নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ও সিলেবাস/পদ্ধতিতে আসছে পরিবর্তন
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
এনটিআরসিএ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ সকল প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ও মানসম্পন্ন ব্যক্তিগণকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এনটিআরসিএ কর্তৃক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন প্রদান করা হয়।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) হলো বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
মূল কাজ: দেশের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের (এমপিওভুক্তসহ) বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম প্রবেশ (এন্ট্রি লেভেল) পর্যায়ের শিক্ষক চাহিদা নিরূপণ, পরীক্ষা গ্রহণ, সনদ প্রদান এবং শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা।
পরীক্ষা পদ্ধতি: সাধারণত প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—এই তিন ধাপে পরীক্ষা হয়ে থাকে।
নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ও এর সিলেবাস/পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
নতুন কাঠামোয় শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে পারে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। আগের পরীক্ষাগুলোর তুলনায় এবার যুক্ত হতে পারে নতুন ধাপ। প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি নেওয়া হতে পারে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার সময়সূচি ও পদ্ধতি চূড়ান্ত হচ্ছে না।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, এবার তিন ধাপে প্রার্থী বাছাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমে ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষা নেওয়া হবে। এক ঘণ্টার এ পরীক্ষায় প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য এক নম্বর পাওয়া যাবে। ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর। পরীক্ষায় পাস করতে হলে অন্তত ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সম্ভাব্য সিলেবাসে চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান। প্রতিটি বিষয়ে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকতে পারে।
প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য থাকবে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। এ পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে তিন ঘণ্টা। লিখিত পরীক্ষায় সফল প্রার্থীরা পরবর্তী ধাপে ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে প্রস্তাবিত এই পরীক্ষা পদ্ধতি, নম্বর বণ্টন ও সিলেবাস এখনো চূড়ান্ত নয়। বিধিমালা সংশোধনের পর এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এবারের পরীক্ষায় নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আসছে বড় পরিবর্তন। এবারই প্রথম নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে শুধু যোগ্যতা যাচাইয়ের পরিবর্তে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। এ কারণে আগের ধারাবাহিকতায় এটি ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা না হয়ে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রসঙ্গত, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর। প্রায় চার মাস পর ২০২৪ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হয় ওই পরীক্ষার প্রিলিমিনারি ধাপ। এরপর দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে নতুন কাঠামোয় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করতে যাচ্ছে এনটিআরসিএ।
একরামুল ইসলাম তুষার, সহকারী অধ্যাপক আবুবকর বিশ্বাস মকছেদ আলী কলেজ, কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ।