গণতন্ত্র বদলেছে, রাজনীতি কি বদলেছে?
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস কেবল একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাস নয়; এটি অধিকার আদায়, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং জনগণের রাজনৈতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াই। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার মানুষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন থেকে ছয় দফা আন্দোলন—প্রতিটি পর্যায়েই বাঙালির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ক্রমে সুসংগঠিত হয়েছে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সেই আকাঙ্ক্ষারই ঐতিহাসিক প্রতিফলন ঘটে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় ছিল জনগণের অধিকার, স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সুস্পষ্ট রায়। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেই রায় মেনে নেয়নি। ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি, সামরিক দমন-পীড়ন এবং ২৫ মার্চের গণহত্যা বাঙালিকে মুক্তির সংগ্রামে ঠেলে দেয়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে গণতন্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদর্শনের ভিত্তিতেই ছিল জনগণের ক্ষমতায়ন, মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের প্রত্যয়।
কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর প্রশ্ন উঠছে—আমরা কি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে পেরেছি? নাকি গণতন্ত্রকে নির্বাচন, দলীয় ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সীমার মধ্যে আটকে ফেলেছি?
গণতন্ত্র কি শুধু নির্বাচন?
নির্বাচন গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ, কিন্তু গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা নয়। জনগণ ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, সরকার গঠন করবে এবং প্রয়োজনে সরকার পরিবর্তন করবে—এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মৌলিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এর পাশাপাশি প্রয়োজন আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের সুরক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা।
জনগণের ভোটে সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেই রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠে না, যদি সেই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে অনাগ্রহী হয়। একইভাবে বিরোধী দলও শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা দিয়ে গণতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারে না। তাদের রাজনৈতিক আচরণ, নেতৃত্ব নির্বাচন এবং ভিন্নমতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কিংবা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক দর্শনে জনকল্যাণের প্রশ্নটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য জনগণের সেবা করা—গণতন্ত্রের এই মৌলিক উপলব্ধি আজও সমান প্রাসঙ্গিক। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার, প্রশাসন ও অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত না হলে নির্বাচনী সাফল্য দিয়ে গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্জন পরিমাপ করা সম্ভব নয়।
ক্ষমতার পালাবদল, নাকি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন?
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম বড় সংকট হলো ক্ষমতার পরিবর্তনকেই রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা। অথচ সরকার পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এক বিষয় নয়। নতুন ব্যক্তি বা দল ক্ষমতায় এলেই রাষ্ট্র পরিচালনার মানসিকতা, প্রশাসনিক আচরণ কিংবা নাগরিকের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায় না।
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি নেতিবাচক প্রবণতা কাজ করছে—ক্ষমতায় থাকলে সমালোচনাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা, আর ক্ষমতার বাইরে থাকলে নিজেদের ব্যর্থতার দায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপানো। ভিন্নমতকে অনেক সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়, শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রশ্ন তোলার অধিকারও সন্দেহের চোখে দেখা হয়।
অথচ গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবে, বিতর্ক থাকবে, সরকারের সমালোচনা হবে। কিন্তু এসব কারণে কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে না।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের বিকল্প শক্তি, শত্রু নয়। সংবাদমাধ্যম সরকারের প্রচারযন্ত্র নয়; জনগণের তথ্য জানার অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান। বিচার বিভাগ ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার অধীন নয়; বরং আইনের শাসনের নিরপেক্ষ রক্ষক। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে গণতন্ত্রের ভিত্তি কখনোই শক্তিশালী হবে না।
বিদেশনির্ভর রাজনীতি: অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির প্রভাব ও কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন নয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থ থাকে। বাংলাদেশের নির্বাচন, মানবাধিকার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর আগ্রহ থাকাও স্বাভাবিক।
তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সংকটের সমাধান জনগণের পরিবর্তে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে খুঁজতে থাকে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি যদি বিদেশি দূতাবাসের তৎপরতা কিংবা আন্তর্জাতিক চাপের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে তা দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিজস্ব সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাই প্রকাশ করে।
বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রধান কর্তৃত্ব থাকতে হবে এ দেশের জনগণের হাতে। নির্বাচনব্যবস্থা, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বেরই।
বিদেশিরা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলতে পারে, কিন্তু একটি জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে দিতে পারে না। সেই পরিবর্তন আনতে হয় দেশের রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে।
রাজনৈতিক দলের ভেতরেই গণতন্ত্রের ঘাটতি
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকট বুঝতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোর দিকে তাকানো জরুরি। যে দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়, সেই দলের মধ্যেই যদি নেতৃত্ব নির্বাচনের স্বচ্ছতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও তৃণমূলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না থাকে, তাহলে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
দলের নেতৃত্ব নির্বাচন, কমিটি গঠন, নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। নেতৃত্বের সমালোচনা করলেই কেউ শত্রু হয়ে যাবেন—এমন সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
রাজনীতি যদি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, ক্ষমতার বলয় ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ সংকুচিত হবে। তখন গণতন্ত্রের নামে গড়ে উঠবে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা, যেখানে নির্বাচনের সময় জনগণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্বাচনের পর তাদের মতামত উপেক্ষিত থাকে।
নাগরিক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব শুধু রাজনৈতিক দলের নয়। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, শিক্ষক, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী, পেশাজীবী এবং তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হতে পারে না।
দুঃখজনকভাবে, নাগরিক সমাজের একটি অংশ রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে পারছে না। দলীয় আনুগত্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার বিবেচনায় অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীরব থাকছেন। অথচ নাগরিক সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়া উচিত স্বাধীন বিবেক ও নৈতিক অবস্থান।
অন্যদিকে, তরুণ প্রজন্ম ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান, নিরাপদ সমাজ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার চায়। কিন্তু তাদের চিন্তা ও অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটিও বড় প্রশ্ন।
তরুণদের শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদী বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। স্থানীয় পর্যায়ে জন-আলোচনা, পাঠচক্র, সামাজিক সংগঠন ও নীতিনির্ভর রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করতে হবে। রাজনীতিকে রাজধানীকেন্দ্রিক নেতৃত্বের বলয় থেকে বের করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।
প্রয়োজন নৈতিক নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক অঙ্গীকার
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মানসিকতার পরিবর্তন অপরিহার্য। এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা জনগণকে কেবল ভোটার হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক হিসেবে বিবেচনা করবেন। যারা ক্ষমতার চেয়ে দায়িত্বকে বড় করে দেখবেন, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে স্থান দেবেন এবং বিরোধী মতকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করবেন।
এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে ন্যূনতম ঐকমত্য জরুরি—গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের সুরক্ষা, রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ বন্ধ করা।
একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার কর্মসূচি নয়, ক্ষমতায় গেলে কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, তারও সুস্পষ্ট রূপরেখা দিতে হবে।
কারণ গণতন্ত্রের সাফল্য শুধু কে সরকার গঠন করল, তার ওপর নির্ভর করে না; বরং সরকার জনগণের অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদা কতটা রক্ষা করল, তার ওপর নির্ভর করে।
শেষ কথা
বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক গণরায়, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান—প্রতিটি অধ্যায়েই জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট।
আজ সেই ইতিহাস স্মরণ করার অর্থ শুধু অতীতের গৌরবগাথা তুলে ধরা নয়; বরং বর্তমানের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে ভবিষ্যতের পথ নির্মাণ করা।
গণতন্ত্র কোনো দলের একক সম্পত্তি নয়, কোনো নেতার ব্যক্তিগত অর্জনও নয়। এটি জনগণের অধিকার, রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক অঙ্গীকার। ক্ষমতার পালাবদল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ; কিন্তু তার চেয়েও জরুরি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন। কারণ ব্যক্তি বদলালেই রাজনীতি বদলায় না; বদলাতে হয় চিন্তা, আচরণ, প্রতিষ্ঠান ও মূল্যবোধ।
বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আমরা কি কেবল নতুন ক্ষমতাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, নাকি এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ক্ষমতা জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে, ভিন্নমত নিরাপদ থাকবে এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মানুষের কল্যাণে কাজ করবে?
এই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। গণতন্ত্রের প্রকৃত বিজয় শুধু ব্যালট বাক্সে নয়, তার পূর্ণতা জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনে।
লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।