নিরপরাধ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, প্রকৃত অপরাধী যেন ছাড়া না পায়: চট্টগ্রামে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম থেকে মোহাম্মদ হাসান: নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানি বা ক্ষতির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধী যেন আইনের ফাঁক গলে পার না পায়, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রামের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার। তিনি বলেছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সমন্বয়, জবাবদিহি ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন জরুরি।

শনিবার চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে বিচার বিভাগ, পুলিশ, আইনজীবী, কারা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কনফারেন্সের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ফোকাল পারসন মো. মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মামলার সংখ্যা ও বিচারকের সংখ্যা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন তিনি। মামলার সংখ্যা বাড়লেও বিচারকের সংখ্যা না বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

কনফারেন্সে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন। আসামি আটক থেকে শুরু করে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিভিন্ন আইনি দিক তুলে ধরেন তিনি। এ সময় আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুদ্দিন মামলার সঠিক ও দ্রুত তদন্ত, জব্দ করা আলামত নিষ্পত্তি, আদালত প্রাঙ্গণের যাতায়াতপথের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং আদালতে আসা আসামি ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি আদালত অঙ্গনে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া চট্টগ্রাম মহানগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের পরিবেশ রক্ষায় পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।

কনফারেন্সে সমন জারি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা, জখমি সনদ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ফৌজদারি মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির সর্বশেষ সংশোধনী যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। তদন্তকাজে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করতে হবে। কেউ অসহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও বলেন, যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত, তা আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করাই দেশপ্রেমের পরিচয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় থেকে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করতে হবে।

কনফারেন্সে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান, প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. হাসান ইকবাল চৌধুরী, আনসার-ভিডিপির পরিচালক মো. আমিন উদ্দিন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার ১৬ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. খালেদ হোসাইন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কাজী সাইফুল আলম, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য বিভাগ ও প্রবেশন বিভাগের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তার।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com