বাংলাদেশ বার্তা টুডে
সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে রাউজানে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী সম্পন্ন
বাংলাদেশ সরকারের "৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ" জাতীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান। কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য হলো "বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়"। তারই ধারবাহিকতায় গত ১লা আগষ্ট শনিবার সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম জেলা কমিটি এর উদ্যোগে রাউজানের ১২নং উরকিরচর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কের পাশে বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপন ও বিতরণ করা হয় । এসময় সংক্ষিপ্ত আলোচনা জেলা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক রতন বড়ুয়ার পরিচালনায় ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অরুপ চন্দ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ১২নং উরকিরচর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিবস বড়ুয়া, সংগঠনের কার্যকরী সদস্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক সুপণ বিশ্বাস, সাংবাদিক মিলন বৈদ্য শুভ, সাংবাদিক সঞ্জয় বড়ুয়া মুন্না, পূর্বআবুরখীল তালুকদারপাড়া সার্বজনীন শ্মশান সংস্কার ও পল্লী উন্নয়ণ কমিটির সহ-সম্পাদক সিপলু বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক চন্দন বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক জনি বড়ুয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক সুজিত বড়ুয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক আশু বড়ুয়া, শ্মশান বিষয়ক সম্পাদক স্বপন বড়ুয়া, কার্যকরী সদস্য রুবেল বড়ুয়া টিপুল প্রমুখ। বক্তারা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ভাঙ্গায় দালালমুক্ত সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জোর, বিভিন্ন উদ্যোগ ইউএনওর
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক সেবার স্বচ্ছতা, দালালমুক্ত সরকারি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে সরকারি সেবা আরও সহজ ও জনবান্ধব হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বাবুলের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ভাঙ্গাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ইউএনও মাহমুদুল হাসান উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেবাগ্রহীতারা যাতে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি সরকারি সেবা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, কৃষি বিভাগে কৃষকদের মাঝে সরকারি প্রণোদনা, সার ও বীজ বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। সমাজসেবা ও মহিলা বিষয়ক দপ্তরের মাধ্যমে বয়স্ক, বিধবা ও অন্যান্য ভাতাভোগীদের সুবিধা যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্প এবং ত্রাণ বিতরণেও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন অফিস, ভূমি অফিস ও অন্যান্য সেবামূলক দপ্তরে সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং হয়রানি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। শিক্ষা খাতে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। সমাজে বাল্যবিয়ে, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ভূমি সেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু ও সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, “সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের ভোগান্তি কমানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সরকারি সেবা গ্রহণে আগের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
খানাখন্দে ঝুকিপূর্ণ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা
উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক এখন যেন এক দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ পথ। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ, বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে থাকায় বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী ও চালকরা। প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী ও চালকরা। বিশেষ করে বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পিচ ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় ছোট ছোট গর্ত এখন বড় আকার ধারণ করেছে। ভারী যানবাহনের চাপ, টানা বর্ষণ এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন শ্রমিক এবং সওজ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের প্রায় ৩০টি পয়েন্টে বড় ধরনের খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, পাটগ্রাম এবং বিশেষ করে বুড়িমারী স্থলবন্দরসংলগ্ন অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক স্থানে যানবাহনকে গতি কমিয়ে একপাশ দিয়ে চলতে হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট এবং সময় নষ্ট হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেলসহ হাজারো যানবাহন চলাচল করে। ভারত ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার বুড়িমারী স্থলবন্দরেও এই সড়কই একমাত্র ভরসা। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে সময় বাড়ছে, পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ট্রাকচালকরা জানান, বড় বড় গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক সময় বিপরীত লেনে চলে যেতে হয়। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। রাতের বেলায় কিংবা বৃষ্টির সময় গর্তগুলো বোঝা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বুড়িমারী স্থলবন্দরের ট্রাকচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “এই সড়কে এখন স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো যায় না। দুর্ঘটনার কথা ভেবে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরগতিতে চলতে হয়। এতে নির্ধারিত সময়সূচি রক্ষা করা সম্ভব হয় না। আমি দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ট্রাক চালাই, কিন্তু লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের মতো বেহালদশার সড়ক কোথাও দেখতে পাই না। কোনদিনই এই মহাসড়কের তেমন কোনো উন্নতি দেখি নাই।” আমদানি ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী শামিম আহমেদ খান জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। সড়কের কারণে অনেক ট্রাক বিকল হচ্ছে। যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে, জ্বালানি খরচও বেড়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের পরিবহন ব্যয়ের ওপর পড়ছে। মহাসড়কের নাজেহাল অবস্থা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যকে নাজেহাল করছে। এতে আমরা অর্থনীতিতে বিশেষ ধাক্কা খাচ্ছি। মোটরসাইকেল চালক মিলন বলেন, ছোট যানবাহন, বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার জন্য এই সড়ক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকে আহত হচ্ছেন। মাঝে-মধ্যে ইটের খোয়া বা নিম্নমানের বিটুমিন দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। বুড়িমারী স্থলবন্দরের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস (সি অ্যান্ড এফ) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, সীমান্ত বাণিজ্য এবং লাখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের দ্রুত ও স্থায়ী সংস্কারের বিকল্প নেই। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে এবং এর অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে থাকবে। লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কটি নিয়মিত মেরামত করা হলেও পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে তা বেশি টিকে না। বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে প্রতিটি ট্রাকে ৪০ থেকে ৫০ টন পাথর পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৫০০টি পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচল করে। বিশেষ করে ডাম্প ট্রাকগুলো বেশি ক্ষতি করছে। লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, “গেল অর্থবছরে সড়কটি মেরামতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি বরাদ্দের টাকা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাটের পাশাপাশি সাময়িক সংস্কার করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার শুরু করা হবে।
নেত্রকোনায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে ধ/র্ষ/ণের অভিযোগে মামলা, ধ/র্ষ/ক পলাতক
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ৩৩ বছর বয়সী এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জাহেদ আলী (২২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ডেমুরা গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মোঃ জাহেদ আলী (২২)। তিনি একই গ্রামের নওয়াব মিয়ার ছেলে। বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) শফিকুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিন্ত করেন। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, গত ২৮ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে অভিযুক্ত জাহেদ মিয়া কৌশলে ওই তরুণীকে কামাল মিয়ার বাড়ির রান্না ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরদিন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে ধর্ষণের ঘটনার কথা জানান। পরে ৩০ জুলাই ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীর মা বলেন, আমি আমার মেয়েকে ৩০ বছর ধরে খুব যত্নে লালন-পালন করছি। প্রতিবন্ধী মেয়েটি আমাদের পরিবারের সবার আদরের। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অন্যদিকে, অভিযুক্তের মা ও স্ত্রী অভিযোগ স্বীকার স্বীকার করে তাদের বক্তব্যে বলেন, তারা ভুক্তভোগীকে বিয়ে করাতে রাজি আছেন। বারহাট্টা থানার তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোনারগাঁওয়ে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল করে গ্যারেজ নির্মাণের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দত্তপাড়া এলাকায় পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নাদিম হোসেনের বিরুদ্ধে জমি দখল করে গ্যারেজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সে একটি বিরোধপূর্ন জমিতে গ্যারেজ নির্মাণ করে। এ ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, সোনারগাঁও পৌরসভার চৌদানা মৌজায় ১ একর ৭২ শতাংশ জমি নিয়ে গোলাম মোস্তফা বাবুলের সঙ্গে সনজিত কুমার দে এ বিরোধ দেখা দেয়। এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে এ জমির মালিকানা নিয়ে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। উভয় পক্ষকে স্থিতিবস্থায় বজায় রাখার জন্য আদালত নোটিশ জারি করে। জারিকৃত নোটিশ ওই জমিতে সাটানো হয়েছে। সম্প্রতি পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নাদিম হোসেন জোরপূর্বক ওই জমির পুরাতন ভবনে চালা দিয়ে গ্যারেজ নির্মাণ করে। আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে জমির মালিকানা দাবিদার দুই পক্ষ জমিতে অবস্থান না করলেও ছাত্রদল নেতা নাদিম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই জমিতে গ্যারেজ নির্মাণ করে। এতে করে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি ওই এলাকায় সমালোচনা হয়। এদিকে ৩ একর দুই শতাংশ জমি গোলাম মোস্তফা বাবুলের কাছ থেকে আল মোস্তফা গ্রুপ ক্রয় করে নেন। এর মধ্যে ১ একর ৭২ শতাংশ জমি নিয়ে গোলম মোস্তফা বাবুল ও সনজিদ কুমার দে