নতি করে ৮০১-৮৫০তম ব্র্যাকেটে জায়গা করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগের বছর তাদের অবস্থান ছিল ৮৫১-৯০০তম ব্যান্ডের মধ্যে।
এবারের সংস্করণে এশিয়ার ২৬টি দেশের ১ হাজার ৭২০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৫২টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক মূল্যায়নে যৌথভাবে ২৬তম অবস্থানে রয়েছে নোবিপ্রবি। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ২৪৭তম এবং দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পঞ্চম। বরাবরের মতো এবারও দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কিউএসের বিভিন্ন পারফরম্যান্স সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মূলত গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতের অগ্রগতিই নোবিপ্রবিকে এগিয়ে নিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। সূচকগুলোর মধ্যে ‘প্রতি গবেষণাপত্র উদ্ধৃতি’ (Citations per Paper) ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৮৪.৫ নম্বর (১০০-এর মধ্যে) অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি, যা এশীয় অঞ্চলে ১৭৫তম। এ ছাড়া ‘আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক’ ক্যাটাগরিতে ৭৩.২ নম্বর পেয়ে এশিয়ায় ৩৭৬তম স্থান ঘরে তুলেছে নোবিপ্রবি।
তবে অন্যান্য সূচক যেমন— শিক্ষকপ্রতি গবেষণাপত্র (২৪.৮), পিএইচডিধারী শিক্ষক (১২.৭), শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত (১০.৫), একাডেমিক সুনাম (৮.৩), নিয়োগকর্তাদের মূল্যায়ন (৪.৬), বিদেশে শিক্ষার্থী বিনিময় (৩.৮), আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী (১.২), আন্তর্জাতিক শিক্ষক (১.০) এবং বিদেশি শিক্ষার্থী বিনিময়ের (১.০) খাতে আরও নজর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে র্যাংকিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের অতিরিক্ত পরিচালক ও ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাহাদ হোসেন বলেন, “আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের প্রতিযোগিতায় স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে হলে আমাদের যুগোপযোগী ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে র্যাঙ্কিং সেলকে আরও গতিশীল করে একাডেমিক সুনাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বাড়ানোর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আকর্ষণ করতে হবে। এই ৫০ ধাপের অগ্রগতি আমাদের জন্য দারুণ এক অনুপ্রেরণা।”
নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “বৈশ্বিক এই সাফল্য পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের সম্মিলিত শ্রম ও সাধনার ফসল। শিক্ষার মান উন্নত করা এবং বিশ্বমানের গবেষণাধর্মী পরিবেশ তৈরিতে আমরা সবসময় বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতের র্যাঙ্কিংয়ে আরও উঁচুতে পৌঁছাতে এই অর্জন আমাদের দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।”