ইরান সংকটে রাশিয়ার কূটনৈতিক তৎপরতা, মস্কো–তেহরান সম্পর্কে নতুন সমীকরণ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ এএম
বিশেষ প্রতিনিধি সঞ্জয় মজুমদার | ৮ নভেম্বর ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করছে তেহরান। এর অংশ হিসেবে ইরানের নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি ৫ নভেম্বর মস্কো সফর করেন। সফরকালে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ৬ নভেম্বর আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ সফর ও বৈঠকের বিষয়টি উঠে আসে। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এই যোগাযোগ দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।
মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বার্থের কিছু মিল রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অবস্থান এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরোধ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে তেহরানের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মস্কো ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারে কি না, সেটিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আলোচনার বিষয়। তবে পুতিনের সঙ্গে রেজায়ির বৈঠককে সরাসরি কোনো মধ্যস্থতা বা নতুন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করার মতো তথ্য এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়।
ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা বাড়লে সিরিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন হিসাব তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের জন্যও এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের মূল্য, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কোনো নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে তেহরানের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এই বৈঠকের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতা, সামরিক সহযোগিতার নতুন সিদ্ধান্ত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে বৈঠকের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে ফেরার পথে রাউজান বিএনপির বহরে হামলা, আহত অন্তত ১৫
সুদানের নীল নীল অঞ্চলে সংঘাতের বিস্তার, ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও সালি শহরের নিয়ন্ত্রণ হারাল সেনাবাহিনী
জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে নোবিপ্রবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করল জাতীয় ছাত্রশক্তি