বাংলাদেশ বার্তা টুডে
নড়াইলে পুলিশের অভিযানে ডাকাত গ্রেপ্তার
নড়াইলের কালিয়ায় পুলিশের অভিযানে ডাকাত আরোজ আলী শেখ গ্রেপ্তার। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, (৫ আগস্ট) বুধবার রাত ৮ঃ০০ টায় অভিনব কৌশলে পুলিশের দুঃসাহসিক এবং পরিকল্পিত সফল অভিযানে গ্রেপ্তার আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূল হোতা কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামের আরোজ আলী শেখ। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামে দুঃসাহসিক ও পরিকল্পিত অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূল হোতা আরোজ আলী শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই অভিযানের বিশেষত্ব ছিল পুলিশের অভিনব কৌশল। বুধবার দিনভর পুলিশের সদস্যরা কৃষক, ভ্যানচালক, হকার ও মুদিদোকানির ছদ্মবেশে গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকেন। রাত নামতেই শুরু হয় পরিকল্পিত অভিযান। রাত ৮টার দিকে কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইদ্রিস আলীর নেতৃত্বে বিশেষ পুলিশ দল জোকারচর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে আরোজ আলী শেখকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে কালিয়া, নড়াইল সদর, খুলনার দিঘলিয়া ও গোপালগঞ্জ সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, সন্ত্রাস, অস্ত্র ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন নজরদারির পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শাকের দাম দ্বিগুণ, লাভের হাসি চাষিদের মুখে
রংপুর অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন ধরনের শাকের খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। ফলে এক মাসের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের শাকের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন পর প্রত্যাশিত দাম পেয়ে খুশি শাকচাষিরা। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের জনপ্রিয় আঞ্চলিক সবজি ‘মারা শাক’ চাষ করে ভালো লাভ করছেন কৃষকরা। কৃষক, ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলে লাল শাক, পালং শাক, কলমি শাক, পুঁই শাক, লাউ শাকসহ বিভিন্ন ধরনের শাকের বাণিজ্যিক চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হচ্ছে মারা শাক। এটি মূলত উত্তরাঞ্চলের একটি আঞ্চলিক খাদ্যাভ্যাসের অংশ। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই নিয়মিত এ শাক রান্না করা হয়। স্থানীয় বাজারগুলোতেও সারা বছর এর চাহিদা থাকে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর এ সময়ে বিভিন্ন শাকের দাম ছিল কেজিপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকা। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। যদিও বাজারে মারা শাকের সরবরাহ তুলনামূলক ভালো রয়েছে, তবে অন্যান্য শাকের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক বাজারে দাম বেড়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নিচু জমির অনেক শাকের খেত নষ্ট হয়েছে। তবে মারা শাক তুলনামূলক দ্রুত উৎপাদনযোগ্য হওয়ায় অনেক কৃষক এই শাকের দিকে ঝুঁকছেন। বীজ বপনের মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই এটি বাজারজাত করা যায়। কৃষি বিভাগ জানায়, মূলত পাটের বীজ ঘন করে বপনের পর গাছ এক থেকে দেড় ফুট উচ্চতা হলে জমি পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে চারা তুলে ফেলা হয়। সেই কচি চারাই স্থানীয়ভাবে 'মারা শাক' নামে পরিচিত। শাক সংগ্রহের পর জমিতে মই দিয়ে মাটি সমান করে পাটের মূল ফসলের পরিচর্যা করা হয়। এই প্রক্রিয়া থেকেই শাকটির নাম হয়েছে 'মারা শাক'। দেশের অন্য অঞ্চলে এটি তেমন পরিচিত না হলেও রংপুর অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে এটি জনপ্রিয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এ অঞ্চলে গড়ে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকের আবাদ হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে মারা শাক চাষ করা হয়। স্বল্প সময়ে উৎপাদন, কম খরচ এবং বাজারে স্থায়ী চাহিদা থাকায় কৃষকদের কাছে এটি একটি লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান জানান, তিনি সারা বছর ২০ শতাংশ জমিতে মারা শাক চাষ করেন। বছরে সাত থেকে আটবার বীজ বপন করে শাক উৎপাদন করেন। একেকবার শাক উৎপাদনে প্রায় চার হাজার টাকা খরচ হয়। ২০ শতাংশ জমি থেকে ৮০০ থেকে ৯০০ কেজি শাক পাওয়া যায়। কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়ে মাত্র ৪ থেকে ৫ টাকা।" তিনি আরও বলেন, "এক মাস আগেও পাইকারদের কাছে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন একই শাক বিক্রি করছি ১৮ থেকে ২০ টাকায়। বাজারে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। এ বছর মারা শাক চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছি। এ শাক চাষ করে কখনো লোকসান হয়নি। কালীগঞ্জের হরবানীনগর এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের গ্রামের ১৫/২০ টি কৃষক পরিবার প্রায় সবাই শাক-সবজির আবাদ করেন। তবে মারা শাকই সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, "আমি এক বিঘা জমিতে সারা বছর বাণিজ্যিকভাবে মারা শাক চাষ করি। অনেক পাইকার আগাম টাকা দিয়ে শাকের অর্ডার দেন। তবে এ শাক চাষে যথেষ্ট যত্ন নিতে হয়। বীজ বপনের পর অতিবৃষ্টি হলে অনেক সময় বীজ নষ্ট হয়ে যায়, তখন আবার নতুন করে বপন করতে হয়। তারপরও লাভ ভালো হওয়ায় আমরা এ শাকের আবাদ বাড়াচ্ছি।" লালমনিরহাটের বড়বাড়ী হাটে কেনাকাটা করতে আসা সাখওয়াত ইসলাম বলেন, "আমাদের পরিবারে সব ধরনের শাক খাওয়া হলেও মারা শাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এই শাক রান্না হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এবার শাকের দাম অনেক বেড়েছে।" লালমনিরহাটের গোশালা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মিনহাজ হোসেন বলেন, "কৃষকদের কাছ থেকে মারা শাক কিনে বাজারে বিক্রি করি। কেজিপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা লাভ থাকে। তবে পরিবহন খরচ ও বিক্রি না হলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এবার মারা শাকের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও অন্য শাকের সরবরাহ কম হওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে।" রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, "গত এক যুগে রংপুর অঞ্চলে মারা শাকের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। আগে এটি এতটা পরিচিত ছিল না। বর্তমানে পাটের বীজ থেকে উৎপাদিত এই শাক স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে উঠেছে। দেশের অন্য অঞ্চলে এর প্রচলন খুবই সীমিত।" তিনি বলেন, "মারা শাক শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি পুষ্টিকরও। অনেকেই রোগীর পথ্য হিসেবেও এটি ব্যবহার করেন। স্বল্প জমি, কম খরচ এবং অল্প সময়ে উৎপাদনের কারণে কৃষকরা এ শাক চাষ করে ভালো আয় করছেন। একই সঙ্গে নিজেদের পরিবারের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করতে পারছেন।" ’জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ও দ্রুত ফলনশীল ফসল হিসেবে মারা শাকের চাষ আগামী দিনে আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে স্থায়ী চাহিদা ও লাভজনক মূল্য কৃষকদের এই আঞ্চলিক শাকের আবাদে আরও উৎসাহিত করছে।
রাজাপুরে আয়রন ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়ায় ত্রিশ বছর কষ্ট করছেন দুই গ্রামের মানুষ
আলমগীর শরীফ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:- ঝালকাঠির রাজাপুরের মঠবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাউথপুর গ্রামের বেপারীবাড়ি এলাকায় বদনিকাঠি খালের ওপর নির্মিত আয়রন ব্রিজটি ভেঙে পড়ে রয়েছে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে। জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক এই অবস্থায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন বদনিকাঠি ও সাউথপুর— এই দুই গ্রামের সহস্রাধিক বাসিন্দা। বছরের পর বছর ভোট আসে, নির্বাচন ঘিরে প্রতিশ্রুতির জোয়ার ভাসে, কিন্তু অবহেলিত এই দুই গ্রামবাসীর ভাগ্যে জোটে না একটি টেকসই স্থায়ী ব্রিজ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর আগে বদনিকাঠি খালের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আয়রন ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের মাত্র ৮ থেকে ৯ বছরের মাথায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজটির ওপরের সিমেন্টের স্ল্যাব ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ তিন দশক ধরে ব্রিজটি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ সদস্যদের কাছে অগনতি বার মৌখিক আবেদন জানালেও আজ পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি বা কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি পুননির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। স্থানীয় বাসিন্দা সাহাদাত ব্যাপারি, ইয়াছিন সিকদার ও জাহাঙ্গীর ব্যাপারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন দুই গ্রামের সহস্রাধিক লোক বাধ্য হয়ে এই ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন"। প্রতি বছর আমরা এলাকাবাসী মিলে চাঁদা তুলে বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা করি। তবে বয়স্ক, নারী ও ছোট শিশুদের জন্য এই নড়বড়ে সাঁকো পার হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।” তারা আরও জানান, বিশেষ করে বর্ষার দিনে খালের দুই পাড়ের কাঁচা মাটির রাস্তা কাদা হয়ে পিচ্ছিল রূপ নেয়। এ সময় নড়বড়ে সাঁকোটি অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়ে এবং পার হতে গিয়ে প্রায়ই মানুষ খালের মধ্যে পড়ে আহত হচ্ছেন। গত সপ্তাহেও বদনিকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিশু শিক্ষার্থী পা পিছলে নিচে পড়ে আহত হয় এবং তাদের বই-খাতা খালের পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। ব্রীজটি দিয়ে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদ্রাসা ও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝুকি নিয়ে প্রতিয়িত পারাপার হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবার ভোটের মৌসুম আসলেই প্রার্থীরা ভোট ভিক্ষা করতে এসে ব্রিজের এই ভঙ্গুর দসা দেখে স্থায়ী সমাধানের মিষ্টি আশ্বাস দিয়ে যান। কিন্তু ভোট শেষ হয়ে গেলে ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা আর কারও মনে থাকে না। সামনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবারেও প্রতিশ্রুতির কথা মিলছে। মহিলা মেম্বার পদপ্রার্থী স্থানীয় মাতোয়ারা বেগম নির্বাচিত হতে পারলে ওই স্থানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি সম্প্রতি তিনি নিজ অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারি গাছ কিনে এনে পুরনো আয়রন ব্রিজের বিমের ওপর দিয়ে সাময়িকভাবে মানুষের পারাপারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “উক্ত ব্রিজটির জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে আমার আগে জানা ছিল না। আমি দ্রুত খোঁজ-খবর নিয়ে সেখানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠাব।”
সিংগাইরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তে ১জনের মৃ/ত্যু
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সাব্বির হোসেন লাভলু (৫২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকার সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সাব্বির হোসেন লাভলু উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তাজিম প্রামাণিকের ছেলে। জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে লাভলু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর গত শনিবার তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পরীক্ষা -নিরীক্ষার করলে তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ঐ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি মারা যান। সাব্বির হোসেন লাভলুর মৃত্যুতে পরিবারে চলছে কান্নার মাতুম।
শ্রীপুরে যুবদল নেতার হামলায় পণ্ড আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনামূলক সভা, থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি
মাগুরার শ্রীপুরে শ্রীকোল ইউনিয়নের খামারপাড়া বাজারে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। দাওয়াত না পাওয়ার অভিযোগ তুলে উপজেলা যুবদলের এক নেতার নেতৃত্বে হামলার কারণে পণ্ড হয়ে গেছে শ্রীপুর থানা পুলিশের আয়োজিত সচেতনামূলক সভা। মঙ্গলবার ৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খামারপাড়া বাজার কমিটির আয়োজনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তরিকুল ইসলাম নামে একজন আহত হয়েছেন। তিনি বরিশাট গ্রামের হামিদ বিশ্বাসের ছেলে। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকরা জানান, খামারপাড়া বাজারের হিন্দু ধর্মের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে শ্রীপুর থানা পুলিশের উদ্যোগে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। প্রথমে বিকেল ৪টায় সময় নির্ধারণ করা হলেও ব্যস্ততার কারণে সভাটি সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠিত হয়। সভা শুরুর কিছুক্ষণ আগে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জোয়ার্দার শাহ আলম তুফান সেখানে উপস্থিত হয়ে সভার বিষয়ে জানতে চান। তাকে জানানোর পর তিনি উপস্থিত সবাইকে সভা ছেড়ে চলে যেতে বলেন এবং সভা বন্ধ করার জন্য জোর করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার সাথে থাকা কয়েকজন অতর্কিতভাবে উপস্থিতদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এ সময় তরিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জিয়াউল হক ফরিদ বলেন, "ওসি সাহেবই সভাটি আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সদস্য সচিব তুফান এসে সভা ভণ্ডুল করে দেন এবং মারধরের ঘটনা ঘটান।" এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জোয়ার্দার শাহ আলম তুফানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওলি মিয়া জানান, "বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতামূলক সভার জন্য বাজার কমিটিকে বলা হয়েছিল। আমি পৌঁছানোর আগেই যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমরা আহতদের খোঁজখবর নিচ্ছি। থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান ডিবি হেফাজতে
বুধবার (৫ আগষ্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে হেফাজতে নিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে এই সাবেক সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আখতারুজ্জামানের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেয়ে গুলশানের ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়।
তাড়াইল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ পালিত
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ। ২০২৪ সালের এই দিনে দেড় দশকের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছিল ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত অভ্যুত্থান। শিক্ষার্থী-শিক্ষক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত সেই বিজয় গোটা দেশের মতো স্মরণ করেছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুকের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশেষ কারণবশত তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান মিয়া স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সবাপতি ইমরুল হাসান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের তাড়াইল উপজেলা সভাপতি আবদুল কাইয়ুম মিয়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা সভাপতি আতিকুর রহমান অপু, উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি শতকত হোসেন বিপ্লব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাড়াইল উপজেলা আহ্বায়ক সার্জেন্ট মহিউদ্দিন মাসুদ (অব.) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাড়াইল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁদের আদর্শ, সাহস ও ত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র এবং মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে। একই সঙ্গে শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার এবং তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক এমপি সাকিব আল হাসানের বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ
