চট্টগ্রামে ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী আফলাটক্সিন শনাক্ত

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসান:

সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) ভারত থেকে আমদানি করা চালের একটি চালানে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন বিষাক্ত উপাদান আফলাটক্সিনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে (সিএসডি) সংরক্ষিত ১৩৫ টন চালে পরীক্ষার মাধ্যমে এ উপাদান পাওয়া গেছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় চালগুলো খাওয়ার উপযোগী ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী পরীক্ষায় ক্ষতিকর উপাদানটির উপস্থিতি ধরা পড়ে। ঘটনায় চালের মান যাচাই ও প্রাথমিক পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অধিকতর পরীক্ষার জন্য চালের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ নামের একটি জাহাজে করে ভারত থেকে চালের চালানটি দেশে আসে। গত ২১ জুলাই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পরদিন খাদ্য অধিদপ্তরের পাঁচ সদস্যের একটি দল নমুনা সংগ্রহ করে। প্রাথমিক পরীক্ষায় চালগুলো মানসম্মত ও খাওয়ার উপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর ২৪ ও ২৫ জুলাই চালগুলো খালাস করা হয়।

পরে চালের একটি অংশ ঢাকার তেজগাঁও, চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়। তবে গুদামে পৌঁছানোর পর চালের চেহারা ও মান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চালগুলো মানুষের খাওয়ার অনুপযোগী বলে আশঙ্কা করে পরিবহন ঠিকাদাররাও সেগুলোর আনা-নেওয়া বন্ধ রাখেন। বিষয়টি লিখিতভাবে খাদ্যসচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় চালের মান পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে গত ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তির নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামে আসে। দলটি হালিশহর ও দেওয়ানহাট খাদ্যগুদামের বিভিন্ন স্তূপ থেকে নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করে। পরবর্তী পরীক্ষায় হালিশহর সিএসডির ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খানের নির্দেশনায় এর আগে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টন চালের বিতরণ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে মান যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ ও দেওয়ানহাট সিএসডির ব্যবস্থাপক হামিম রহমান জানান, ১৩৫ টন চালের নমুনায় ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার পর বাকি চাল যথাযথ নিয়ম মেনে বিতরণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ শাখার নিয়ন্ত্রক রেজোয়ান সাকিব জানান, পুরো ঘটনা তদন্ত ও অধিকতর যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফলাটক্সিন একধরনের বিষাক্ত পদার্থ, যা ‘অ্যাসপারজিলাস’ গোত্রের ছত্রাক থেকে তৈরি হয়। অনুকূল পরিবেশে খাদ্যশস্যে এ ছত্রাক জন্মাতে পারে। আফলাটক্সিনযুক্ত খাবার দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে যকৃতের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আলী জানান, আফলাটক্সিনযুক্ত খাবার নিয়মিত বা দীর্ঘদিন খাওয়ার ফলে যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাবে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

আমদানি করা চালের প্রাথমিক পরীক্ষায় কীভাবে ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত হয়নি, তা খতিয়ে দেখা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দূষিত চালের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা, সরবরাহব্যবস্থার জবাবদিহি এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com