ট্রাম্পের ক্ষমতায় ধাক্কা: বদলে যাচ্ছে কি বিশ্বরাজনীতির সমীকরণ?

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বরাবরই প্রভাবশালী। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন শুধু ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অর্থনীতি, কূটনীতি, সামরিক জোট এবং বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন (মিডটার্ম ইলেকশন) কেবল একটি নির্বাচনী আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব, জনপ্রিয়তা এবং শাসনব্যবস্থার প্রতি জনগণের সমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা।

সাম্প্রতিক মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের ধাক্কা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিয়ন্ত্রণ হারানোর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব যেমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তেমনি তাঁর অনুসৃত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক কৌশল কি শেষ পর্যন্ত মার্কিন জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে?

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চার বছর পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের মেয়াদের দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে এ নির্বাচনে ভোট হয়। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট সরাসরি প্রার্থী না হলেও তাঁর শাসন, নীতি ও রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ভোটের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখে। সে কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে অনেক সময় প্রেসিডেন্টের শাসনামলের মধ্যবর্তী মূল্যায়ন বা জনরায়ের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল প্রায়ই আসন হারায়। এর পেছনে কাজ করে নির্বাচনের সময় নাগরিকদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির আশ্বাস কিংবা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রত্যাশা—দুই বছরের মাথায় সেগুলোর বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান ভোটাররা। কিন্তু দ্রব্যমূল্য, আবাসন ব্যয়, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ যখন সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তোলে, তখন রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে শুরু করে।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনামলে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক আরোপ, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক নীতিতে আক্রমণাত্মক অবস্থান মার্কিন রাজনীতিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য, ভেনেজুয়েলা প্রশ্নে অবস্থান এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি করেছে।

তবে সাধারণ মার্কিন ভোটারের কাছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে নিজের সংসারের হিসাব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, জ্বালানি ব্যয়, সন্তানদের উচ্চশিক্ষার খরচ এবং জীবনযাত্রার সামগ্রিক ব্যয় যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে বৈশ্বিক নেতৃত্বের বড় বড় দাবি দিয়ে জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন। জনগণ শেষ পর্যন্ত দেখতে চায়, সরকারের নীতি তাদের দৈনন্দিন জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছে।

এখানেই ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক দুর্বলতার জায়গাটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংঘাত ও সামরিক ব্যয়ের প্রশ্নও ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। নির্বাচনের ফলাফল তাই শুধু বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য নয়; এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও রাজনৈতিক আচরণের প্রতি জনগণের অসন্তোষেরও প্রতিফলন।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর অর্থ ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তিনি মেয়াদের বাকি সময় প্রেসিডেন্ট পদে বহাল থাকবেন। তবে তাঁর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, বাজেট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ থাকলে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, শুনানি ও জবাবদিহির চাপও বাড়তে পারে। এমনকি অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন করে সামনে আসতে পারে। যদিও অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে অপসারণ করা এক বিষয় নয়।

এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে আগামী দুই বছর রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। একদিকে বিরোধী দলের সংসদীয় নজরদারি, অন্যদিকে নিজ দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনে নীতিগত অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসে বাধা, বাজেট নিয়ে বিরোধ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিপর্যয়কে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী, রক্ষণশীল ও উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটেছে। ইউরোপ থেকে লাতিন আমেরিকা—বিভিন্ন অঞ্চলে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব, জাতীয়তাবাদী বক্তব্য এবং জনতুষ্টিবাদী রাজনীতি রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তার করেছে। এসব রাজনৈতিক ধারার অনেকেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল ও বক্তব্য থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্পের এই নির্বাচনী ধাক্কা কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর রাজনৈতিক অনুসারীদেরও দুর্বল করবে? নাকি এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রকাশ? ব্রাজিল, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত ক্ষমতার সমীকরণ কীভাবে সম্পর্কিত হবে, তা আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশেষ করে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় শিবিরেই নতুন নেতৃত্বের উত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা কি আরও উদার ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করবে, নাকি মধ্যপন্থী নেতৃত্বের মাধ্যমে বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করবে—তা দেখার বিষয়। অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ট্রাম্পের নেতৃত্বের বিকল্প তৈরি হয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতিতে। ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্কনীতি বিশ্ববাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর বাড়তি আমদানি শুল্ক আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যয় ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় চাপ তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসে বিরোধী দলের প্রভাব বাড়লে এসব নীতির কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও আইনগত বাধা তৈরি হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় থাকা সব বাণিজ্যনীতি যে সহজেই পরিবর্তিত হবে, এমন ধারণা করার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের জন্যও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যনীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, বাজারসুবিধা, শ্রম অধিকার, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতির পরিবর্তন বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কঠোরতা, ভিসা ব্যবস্থা, উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক নিয়োগ ও আউটসোর্সিংয়ের বাজারেও মার্কিন নীতির পরিবর্তন প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পালাবদল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও কূটনৈতিক অবস্থানের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাদেশের উচিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির জয়-পরাজয়ের দৃষ্টিতে না দেখে জাতীয় স্বার্থের আলোকে মূল্যায়ন করা। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্যিক স্বার্থ, শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখা প্রয়োজন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তন হোক কিংবা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলাক—রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক ধারাবাহিকতা অনেক ক্ষেত্রেই বজায় থাকে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলো চাপে পড়বে। ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী ধাক্কার পর ইরান প্রশ্নে সমঝোতার পথে হাঁটবে, নাকি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতে আরও কঠোর অবস্থান নেবে—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তার অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্য দিতে হবে গোটা বিশ্বকে।

সব মিলিয়ে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে—ক্ষমতা যত শক্তিশালীই হোক, জনগণের অসন্তোষকে উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধরে রাখা যায় না। সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও জনগণের জীবনযাত্রার বাস্তব সংকটকে উপেক্ষা করা যায় না। গণতন্ত্রে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ শুধু সরকার গঠন করে না; প্রয়োজনে ক্ষমতাসীনদের প্রতি অনাস্থাও প্রকাশ করে।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তি কমে যাওয়া মানেই তাঁর রাজনীতির অবসান নয়। বরং আগামী দুই বছর তাঁর নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৌশল এবং রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। একই সঙ্গে বিশ্বরাজনীতিও নতুন এক সমীকরণের দিকে এগোতে পারে।

শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—রাষ্ট্র পরিচালনায় শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে জনআস্থা অর্জন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তার কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশল দিয়ে সাময়িক সাফল্য পাওয়া গেলেও জনগণের জীবনমান উন্নত করতে না পারলে সেই সাফল্য টেকসই হয় না। ওয়াশিংটনের ক্ষমতার অলিন্দে তাই আবারও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে গণতন্ত্রের চিরন্তন সত্য—রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতার উৎস জনগণ, আর জনগণের রায় উপেক্ষা করার পরিণতি একসময় ক্ষমতাসীনদেরই বহন করতে হয়।

লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com