বিচার না পেয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

মোঃ মোফাছসিল খান, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) গত ১৪ অক্টোবরের সংঘর্ষের বিচার না পেয়ে ক্লাস ও পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ঘটনার ২০ দিন পার হলেও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আসেনি। এ সময়ে হুমকি ও আপসের চাপের মুখে আছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী আসাদুর রহমান রবিউল। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের এই শিক্ষার্থী দ্রুত বিচার ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সহপাঠীদের ওপর ১৪ অক্টোবরের হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে তাঁরা ক্লাস ও পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেনি উল্লেখ করে তাঁরা আন্দোলন জোরদার করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান। শিক্ষার্থীরা জবাবদিহি, ভুক্তভোগীদের বিচার ও প্রশাসনের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দাবি করেছেন। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

রবিউল বলেন, "ঘটনাটিকে দুই পক্ষের সাধারণ মারামারি বলার চেষ্টা হলেও এটি ছিল এক পক্ষের হত্যাচেষ্টা।" তাঁর অভিযোগ, প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী হল থেকে রড ও স্টাম্প নিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে তিনি ও তাঁর জুনিয়র সহপাঠীরা আহত হন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না।

তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা ক্যাম্পাসে বুক চিতিয়ে চলাফেরা করছে এবং তাঁদের আপস করে নিতে বলছে। তাঁদের বলা হচ্ছে, বিচার হলে তাঁরাও সমান দোষে শাস্তি পাবেন, কারণ অভিযুক্তদের সঙ্গে দায়িত্বশীলদের যোগাযোগ রয়েছে। আত্মরক্ষায় ব্যানার-ফেস্টুনের আড়াল নেওয়া যদি অপরাধ হয়, তাহলে রড-স্টাম্প নিয়ে হামলাকারী সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

রবিউলের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি পাঁচ কর্মদিবসের সময়সীমা পেরিয়ে অতিরিক্ত সময় নিয়েও কোনো সুনির্দিষ্ট ফল দিতে পারেনি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন বাদী হয়ে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয় উল্লেখ করে তিনি জাককানইবি প্রশাসনের কাছেও একই পদক্ষেপ দাবি করেন। তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই বিচারকে প্রহসনে রূপান্তর না করুক।" তাঁর দাবি, প্রশাসন শিগগির রায় দিয়ে মূল হোতাদের শাস্তির আওতায় আনবে এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা অটুট রাখবে। কোনো দায়িত্বশীলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে কী হবে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমার ভাইয়ের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি।"

গত ১৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নজরুল প্রিমিয়ার লীগ (এনপিএল) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে মাঠের সীমানায় ফুটবল চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা অগ্নিবীণা হল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ও কলা ভবন এলাকায় চার দফা সংঘর্ষে গড়ায়। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংঘর্ষের সময় দুই সাংবাদিককে হেনস্তা ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

ঘটনার পরদিন ১৫ অক্টোবর রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্রোহী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম কমিটির আহ্বায়ক এবং প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান সদস্য-সচিব। অন্য সদস্যরা হলেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ, অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুক এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com