ইথিওপিয়ান
টাইগ্রেতে আবার যুদ্ধের আগুন, আমহারা–আফারে ছড়াল সংঘাত: ইথিওপিয়ায় নতুন গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা
টাইগ্রেতে আবার যুদ্ধের আগুন, আমহারা–আফারে ছড়াল সংঘাত: ইথিওপিয়ায় নতুন গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা সাতটি সশস্ত্র ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জোট ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই উত্তর ইথিওপিয়ায় তীব্র লড়াই; সংঘাত এখন টাইগ্রের বাইরে টাইগ্রেতে আবার যুদ্ধের আগুন, আমহারা–আফারে ছড়াল সংঘাত: ইথিওপিয়ায় নতুন গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা বিশেষ প্রতিনিধিঃ সঞ্জয় মজুমদার। উত্তর ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ফেডারেল বাহিনী ও টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (TPLF)-এর বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই লড়াই পাশের আমহারা ও আফার অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং টাইগ্রের কয়েকটি বিমানবন্দর দখলের খবরও আসে। এই উত্তেজনার পটভূমিতে রয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর গঠিত Ethiopian Peoples’ Forces Alliance for Survival (EPFAS)। TPLF, Amhara Fano National Movement, Oromo Liberation Army (OLA) এবং আরও চারটি সংগঠন এই জোটে যুক্ত হয়েছে। জোটটির ঘোষিত লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী আবিয় আহমেদের সরকারকে সরিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা করা। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করা TPLF ও ফানো এখন একই রাজনৈতিক-সামরিক জোটে এসেছে। তবে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বিরোধ এখনও রয়েছে। সংঘাতের সামরিক বিস্তার দ্রুত ঘটেছে। ACLED-এর সংঘাত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর টাইগ্রের পশ্চিমাঞ্চল, আমহারার ওয়াগ হেমরা ও নর্থ ওয়েলো এবং টাইগ্রে–আফার সীমান্তে লড়াই চলছিল। আফারের ইয়ালো এলাকাতেও নতুন সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে লালিবেলা এলাকায় বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ার খবর আসে। ২৩ সেপ্টেম্বর টাইগ্রে বাহিনী মেকেলে, আকসুম ও শিরে বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে। একই সময়ে আফারের আবালা ও ইরেবতিতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। বিমান চলাচল বন্ধের ঘটনাও পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়। ইথিওপিয়ার সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল বেরহানু জুলা ২৭ সেপ্টেম্বর বলেন, সেনাবাহিনী পরিস্থিতি “wisdom and restraint” বা সংযম ও বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে। তিনি ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। ইরিত্রিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে সংঘাতের অভ্যন্তরীণ মাত্রার পাশাপাশি ইথিওপিয়া–ইরিত্রিয়া সম্পর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো ২০২২ সালের Pretoria Agreement কতটা কার্যকর অবস্থায় আছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ২০২০–২০২২ সালের ভয়াবহ টাইগ্রে যুদ্ধের অবসান হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিম টাইগ্রের নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার মতো কয়েকটি বিরোধপূর্ণ বিষয় পুরোপুরি মীমাংসিত হয়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব বিরোধের সঙ্গে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা যুক্ত হয়েছে। নতুন সংঘাতের মানবিক প্রভাবও দ্রুত বাড়তে পারে। টাইগ্রে যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি হয়েছিল। বর্তমান লড়াই যদি আমহারা ও আফারসহ আরও এলাকায় দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে স্থানীয় জনগণের চলাচল, যোগাযোগ, চিকিৎসা ও খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিমানবন্দরে কার্যক্রম বন্ধ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকেও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। আফার অঞ্চল ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও জিবুতির সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের অংশ। সংঘাত সেখানে দীর্ঘস্থায়ী হলে ইথিওপিয়ার পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে সংযমের আহ্বান জানিয়েছে এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন-নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার কথা বলেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও টাইগ্রের বাইরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই মুহূর্তে সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে ফেডারেল বাহিনী, TPLF এবং নতুন জোটের সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর। সাতটি গোষ্ঠীর জোট সরকারবিরোধী চাপ বাড়ালেও তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আঞ্চলিক স্বার্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে ইথিওপিয়ার সামনে এখন দুটি সমান্তরাল বাস্তবতা—একদিকে নতুন করে সামরিক সংঘাতের বিস্তার, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে ২০২২ সালের শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজন।