ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে দৌলতপুরে বিএনপির আলোচনা সভা, নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিত
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দৌলতপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে পৃথকভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলা কনফারেন্স রুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা এবং দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।
এরপর সকাল ১১টায় দৌলতপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শহিদ সরকার মঙ্গল,উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শের আলী সবুজ। এছাড়াও উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং পুলিশ-প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধান অতিথি উপস্থিত নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা ঘোষণার পূর্বাপর ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, “১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। সেই সংকটময় সময়ে মেজর জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ ঘোষণা এবং ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে হলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। ইতিহাসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বা অবদানকে উপেক্ষা করে স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়।”
আলোচনা সভায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
সভা শেষে বক্তারা বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য সুদৃঢ় করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।