ধ্বংসের মুখে রাণীনগরের ঐতিহাসিক কাশিমপুর রাজবাড়ি
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
মোঃ সোহাগ খন্দকার রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: রাণীনগর উপজেলার একমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শন কাশিমপুর রাজবাড়ির অবশিষ্ট অংশ ভেঙে পড়েছে। দখল, দূষণ ও যত্রতত্র বসতবাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জমিদার বাড়িটি এখন পুরোপুরি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
স্থানীয়রা জানান, কিছু দিন আগে ভোরে রাজবাড়ির বাকি অংশটুকু ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন এলাকাটি পরিদর্শন করে। যেটুকু অংশ এখনো দাঁড়িয়ে আছে, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ঠেকাতে লাল সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বিপদ সংকেত দেওয়া এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর পূর্ব তীরে এই রাজবাড়ির অবস্থান। রাজ পরিবারের অনেক সদস্য কিছুটা মেজাজি হওয়ায় রাজত্বকালে বাড়িটি "পাগলা রাজার বাড়ি" নামে পরিচিত ছিল। শুধু আবাসিক এলাকাই ছিল ২ একর ১৯ শতক।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর রাজবংশের সদস্যরা ভারতে চলে যান। কেবল ছোট রাজা শ্রী শক্তি প্রসন্ন লাহিড়ী বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত এখানে বাস করতেন। পরে তিনিও ঘর-দরজা, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও অঢেল সম্পদ রেখে সবার অজান্তে ভারতে চলে যান।
সংস্কারের অভাবে রাজবাড়ির সব কারুকার্য আজ বিলীন হওয়ার পথে। শেষ অংশটুকু গরুর গোয়াল ঘর হিসেবে ব্যবহার করায় তা ভেঙে পড়া শুরু হয়। জমির একটি অংশে কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থাকলেও নজরদারির অভাবে স্থানীয় প্রভাবশালীরা যে যেভাবে পেরেছেন জবরদখল করে নিয়েছেন। এ যেন "মগের মুল্লুক"। ঐতিহাসিক স্থানটি ক্রমেই বিরান ভূমি ও দখলদারদের রাজ্যে পরিণত হচ্ছে।
কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বাবু বলেন, "অংশটি ভেঙে পড়ার খবর পেয়েই উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। আমি কয়েকবার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলাম, কিন্তু নানা জটিলতায় এগোতে পারিনি। বিশাল এই সম্পত্তি এখন অবৈধ দখলবাজদের কবলে।"
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, "স্থানীয়ভাবে ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। তবে এসব নিদর্শনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের। অবশিষ্ট অংশ রক্ষায় আমি অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।" তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জনগণের প্রবেশ ঠেকাতে লাল সাইনবোর্ড ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। বড় লোহার অ্যাঙ্গেলগুলো যাতে চুরি না হয়, সে জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি এই বিশাল সম্পত্তি রক্ষা করে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করলে এখানে একটি মিনি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।