মাগুরায় ক্রিকেটার ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সাকিব আল হাসানের বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে শহরের কেশবমোড় এলাকার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাড়ির দক্ষিণ পাশের লোহার গেটের ওপরের অংশ লক্ষ্য করে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। খবর পেয়ে রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে মাগুরা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও নিক্ষিপ্ত বস্তুর ধরন নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন বলেন, ঘটনাটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এটি পেট্রোল বোমা কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। উল্লেখ্য, বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে ভারতের দিল্লিতে এক প্রেস কনফারেন্সে অনলাইনে যুক্ত হন সাকিব আল হাসান। তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বহুল বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় শত শত শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার সময় বিদেশে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আনন্দপূর্ণ জীবন-যাপনের ছবি শেয়ার করে বিতর্কিত হন তিনি। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সাকিব আল হাসান আর দেশে ফিরতে পারেননি।
বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবে সাবেক কোষাধ্যক্ষ আহমেদ পারভেজকে সংবর্ধনা
সিলেটের বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও ফ্রান্স প্রবাসী আহমেদ পারভেজ -কে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে মাদানীয়া মাদ্রাসা মার্কেটের ২য় তলায় বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খায়েরের সভাপতিত্বে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ সাকীর সঞ্চালনায় সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন আহমেদ পারভেজ। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে আহমেদ পারভেজ বলেন, প্রবাসে অবস্থান করলেও তিনি সবসময় বিশ্বনাথ মডেল প্রেসক্লাবের কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর রাখেন। প্রেসক্লাবের অগ্রযাত্রা ও সাংবাদিকদের কল্যাণে ভবিষ্যতেও তিনি পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল মুন্না, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবীন সুহেল, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আক্তার আহমদ শাহেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক বদরুল ইসলাম মহসিন এবং সদস্য আফজল মিয়া। বক্তারা আহমেদ পারভেজের সাংবাদিকতা ও সংগঠনের প্রতি অবদানের প্রশংসা করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও প্রবাস জীবনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধিত অতিথির হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
বকশীগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের গণরায় কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে জামালপুরের বকশীগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বাদ আসর বকশীগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মালিবাগ মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ময়মনসিংহ অঞ্চল টিমের সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা নাজমুল হক সাঈদী। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দ্রুত জুলাই সনদ কার্যকর, গণভোটের গণরায়ের প্রতিফলন এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় বক্তব্য দেন এনসিপি বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোসাদ্দেকুর রহমান মানিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আদিল ইবনে আউয়াল (আরমান), বকশীগঞ্জ পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল মতিন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহ-সেক্রেটারি মোসাদ্দেক আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সভাপতি কারিমুল ইসলাম, এনসিপি বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এমদাদুল হক মিলন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি রেজওয়ানুল হক সিদ্দিক। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক আন্দোলন। এ আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে জুলাই সনদের দ্রুত কার্যকর, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সমাবেশে ছাত্রশক্তির সদস্য মো. জুম্মানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বকশীগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জামালপুরের বকশীগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বকশীগঞ্জ সরকারি গণগ্রন্থাগারের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা, বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মানিক সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মুকাম্মেল হক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নওশেদ আলী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার শাকিল, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার সুমন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশিকুর রহমান তুলন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ রিপনের মা রাহেনা পারভীন, জুলাই যোদ্ধা শহিদুল ইসলাম সানি, নাজমুস সাকিব এবং জুলাইয়ে আহত পরিবারের সদস্য ওয়ালি ইসলাম রাজুর পিতা সাংবাদিক রাজ্জাক মাহমুদসহ অন্যান্যরা। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। শহীদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন, রচনা ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় বক্তারা বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং জাতীয় ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ধারণে নতুন প্রজন্মকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