এর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ জমির মালিকানা নিয়ে সনজিত কুমার দে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের ছত্রছায়ায় ছাত্রদল নেতা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এর আগেও সরকারী গ্যাস চুরি করে একই স্থানে অবৈধ চুনা কারখানা গড়ে তোলে। তিতাস কর্তৃপক্ষ একাধিবার তার অবৈধ চুনা কারখানা গুড়িয়ে দেয়। এ জমিতে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও পুরাতন ভবনের চালা ব্যবহার করে গত এক সপ্তাহ ধরে রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটর সাইকেলের গ্যারেজ নির্মাণ করেন। গোলাম মোস্তফা বাবুল জানান, জমির মালিকনা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মামলা মোকদ্দমা চলছে। বিচারাধীন জমিতে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রদল নেতা দখল করে গ্যারেজ নির্মাণ করছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির জন্য রয়েছে। শুনানী শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেখানে উভয় পক্ষকে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন আদালত। সেখানে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ছাত্রদল নেতা এ জমি দখল করে গ্যারেজ নির্মাণ করেন। সনজিত কুমার দে জানান, পৈত্রিক সূত্রে এ জমির মালিক তিনি। হঠাৎ ক্রয় সূত্রে মালিকানা দাবি করে গোলাম মোস্তফা বাবুল জমি একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করেন। এ জমি নিয়ে মামলা মোকদ্দমাসহ বিভিন্্ন ঘটনার ঘটে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সম্মান দেখিয়ে আমরা দু’পক্ষ ওই জমিতে যাই না। ছাত্রদল নেতা সরকার দলের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। সেখানে গ্যারেজ নির্মাণ করে। এর আগেও এ ছাত্রদল নেতা সরকারী গ্যাস চুরি করে এখানে চুনা কারখানা গড়ে তোলে। এ নেতার একের পর এক অপকর্ম দল মেনে নিচ্ছে। অভিযুক্ত সোনারগাঁও পৌরসভার ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নাদিম হোসেনের সঙ্গে একাধিবার যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ক্ষুদে বার্তা দিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি। সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়া ও বিরোধপূর্ন জমিতে গ্যারেজ নির্মাণের বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোনারগাঁও আষাঢ়ির চর এলাকার ব্রীজের বেহাল দশা, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল হাজার যানবাহন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আষাঢ়িয়াচর ২ নং সেতুর ঢাকামুখী লেনে মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যেন মরণ ফাঁদে তৈরি হয়েছে । প্রতিদিন এ সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো যানবাহন। সেতুর ডেক স্ল্যাবের ওই গর্ত দিয়ে নিচের পানি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুর এমন অবস্থা যেন দেখার কেউ নেই । দ্রুত স্থায়ী সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এ সড়কের পথচারী ও স্থানীয়রা। এদিকে শুধু সেতুর অবস্থা নয়, এ সেতুর দু’পাশে পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিনত হয়। এতে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় সেতুর রাস্তা দিয়ে । সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে সেতুর মাঝামাঝি অংশের ডেক স্ল্যাব ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনকে গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সেতু পার হতে হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছে, ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুতে কম্পনও অনুভূত হয়। রাতের অন্ধকার বা বৃষ্টির সময় গর্তটি স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে ঝুঁকি কমাতে এখনো দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে শুধু সেতুর মূল অংশই নয়, পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ে রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিনত হয়। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং কোথাও কোথাও বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আগাছায় ঢেকে পথটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার উপরে স্ল্যাব না থাকায় পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে সেতুর রাস্তা দিয়ে সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ কোম্পানি, বসুন্ধরা কোম্পানি, আল-মোস্তফা কোম্পানি, টাইগার পাওয়ার হাউজসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন হেটে চলাচল করছেন। সামান্য অসাবধানতায় দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তাঁরা। ট্রাকচালক মহসিন মিয়া সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, আষাঢ়িয়াচর দ্বিতীয় সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সেতুর মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কার না করলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় আষাঢ়িয়াচর গ্রামের সুমন আলম বলেন, কয়েক মাস আগেও একই স্থানে গর্ত হওয়ার পর নামমাত্র সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু কাজটি টেকসই না হওয়ায় আবারও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই মানসম্মতভাবে সংস্কার করা হলে আজ এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। উপজেলার পিরোজপুরের রতনপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন মধু সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, তিনি প্রতিদিন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যায় এ সড়ক দিয়ে । আষারিয়ারচর ২য় সেতুর এ বেহাল অবস্থা মাঝখানে মরণ ফাদ যেন দেখার কেউ নেই। সেতুর সাইডে মানুষ যাতায়াত এর রাস্তার স্লাব কি হইছে তাও কর্তৃপক্ষ দেখে না। সেখানে এখন ঘাস হয়ে গেছে । এই রাস্তাটি দিয়ে সাধারন নিম্ন আয়ের মানুষগুলো ঝুকি নিয়ে চলাফেরা করে। একটু হোচট খেলেই গাড়ির তলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু ও পথচারীদের চলাচলের অংশ ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত, ওয়াকওয়ে নিরাপদ করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, মহাসড়কের আষাঢ়িয়াচর ২ নম্বর সেতুর গর্তের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। প্রাথমিকভাবে গর্তের ওপর স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে। পরে নিচ দিয়ে শাটারিং করে স্থায়ীভাবে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে। বৃষ্টির কারণে রাস্তার কাজ শেষ করা যায়নি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন হবে।
JKKNIU-SDC এর ‘Industry Visit 3.0’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় স্স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্লাব (JKKNIU SDC)-এর আয়োজনে Industry Visit 3.0 সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীরা ঢাকার শ্যামপুর, কদমতলীতে অবস্থিত Igloo Ice Cream Factory পরিদর্শন করেন। এই ইন্ডাস্ট্রি ভিজিটে মোট ৩৫ জন অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ছিলেন ৩২ জন শিক্ষার্থী এবং ক্লাবের ৩ জন সাবেক ও ট্রাস্টি বডি সদস্য— জাহিদুল হাসান (সাবেক সভাপতি), মনিরুল ইসলাম (সাবেক সাধারণ সম্পাদক) এবং লুৎফুল নাসিফ (সাবেক সাধারণ সম্পাদক)। পরিদর্শনের সময় অংশগ্রহণকারীরা Igloo Ice Cream Factory-এর বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং আইসক্রিম উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করেন। ফ্যাক্টরির আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা, মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া (Quality Assurance), স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। সেশনের প্রধান বক্তা ছিলেন এ. কে. এম. আলী রেজা, Assistant General Manager (QA), Igloo Ice Cream Factory। তিনি Igloo-এর উৎপাদন প্রক্রিয়া, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, বিভিন্ন পণ্যের বৈচিত্র্য এবং খাদ্যশিল্পে ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ধরনের ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব শিল্পপরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, কর্পোরেট সংস্কৃতি বোঝা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। JKKNIU Skill Development Club শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, বাস্তবমুখী শিক্ষা এবং শিল্প-একাডেমিয়ার সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করবে।
সোনারগাঁও বেনারসি শাড়ি পড়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জামপুর ইউনিয়নের শিংলাবো এলাকায় প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেছেন সুমি আক্তার (২৮) নামে এক তরুণী। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে তিনি প্রেমিক নাঈম মিয়ার বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন। সুমি আক্তার নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত নাঈম মিয়া সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের শিংলাবো এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে সুমি ও নাঈমের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সময় নাঈম তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন বলে দাবি করেন সুমি। তবে সম্প্রতি বিয়ের বিষয়ে নাঈম পিছিয়ে গেলে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে এসে অনশন শুরু করেন। সুমি আক্তারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পরও নাঈম বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন না। বিয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানান। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে নাঈমের মা বলেন, মেয়ের মা আসুক। তিনি যদি বলেন যে আমার ছেলে তার মেয়ের সঙ্গে প্রেম করেছে, আর সেটি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা তাদের দুজনের বিয়ে দিয়ে দেব। তবে এ ঘটনায় নাঈম আত্বগোপন থাকায় তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বোয়ালখালীতে পুলিশের অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত আসামি ইয়বাসহ গ্রেপ্তার
বোয়ালখালী উপজেলায় পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ খোকন (৩০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (১আগস্ট) ভোরে বোয়ালখালী থানার একটি আভিযানিক দল পৌরসভার আরকান সড়কের গোমদণ্ডী ফুলতল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার প্যান্টের পকেটে থাকা পলিথিনে মোড়ানো ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত খোকন কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর আহমদের পুত্র। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত খোকন আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসমি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজতে থাকা ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করি। খোকন দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালীতে বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছিলেন বলে জানায় পুলিশ। বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় বোয়ালখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানাই তিনি।
