বাংলাদেশ বার্তা টুডে
পঞ্চগড়ে বন্যায় সড়ক ভেঙে বিচ্ছিন্ন কাশেমপুর, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
পঞ্চগড়: পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের কাশেমপুর গ্রামের জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটি বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে। ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো সড়কটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সড়কের একটি অংশ ধসে যাওয়ার পর ওই পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুটিই অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবী ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত জেলা সদরে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের পাশে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্যার পানির চাপে সড়কটির ওই অংশ ভেঙে যায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, কাশেমপুর গ্রামের মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য এটিই একমাত্র সড়ক। দ্রুত সংস্কার করা না হলে জরুরি প্রয়োজনে চলাচলের ক্ষেত্রে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে গড়িনাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার হোসেন দিপু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কোনো বরাদ্দ না থাকায় সড়কটি সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুরে দুধ দিয়ে গোসল করে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা যুবদল নেতার
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় দুধ দিয়ে গোসল করে এবং মায়ের মাথায় হাত রেখে তওবা করে বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুবদলের সাবেক নেতা মাহবুব আলম। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ২ নম্বর গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি এ ঘোষণা দেন। মাহবুব আলম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মাহবুব আলম জানান, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলের কঠিন সময়ে নানা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারাভোগ এবং পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এতে তিনি চরমভাবে হতাশ হয়ে রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “দলের জন্য দীর্ঘদিন ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজ দলের লোকজনের কারণেই হতাশ হতে হয়েছে। তাই মায়ের সামনে তওবা করে এক মণ দুধ দিয়ে গোসলের মাধ্যমে চিরতরে বিএনপির রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন না; পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই সময় কাটাতে চান। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মাহবুব আলমের অভিযোগ ও বহিষ্কারের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি বা যুবদলের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধে প্রাণীদের মধ্যে স্বস্তি, বেড়েছে বিচরণ ক্ষেত্র
প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক, জেলে ও বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় প্রাণিকূলের ও মাছের প্রজনন নির্বিঘ্ন হয়। মানুষের কোলাহল না থাকায় বন্যপ্রাণীরা শান্তিতে ঘুরে বেড়াতে পারে এবং তাদের নিরাপদ বিচরণ ক্ষেত্র অনেক বেড়ে যায়। সুন্দরবনের প্রজনন মৌসুম ও নিষেধাজ্ঞাপ্রতি বছরের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে সাধারণ প্রবেশ ও পাস-পারমিট দেওয়া বন্ধ থাকে।এই সময়ে বাঘ, হরিণ, পাখি, ও নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী কোনো রকম মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে।বনের নদী ও খালগুলোতে মাছেরা নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে, যা জলজ প্রাণীর বংশবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে।বন বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও পাহারা জোরদার করা হয়, যাতে অবৈধ শিকার বা কোলাহল বনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় দুই মাস বনে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার পর সুফল মিলেছে। গত জুলাইয়ে বনের পাঁচটি এলাকায় ৮টি বাঘের দেখা মিলেছে। হরিণও হাঁটতে দেখা গেছে ঝাঁকে ঝাঁকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা দুই মাস বনে সব ধরনের বনজীবী ও পর্যটকের প্রবেশ বন্ধ থাকায় বন্যপ্রাণীদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ কারণে প্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্র বেড়েছে। ২০২৪ সালে করা বন বিভাগের সর্বশেষ জরিপ বলছে, সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে ১২৫টি। আগের বছর ২০২৩ সালে বন বিভাগ ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) জরিপে সুন্দরবনে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪টি হরিণ আছে বলে উল্লেখ করা হয়। সুন্দরবনে হরিণের দেখা মিললেও বাঘ সচরাচর দেখা যায় না। এক মাসে এত বাঘ দেখতে পেয়ে বনকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুই মাস ‘বনে প্রবেশ বন্ধ’ এবং আষাঢ়-শ্রাবণের পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে প্রকৃতিতে। উজানের নদনদী থেকে আসা বৃষ্টির পানিতে দূর হয়েছে বনের নদী ও খালের লবণাক্ততা। এমন নিস্তব্ধ ও রঙিন পরিবেশে স্বস্তি ফিরেছে বাঘ, হরিণসহ প্রাণিকুলে। স্বাভাবিক বিচরণ করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। যা ধরা পড়ছে বনরক্ষী ও বনে স্থাপিত বিভিন্ন ক্যামেরায়। গত জুলাইয়ে অন্তত পাঁচটি বাঘকে বনের বিভিন্ন স্থানে হেঁটে বেড়াতে বা নদীতে সাঁতরে পার হতে দেখেছেন বনকর্মীরা। এর মধ্যে ১৫ জুলাই বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে সুন্দরবন রেঞ্জে একসঙ্গে তিনটি বাঘকে নদী পার হতে দেখেন টহল টিমে থাকা বনকর্মীরা। এর ৯ দিন পরে গত ২৪ জুলাই আন্ধারমানিক বন কার্যালয়ে একটি বাঘকে হাঁটতে দেখা যায়। ২৬ জুলাই শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের টাইগার পয়েন্টের পাশে সাঁতার কেটে নদী পার হতে দেখা যায় আরেকটি বাঘ। এরই মধ্যে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি আন্ধারমানিক ও হাড়বাড়িয়া এলাকায় বনের মধ্যে ক্যামেরা সংযোজন করেছে বন বিভাগ। হরিণ শিকারির ফাঁদে পড়ে অসুস্থ বাঘিনিকে সুস্থ করে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার পর তার গতিবিধি নজরে আনতেই এই প্রচেষ্টা। গত ১৩ জুলাই ক্যামেরা স্থাপনের পর ১৪ ও ২৪ জুলাই সেখানে তিনটি বাঘ দেখা গেছে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, জুন থেকে আগস্ট– এই তিন মাস সুন্দরবনের নদী-খালের মাছের প্রজনন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এ ছাড়া এই সময় বন্যপ্রাণীদেরও প্রজনন মৌসুম। তিন মাস বনে প্রবেশ বন্ধ রাখতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। ২০২০ সালের ২৮ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি হয়। ২০২১ সালের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ বন্ধ থাকে। এবারও বন্ধ রয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বনের যে স্থানে হরিণ বেশি থাকবে, সেখানে বাঘও থাকবে। গত এক বছরে বনে ফুট ট্রেইল (হেঁটে বন পাহারার ব্যবস্থা) বাড়ানোয় বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মালা ফাঁদই উদ্ধার হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ফুট। হরিণের চলাচল বাড়ায় বাঘের বিচরণও বেড়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম এ আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন বন বন্ধ থাকায় এর বাহ্যিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে বনকে বিশ্রাম দিতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় সুন্দরবন বন্ধ রাখা অব্যাহত রাখতে হবে। করোনা অতিমারির উদাহরণ টেনে এই প্রাণী বিশেষজ্ঞ বলেন, ওই সময় সুন্দরবনসহ সারাবিশ্বেই বন্যপ্রাণীর সংখ্যা ও বিচরণ বেড়ে গিয়েছিল। এজন্য বর্ষাকালসহ নির্দিষ্ট কয়েক মাস বনে মানুষের প্রবেশ বন্ধের পরামর্শ দেওয়া হয়।
নদীতে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না শীর্ষ মাদক কারবারি ইলিয়াসের: অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর জেলহাজতে
বাগেরহাটের শরণখোলায় থানা পুলিশের এক সাহসিক ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী ইলিয়াস তালুকদার (৪৩)। তার বসতঘর তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয়েছে দা, চাইনিজ কুড়াল ও চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় ধারালো অস্ত্র। রোববার (২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার রায়েন্দা বাজারের ওয়াপদা কলোনি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াস ওই এলাকার মৃত হাসেম তালুকদারের ছেলে। দীর্ঘদিনের এই ত্রাস ও মাদক কারবারি গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে শরণখোলা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ইলিয়াসের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধূর্ত ইলিয়াস কৌশলে ওয়াপদা কলোনির বাউন্ডারি ওয়াল টপকে পার্শ্ববর্তী নদীর পানিতে ডুব দিয়ে আত্মগোপন করেন। তবে পুলিশের কড়া নজরদারি ও নিখুঁত তল্লাশির মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে নদী থেকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ইলিয়াস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। তার অধীনে ৪ থেকে ৫ জনের একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট দিনরাত ইয়াবার কারবার চালাত। এর আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন। ওয়াপদা কলোনির বাসিন্দা কুলসুম বেগম স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন: "ইলিয়াস এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কারবার করত। মাদকসেবী ও বখাটেদের আনাগোনার কারণে ভয়ে আমরা স্বাভাবিকভাবে ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। এই গ্রেপ্তারে আমরা এখন ঝুঁকিমুক্ত অনুভব করছি।" ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানম জানান, গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে তাকে বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের এই সফল অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বাগেরহাটর প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষর জাল করে তদবির বাণিজ্য, গ্রেফতার ১
বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নাম ও পদবি জাল সাক্ষর ব্যবহার করে অবৈধ তদবির বাণিজ্যের অভিযোগে মো. কামরুজ্জামান টুকু (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মোংলা থানা পুলিশ তাকে উপজেলার চিলা ইউনিয়নের হলদিবুনিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতিমন্ত্রীর নাম ও পদবি সংবলিত একটি সিল ও স্ট্যাম্প প্যাড জব্দ করা হয়েছে। মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার মো. কামরুজ্জামান টুকু উপজেলার চিলা ইউনিয়নের হলদিবুনিয়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে। মোংলা থানা পুলিশ জানায়, প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র অবৈধ তদবির বাণিজ্য করছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু নামে পুলিশ। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে চক্রটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে টুকু শেখকে গ্রেফতার করা হয়। মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে মো. কামরুজ্জামান টুকুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে মন্ত্রীর নাম ও পদবি সংবলিত একটি সিল ও স্ট্যাম্পেট জব্দ করা হয়েছে। এসব সামগ্রী ব্যবহার করে প্রতিমন্ত্রীর পরিচয় ও পদবি কাজে লাগিয়ে অবৈধ তদবির বাণিজ্য করে আসছিল সে। এ ঘটনায় মোংলা থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হরিপুরে জরাজীর্ণ কাঁচা রাস্তা রাবিশ দিয়ে চলাচলের উপযোগী করে দিলেন ইউএনও
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ফালডাঙ্গী গ্রামে যাওয়ার জরাজীর্ণ কাঁচা রাস্তাটি হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চন্দন কর রাবিশ (ইটের খোয়া) দিয়ে গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য উপযোগী করে দিলেন। গতকাল শনিবার দুপুরে ফালডাঙ্গী চৌরাস্তা থেকে গ্রাম পর্যন্ত এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় গ্রামের যুবসমাজ স্বেচ্ছায় শ্রমদিয়ে রাস্তাটি মেরামত করে। ঠাকুরগাঁওয়ের ফালডাঙ্গী গ্রামের কৃষক বেলাল উদ্দিন ও দৌলত বলেন, দীর্ঘদিন গ্রামের এই কাঁচা রাস্তাটি বেহাল দশা হয়ে পড়েছিল। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে থাকতো এবং পুরো রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে যেত। এতে রাস্তায় চলাচল করা যেতনা। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক করিমুল হক বলেন, এটি আমার গ্রামের বাড়ির রাস্তা, বৃষ্টির কারণে রাস্তাটি দিয়ে চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। এটি পাকা করণের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চন্দন কর বলেন, বর্ষাতে রাস্তায় বড় বড় গর্ত হওয়ায় স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, বৃদ্ধ ও মানুষের পথ চলাচলের খুব কষ্ট হচ্ছিল। স্থানীয় যুবসমাজের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই রাস্তায় রাবিশ দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নের গতিপথে বিকেন্দ্রীকরণের অপরিহার্যতা
রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রমকে কার্যকর, জনবান্ধব ও টেকসই করতে প্রশাসনিক কাঠামোর আধুনিকায়ন ও সংস্কার এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের অপরিহার্য দাবি। নাগরিকদের জন্য প্রদেয় জনসেবার মান উন্নয়ন, সেবাগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনা—এসব লক্ষ্য অর্জনে একটি দক্ষ ও বিকেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক ব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনো মূলত কেন্দ্রনির্ভর, যা কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে প্রণীত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা কিংবা স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোর প্রায় সবই কেন্দ্রীয়ভাবে গৃহীত হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন, বাজেট বরাদ্দ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়ন—সবকিছুই মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড একটি অতিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ থেকে যাচ্ছে, যেখানে স্থানীয় বাস্তবতা, বৈচিত্র্য ও চাহিদার যথাযথ প্রতিফলন অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। অতিকেন্দ্রীকরণের এই প্রবণতা কেবল উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি ও কার্যকারিতাকেই ব্যাহত করছে না; বরং এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক শাসনের ক্ষেত্রেও অন্তরায় সৃষ্টি করছে। স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা, সম্ভাবনা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে যাদের প্রত্যক্ষ জ্ঞান রয়েছে, তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনা অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয়ের অপচয় এবং কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে জনগণের বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। তাই উন্নয়নকে গণমুখী ও বাস্তবমুখী করতে হলে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে নীতিগত বক্তব্য, প্রস্তাব এবং আংশিক উদ্যোগ দেখা গেলেও কার্যকর ও টেকসই কোনো কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। ১৯৮০-এর দশকে উপজেলা পরিষদ গঠনের উদ্যোগকে এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণের একটি কাঠামো তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ প্রবণতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা পায়নি। ফলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার বদলে অনেক ক্ষেত্রে নির্ভরশীল ও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বাস্তবতা হলো, একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। বিকেন্দ্রীকরণ মানে কেবল ক্ষমতা হস্তান্তর নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পনা গ্রহণ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সেবাদানের ক্ষেত্রে বাস্তব ক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রদান করা হয়। একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়বে, অন্যদিকে জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিও নিশ্চিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট প্রণয়ন, কর আহরণ এবং তহবিল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তাদের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত না করা হলে প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিমালা ও দিকনির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে নিজস্ব পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং কার্যকর তদারকি কাঠামো। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার বিকাশ ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা বিদ্যমান। এসব অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নে নতুন করে কোনো কমিশন গঠন বা আনুষ্ঠানিকতা সৃষ্টির চেয়ে অধিক জরুরি হলো—বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন এবং তার কার্যকর প্রয়োগ। নীতিগত প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব উদ্যোগে রূপান্তর করতে পারলেই কেবল বিকেন্দ্রীকরণের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। অবশেষে বলা যায়, উন্নয়নকে যদি সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং জনগণমুখী করতে হয়, তবে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ আর কোনো বিকল্পহীন ধারণা নয়—এটি এখন অপরিহার্য বাস্তবতা। কেন্দ্র ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, ক্ষমতার সুষম বণ্টন এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই কেবল একটি শক্তিশালী ও জনগণকেন্দ্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। এখন দেখার বিষয়—নতুন সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং বাস্তব পদক্ষেপ নিতে কতটা আন্তরিকতা প্রদর্শন করে। লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
বোদায় রাস্তা কেটে দেওয়ার অভিযোগ ১০ পরিবারের দুর্ভোগ: প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান শাহীন আলম
বোদা (পঞ্চগড়): পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ১ নম্বর সাকোয়া ইউনিয়নের নয়াদিঘী এলাকায় দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১০টি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মো. শাহীন আলম, গ্রাম—নয়াদিঘী, ইউনিয়ন—সাকোয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড, বোদা, পঞ্চগড়। আবেদনে বলা হয়, নয়াদিঘী এলাকায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার একটি রাস্তা ব্যবহার করে নিয়মিত চলাচল করে আসছেন। ওই রাস্তা দিয়ে পায়ে হাঁটার পাশাপাশি ভ্যান ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করত। অভিযোগকারী মো. শাহীন আলমের দাবি, সম্প্রতি রাস্তার একটি অংশ কেটে দেওয়ায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ১০টি পরিবারের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমানে রাস্তা দিয়ে অটো ও ভ্যান চলাচল করতে পারছে না। এতে দৈনন্দিন যাতায়াতসহ কৃষিপণ্য ও প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। লিখিত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাস্তার পানি নিষ্কাশনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আগে দুটি কালভার্ট স্থাপন করা হয়েছিল। পরে সেগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারী মো. শাহীন আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রাস্তাটি কেটে দেওয়ায় প্রায় ১০টি পরিবার চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাস্তাটি পুনরায় চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ইয়াবা প্রবেশের চেষ্টায় আটক ১
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর মেট্রো থানার আওতাধীন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি স্ত্রীর কাছে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে রেজাউল করিম (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে কারাগারের প্রধান ফটকে তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ১২৭ পিস ইয়াবা, নগদ ৪৩ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে খবর পেয়ে কোনাবাড়ি মেট্রো থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পুলিশ জানায়, মাদক মামলায় কারাগারে থাকা স্ত্রী আফরোজা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাতের নামে তিনি কারাগারের ভেতরে মাদক সরবরাহের চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া রেজাউলের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জলমগ্ন মহালছড়িতে স্বস্তির ছোঁয়া: বন্যার্তদের পাশে এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার প্রতিনিধি