মহালছড়িতে প্রশাসনের শক্ত অবস্থান: মাদকাসক্ত যুবককে ৬ মাসের জেল
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় মাদকাসক্তি ও জনভোগান্তি প্রতিরোধে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে এক যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন, মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী। বুধবার (০৫ আগস্ট ২০২৬) মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন মোঃ শাহিন (২৫)। তিনি মৃত ফারুখ মিয়ার ছেলে ও মৃত শাহিরুন নেছার সন্তান। তাঁর বাড়ি ১নং ওয়ার্ডের ক্যায়াংঘাট এলাকায়, ৩নং ক্যায়াংঘাট ইউনিয়ন, মহালছড়ি উপজেলা, খাগড়াছড়ি। মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, মাদকাসক্তি, জনভোগান্তি সৃষ্টি এবং সামাজিক দুর্ভোগের কারণ হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, মাদক, অপরাধ ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনে মহালছড়ি উপজেলার সব এলাকায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জুলাই জঙ্গীদের পতন সমাগত: জাবি শিক্ষার্থী
আজ ৫ আগস্ট ( বুধবার) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি লিখেন,"সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করে, দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে, শত শত নিরীহ মানুষের লাশের উপর পারা মেরে রাজনীতি করা জুলাই জঙ্গিদের পতন সমাগত। সত্য প্রকাশিত হবেই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সত্যবাদীদের সাথে আছেন। জুলাই মুর্দাবাদ মুক্তিযুদ্ধ জিন্দাবাদ জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু" এতে জাবি'র সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাবি ছাত্রদল,ছাত্র শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দরা।
চাঁদপুরে মাদক বিরোধী অভিযানের সময় হামলায় এক মৃ/ত্যু
চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযানের সময় হামলায় এক প্রবাসীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে । জানাযায়,শাহমাহমুদপু ইউনিয়নের মান্দারী এলাকায় বুধবার (৫ আগস্ট ২৬) মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে এলাকার যুবকরা।এসময় তাদের দৌড়াদৌড়ি দেখে শাহজাহান পাটোয়ারী নামে এক প্রবাসী তাদেরকে ডাক দেয়।এসময় মাদক বিরোধী অভিযানকারীরা প্রবাসী শাহজাহান পাটোয়ারীকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে করলে চিকিৎসকের কাছে তাকে নেওয়া হয়।অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাকে চাঁদপুর আড়াই শ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতাল নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এব্যাপারে আমেনা বেগম বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ করিয়েছে।তার পাঠানো লোকজন হামলা করে । এব্যাপারে শাহমামুদপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ বলেন, আমি এলাকায় ছিলাম না। আমি প্রোগ্রামে ছিলাম। এব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আমি শুনেছি মাদক বিরোধী অভিযানের সময় একজন মারা গেছে। ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি।
সংঘর্ষের রেশ কাটতেই বেরোবিতে একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির সভাপতি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং উত্তেজনার ঘটনার পরদিনই দুই সংগঠনের সভাপতিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নিতে দেখা গেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন ইসলাম ও ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদ পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় তারা সামনের সারিতে হাঁটেন। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও একই মঞ্চে অংশ নেন। এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ শেষে তারা ফটকের দেয়ালে ‘শিবির রাজাকার মুক্ত ক্যাম্পাস’ লিখে দেন। এ প্রসঙ্গে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রাকিব মুরাদ বলেন, ‘ছাত্রদল কোনো কর্মসূচি করেছে আর আমরা বাধা দিয়েছি—এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। তারা যে “শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস” লিখেছে, সেটিও তারা মুছে দেবে বলে আশা করি।’ ছাত্রদল সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্ম-বর্ণের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা ত্রাসের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেয়েছি। সেই ঐক্য ধরে রেখেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। মতবিরোধ ও সহিংসতা পরিহার করতে হবে, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।’ প্রসঙ্গত, সোমবার ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক ছাত্রশিবিরের একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর উভয় সংগঠন মঙ্গলবার পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রশিবির লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে শিবিরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে রংপুর মহানগর ছাত্রদল শহীদ আবু সাঈদ চত্বর পার্ক মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংঘাত এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মূল ফটক এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করে। পরে ছাত্রদল মূল ফটকে অবস্থান নিলেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করে মিছিলটি শাপলা চত্বরে নিয়ে যায় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করে।