বিজিবি
জয়পুরহাটে ৩২০ কেজির প্রাচীন বেলেপাথরের পিলার উদ্ধার
জয়পুরহাটে ৩২০ কেজির প্রাচীন বেলেপাথরের পিলার উদ্ধার জয়পুরহাট প্রতিনিধি : আব্দুল কাদের জয়পুরহাটে পাচারের উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখা ৮ম-৯ম শতকের একটি প্রাচীন বেলেপাথরের পিলারের অংশবিশেষ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্থানীয় এলাকাবাসীর মাধ্যমে হস্তান্তরের পর রোববার এটি নিজেদের জিম্মায় নেয় জয়পুরহাট ২০ বিজিবি। পাথরটির ওজন প্রায় ৩২০ কেজি। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রাথমিক যাচাইয়ে এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। রোববার দুপুরে ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও কষ্টিপাথর উদ্ধারে বিজিবির চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে একটি প্রাচীন বস্তু হস্তান্তরের খবর পাওয়া যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ২০ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল পূর্বনির্ধারিত স্থানে গিয়ে বেলেপাথরটি নিজেদের জিম্মায় নেয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র প্রত্নবস্তুটি পাচারের উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি খেলার মাঠের পাশের পুকুরের পানিতে লুকিয়ে রেখেছিল। পরে বিষয়টি নিয়ামতপুর থানা পুলিশ ও নওগাঁর বদলগাছীর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়। বিজিবির কাছে পাথরটি হস্তান্তরের সময় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তিনি শিলাখণ্ডটির প্রাথমিক সমীক্ষা ও যাচাই করেন। পরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষের বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এটি ৮ম-৯ম শতকে ব্যবহৃত বেলেপাথরের পিলারের অংশবিশেষ বলে শনাক্ত করা হয়। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ একটি সনদও দিয়েছে বলে বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। উদ্ধার করা প্রত্নবস্তুটি সংরক্ষণের জন্য নওগাঁর বদলগাছীতে অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মহেশপুর সীমান্তে পুশইন চেষ্টা রুখে দিলো বিজিবি
মহেশপুর সীমান্তে পুশইন চেষ্টা রুখে দিলো বিজিব একরামুল ইসলাম তুষার, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের খোসালপুর বিওপি এলাকায় বিএসএফের পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। খোসালপুর বিওপি এলাকা দিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে পুশইন করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধায় ঐ ব্যক্তি ভারতে ফেরত যেতে বাধ্য হয়। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমানের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহেশপুরের খোসালপুর বিওপির আওতায়ধীন সীমান্ত পিলার ৬০/৯৮-আর সংলগ্ন এলাকায় ১৯৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের রামনগর ক্যাম্পের গেইট খুলে দিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে (পুরুষ) বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। ওই ব্যক্তি সীমান্তের শূন্য লাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিজিবির খোসালপুর বিওপি'র টহলদলের নজরে আসে। এসময় খোসালপুর বিওপি'র টহলদল ওই ব্যক্তিকে ভারতে ফিরে যেতে বাধ্য করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুশইনের শিকার ব্যক্তি ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারে কাছে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, বিজিবি'র তৎপরতায় বিএসএফ কর্তৃক অবৈধ পুশইন এর চেষ্টা কার্যকর ভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়টি এরই মধ্যে ১৯৪ বিএসএফ ব্যাটেলিয়নকে অবহিত করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা, পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি- শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে তৎপর রয়েছে।
মহেশপুরে বিজিবির অভিযান: সাড়ে ৫ লাখ টাকার ভারতীয় কীটনাশক ও ওষুধ উদ্ধার
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় কীটনাশক ও ওষুধ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যার আনুমানিক সিজার মূল্য ৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। বুধবার (১২ আগস্ট) ভোররাতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ সীমান্ত এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব চোরাচালানি মালামাল উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ১২ আগস্ট আনুমানিক রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীনস্থ নতুনপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। হাবিলদার মোঃ জামাল খানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহল দল সীমান্ত পিলার-৬৫/২-এস থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে 'দলিল মিয়া'র আম বাগানের ভেতর তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে আম বাগান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন ধরণের ভারতীয় কীটনাশক এবং ১,৬৭০ পিস ওষুধ উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে
সীমান্তে জব্দকৃত ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মা/দ/ক ধ্বংস করল বিজিবি
সাতক্ষীরায় বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকা থেকে জব্দ করা প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ এসব মাদক ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪৮ জনকে আটক এবং ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছিল। ধ্বংস করা বিপুল পরিমাণ মাদকের মধ্যে ছিল ৩ হাজার ৭৯১ বোতল মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০টি ইয়াবা, ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯টি বিড়ি ও সিগারেট, ৩৩ দশমিক ৪ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, দুই বোতল লিকুইড সিসা এবং মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত ১০০ কেজি বটপাতা। এছাড়া ৭২ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম এলএসডি, ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং আফিম তৈরির ২০ বোতল রাসায়নিকও ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। মাদক একটি সামাজিক মহামারি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। একই সাথে তিনি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হচ্ছে। মাদক ধ্বংসকরণ এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ, খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।
শিলিগুড়ি করিডোরে ভারতের সামরিক তৎপরতা: লালমনিরহাট সীমান্তে গুজব, বাস্তবে কী হচ্ছে?
বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভারতের ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোর এলাকায় সামরিক তৎপরতা বাড়ানোকে ঘিরে দুই দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে আলোচনা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত আসামের ধুবরি এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরে দুটি নতুন সেনা স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি ভূরাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা জোরদার করতেই করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।