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। কাজুকো ভূঁইয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সহযোগিতায় এবং মাল্টি সার্ভ ইন্টারন্যাশনাল (এমএসআই)-এর ব্যবস্থাপনায় রবিবার (২ আগস্ট ২০২৬) খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। দিনের শুরুতে খাগড়াছড়ির গোলাবাড়ি এলাকায় উপস্থিত থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন ২৯৮ নং আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। একই সময়ে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে মহালছড়ি উপজেলায় উপস্থিত থেকে ১০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন, মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ ছানোয়ার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আব্দুল ছাত্তার, যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ শরিফুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ নুরুল ইসলাম, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুবেল,শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ বেলাল হোসেন সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বক্তারা বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কষ্ট লাঘবে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন পরিস্থিতিতে ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে জরুরি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ায় উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি এবং খাগড়ছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভাই এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশ্বনাথে ‘প্রবাসী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’র পক্ষ থেকে নগদ অর্থ বিতরণ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ভূরকী, ইশবপুর, হামজাপুর, মিরপুর ও একানিধা গ্রামের রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের সামাজিক সংগঠন ‘প্রবাসী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন’র পক্ষ থেকে নগদ অর্থ বিতরন করা হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) বাদ জোহর স্হানীয় ভূরকী হাবিবিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসা হলরুমে লামাকাজী ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ১১০ টি প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের মাঝে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভূরকী হাবিবিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার বড় হুজুর আলহাজ্জ হাফিজ আব্দুশ শহীদ। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সৎপুর দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলহাজ্জ মাওলানা শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সৎপুর দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর মো. নোমান। প্রবাসী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. দিলোয়ার হুসাইনের সভাপতিত্বে সংগঠনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত
আল্লাহর পরিচয় ও কর্তৃত্ব: কুরআনের আলোকে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর ব্যাখ্যা
আল্লাহর পরিচয় ও কর্তৃত্ব: কুরআনের আলোকে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর ব্যাখ্যা নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” আল্লাহর পরিচয়, আল্লাহ কে? এই প্রশ্ন মানবজাতির চিরন্তন অনুসন্ধান। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনের আলোকে তুলে ধরেছেন মহান আল্লাহর পরিচয়, কর্তৃত্ব ও মানুষের প্রতি তার নির্দেশনার প্রকৃত রূপ। কুরআনের সূরা ইউনুসের তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ নিজেই জানিয়েছেন, তিনি আসমান-যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং বিশ্বজগতের শাসনকর্তা হিসেবে সমাসীন আছেন। তিনি বলেন, সৃষ্টির পর আল্লাহ কোনোভাবেই নিস্ক্রিয় নন বরং তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রতিটি ঘটনার গতিপথ। মানবজাতি অনেক সময় ভুলভাবে মনে করে, এই বিশাল জগত যেন এমনি করেই চলছে, কেউ যেন নিয়ন্ত্রণ করছে না। অথচ কুরআন স্পষ্টভাবে বলছে, প্রতিটি ঘটনাই আল্লাহর হুকুম ও অনুমতিক্রমে সংঘটিত হয়। শুধু সৃষ্টি করাই নয়, আল্লাহ এই বিশ্বজগতের প্রতিপালক, শাসক ও পরিচালক। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তেমনভাবেই এই জগত চালান এবং এই শাসন ব্যবস্থার একজনই মালিক। আল্লাহর এই রুবুবিয়াত বা সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা মানেই তারই ইবাদত করা আবশ্যক। ইবাদতের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো দাসত্ব, আনুগত্য এবং প্রভুর প্রতি শ্রদ্ধা। আরও ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসাই মুমিনের শক্তি ধৈর্য ও আল্লাহর উপর ভরসাই মুমিনের শক্তি এই ইবাদত কেবল নামাজ, রোজা, হজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী চলাই তার প্রকৃত রূপ। একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর নির্দেশই চূড়ান্ত এবং তার বাইরে অন্য কোনো কর্তৃত্ব স্বীকৃত নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী মানুষ নিজেকে আল্লাহর দাস হিসেবে গড়ে তোলে। আল্লাহর এই পরিচয় জানার পর মানুষের উচিত একমাত্র তাঁর কাছেই মাথা নত করা, তারই আইন ও বিধান অনুযায়ী জীবন গঠন করা এবং অন্য কোনো শাসক বা প্রভুর কাছে আত্মসমর্পণ না করা। ইবাদতের এই তিনটি স্তরই আল্লাহর একক অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি বহন করে। কুরআনে আরও বলা হয়েছে, আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবীর আলো। এই আলোর ব্যাখ্যায় তিনি এমন একটি চিত্র তুলে ধরেছেন যা নিঃসন্দেহে মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর প্রভূত্ব ও করুণা সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি করে। এটি এমন এক আলো, যা সবদিক থেকে পরিপূর্ণ ও শুদ্ধ, যা আল্লাহ যাকে চান তারই অন্তরে প্রবেশ করান। সবশেষে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী দোয়া করেন, মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তার হুকুম মেনে চলার তাওফিক দান করেন এবং তারই নির্দেশনায় জীবন পরিচালনার শক্তি দান করেন। আমিন। লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
জকিগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর প্রস্তুতি: ধর্মীয় নেতৃত্ব, সামাজিক আস্থা ও রাজনীতিতে নতুন মাত্রা
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক, আধ্যাত্মিক সমাজসেবক এবং সালিশি ব্যক্তিত্ব সর্বজন শ্রদ্ধেয় হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জকিগঞ্জের রাজনীতিতে তিনি নিজেকে একজন সামাজিক ঐক্য ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, সামাজিক উন্নয়ন এবং পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশি ভূমিকা পালন করে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। একজন লেখক ও কলামিস্ট হিসেবেও তিনি সমাজ, নৈতিকতা, শিক্ষা ও নাগরিক সচেতনতা নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করে আসছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের চাহিদা বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর দীর্ঘ সামাজিক ও ধর্মীয় অভিজ্ঞতা তাঁকে একটি আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যার মধ্যে রয়েছে- প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম, সিলেট। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সিলেটস্থ দুধরচক ঐক্য সংগঠন স্বত্বাধিকারী, ড্রিম ড্রেস সিদ্দিক প্লাজা, (দ্বিতীয় তলা) মেজরটিলা, ইসলামপুর, সিলেট। ভাইস প্রেসিডেন্ট, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, সিলেট বিভাগ। ভাইস প্রেসিডেন্ট, কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটার্স ওয়ার্ল্ড, সিলেট বিভাগ। স্টাফ রিপোর্টার, জাতীয় দৈনিক বিকাল বার্তা, ঢাকা। স্পেশাল রিপোর্টার, দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ, সিলেট। সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল-ইসলাহ, ২৪নং ওয়ার্ড, সিলেট মহানগর। সাবেক ইমাম ও খতীব, কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ (রহ.) মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব, তৈয়ব কামাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ- সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক, তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল (রহ.) লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা সিলেট। সাবেক প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, উপশহর, সিলেট। উপদেষ্টা, হাবিবিয়া ওয়েলফেয়ার অরগানাইজেশান, জকিগঞ্জ, সিলেট। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা উপজেলা নির্বাচনের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে- জকিগঞ্জে এবার কি ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক বার্তা তৈরি হতে যাচ্ছে? স্থানীয়দের ভাষ্য, যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন, তাহলে জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামাজিক নেতৃত্ব বনাম প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে।
সুস্থ সংস্কৃতি চর্চাই গড়বে মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: ত্রাণমন্ত্রী দুলু
সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা একটি মানবিক, সৃজনশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, “শিশু-কিশোররা যদি পড়ালেখার পাশাপাশি সংগীত, আবৃত্তি, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে, তবে তারা মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে। এর মাধ্যমেই তারা দেশপ্রেমিক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।” রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির হলরুম, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের শক্তিশালী হাতিয়ার। বর্তমান প্রজন্মকে সুস্থ ধারার সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে একটি আলোকিত, সহনশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সংস্কৃতি চর্চার আরও শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী, সংগীতজ্ঞ ও আবৃত্তিকার তৈরি হবেন, যারা দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন। জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পাল জানান, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। প্রতিষ্ঠাতা আসাদুল হাবিব দুলুর এই পরিদর্শন প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে এক নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আল আমিন সরকার, বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা লিমন এবং জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিপ্লব পাল প্রমুখ। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত পটভূমি: ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘জলতরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ লালমনিরহাটের বড়বাড়ী অঞ্চলে শুদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা বিস্তারে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
সুন্দরবনের ঢাংমারী খালে ছাগল শিকার করল বিশাল কুমির
সুন্দরবনের ঢাংমারী খালে ছাগল শিকার করল বিশাল কুমির