লামায় সাদা পাহাড় এলাকার নদী থেকে এক ব্যাক্তির মরদেহ উদ্ধার, হাতি তাড়ানোর বৈদ্যুতিক ফাঁদে মৃত্যুর সন্দেহ!
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
তোফাজ্জল হোসাইন, লামা বান্দরবান।
বান্দরবানের লামায় মাতামুহুরি নদী থেকে মংচেসা মার্মা (৬০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাতি তাড়ানোর জন্য স্থাপন করা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে লামা উপজেলার মাতামুহুরি নদীর হোয়াইট পিক রিসোর্টের নিচের অংশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মংচেসা মার্মা লামা উপজেলার ১ নম্বর গজালিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিনঝিরি পাড়ার মৃত পাইংসাউ মার্মার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতি ও বন্যশূকরের উপদ্রব থেকে বাগান ও ফসল রক্ষায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই অংশ হিসেবে একটি বাগানে হাতি তাড়ানোর জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মংচেসা মার্মার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট খামারের মালিককে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। তিনি তার খামার থেকে পালিত গরু ছাগল নিয়ে পালিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
শনিবার দুপুরে মাতামুহুরি নদীর হোয়াইট পিক রিসোর্টের নিচের অংশে পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি লামা থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তৈয়ব বলেন, “মাতামুহুরি নদীর হোয়াইট পিক রিসোর্টের নিচের দিকে মরদেহটি ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়দের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসি।”
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নদীতে মরদেহ ভেসে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ওসি আরও জানান, হাতি তাড়ানোর জন্য স্থাপন করা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মংচেসা মার্মার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার-পরিজন ও মিনঝিরি পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, বন্যপ্রাণীর উপদ্রব থেকে ফসল রক্ষার নামে বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ মৃত্যুর সঙ্গে বৈদ্যুতিক ফাঁদের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট বাগানে এমন ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছিল কি না এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মংচেসা মার্মার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন
সিংগাইরে কাবিখা বরাদ্দের রাস্তার কাজের অর্থ নয় ছয়
জয়পুরহাটে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে তীব্র হট্টগোল: ডিসির ক্ষমা প্রার্থনা, তদন্তের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
নওগাঁয় সিজারিয়ানের পর যমজ সন্তানের এক সন্তান উধাও, ওয়ার্ডবয় গ্রেপ্তার