মহাদেবপুরের চেরাগপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আয়োজনে শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ৯ নং চেরাগপুর ইউনিয়ন জাতীয়য়তাবাদী কৃষকদলের আয়োজনে ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টার সময় ইউনিয়নের চৌমাশিয়া রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মনিমুল ইসলাম চঞ্চল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, সহ-সভাপতি ইরুল কায়েস সাজু, চেরাগপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামাল সবুজ, ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম বেলু, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ইসলাম সাইফ সহ কৃষকদল, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করা এবং তাদের মাঠমুখী করতে ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর আয়োজন করা হয়েছে।
রংপুরে আপত্তিকর প্রস্তাবের অভিযোগে অধ্যক্ষ অপসারিত, তদন্ত চলছে
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বহুভাষী সাটলিপি প্রশিক্ষণ একাডেমির (বিএম কলেজ) ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মুঠোফোনে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া প্রায় ৩ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি অডিওতে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ভালো নম্বর এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ছাত্রীকে আপত্তিকর প্রস্তাব দিতে শোনা যায় অভিযুক্ত শিক্ষককে। তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে ছাত্রী ওই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং শিক্ষককে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বুধবার (২৯ জুলাই) কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। অভিযোগকারী ছাত্রী বলেন, ‘বাবা-মায়ের পরই শিক্ষকের স্থান। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি শিক্ষকতার মর্যাদা হারিয়েছেন। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাদের মুঠোফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান তিনি। পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, ‘অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রশাসনিক ও আইনি বিধান অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাগেরহাটে নির্মাণাধীন ভবনের দেওয়াল ধসে শ্রমিক নিহত
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের দেওয়াল ধসে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের দেয়াল ধসে মো. আতিয়ার রহমান (৪৫) নামের এক শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে।এ সময় ঘটনাস্থলে আরও দুইজন আহত হয়েছেন। গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নরম হয়ে যাওয়া মাটির চাপে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঘুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আতিয়ার রহমান যশোরের আশরাইল গ্রামের মো. বদরউদ্দিনের ছেলে। আহতরা হলেন- নয়ন ও মমিনুল। মোড়েলগঞ্জে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুর রহমান জানান, বৃষ্টিতে নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের চারপাশের মাটি নরম হয়ে যায়। এ সময় ট্যাংকের ভেতরে কাজ করার সময় হঠাৎ দেওয়াল ধসে শ্রমিকদের ওপর পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আতিয়ার রহমানকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আহত দুই শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নড়াইলের লোহাগড়ায় জাল দলিলে নামজারি
উপজেলার কচুবাড়িয়ায় জাল দলিল ব্যবহার করে জমি নামজারি করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কাজে ভূমি অফিসের নায়েব ও এসিল্যান্ড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত। তারা লোহাগড়ার একটি শক্তিশালী ভূমি জালিয়াত চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। উজ্জ্বল রায়. নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর শহরের ৯৬ নং কচুবাড়িয়া মৌজায় আরএস ২৫৯ নং খতিয়ান থেকে শ্রী সুভাস চন্দ্র দাশ ১৯৯৭ সালের ১৩ মার্চ ১২২৪ নং দলিলের মাধ্যমে শ্রী খোকন কুমার দাশ’র নিকট থেকে ৬১ শতক জমি ক্রয় করেন। দলিলে উল্লেখিত আরএস ২৫৯ নং খতিয়ানের দুটি দাগে সর্বমোট ২০ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক দং মফিজুর রহমান। উক্ত দলিলে গ্রহীতা সুভাস চন্দ্র দাশ একই মৌজার আরএস ২৬২ নং খতিয়ান অর্ন্তভূক্ত করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ১২২৪ নং ভিন্ন একটি দলিল তৈরি করে। এরপর চক্রটি এসিল্যান্ড ও ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিগত ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর নামজারী কেস নং ৮৯১/১৯-২০ মাধ্যমে সর্বমোট ১৯টি দাগের ৮৯ শতক জমি নায়েব মোল্যা মো: হায়দার আলীর প্রতিবেদনে শুনানী ছাড়া একতরফা অতি গোপনে পৃথক ৯০৩ নং নামজারী খতিয়ানভূক্ত করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুকুল কুমার মৈত্র। উক্ত খতিয়ানে বিবেকানন্দ দাস’র একাধিক দাগ ও জগন্নাথ পাল’র ৩ শতক ক্রয়কৃত জমি ২০০৭ সালে নামজারী ২৬২/১ পৃথক খতিয়ানভূক্ত করে কর খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। অথচ এই এই জালিয়াতির খতিয়ানে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। বাদ যায়নি ২১১ নং দাগের সরকারী ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমি। সরকারী কাচা রাস্তা অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে ব্যক্তি মালিকানার এই খতিয়ানে। অপরদিকে পৈর্তৃক ও ওয়ারেশ সূত্রে স্বত্বপ্রাপ্ত দাবী করে বিবেকানন্দ দাস বিগত ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর বিজ্ঞ নড়াইলের লোহাগড়া সহকারী জজ আদালতের দেওয়ানী ৯৪/০৯ মামলায় ৯৯টি দাগে ৪ একর ৩৭ শতক জমি ফোর সেকশন পার্টিশন স্যুট এবং ২৩ শতকের ওপর আমানত উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধিন রয়েছে। মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশী জমিতে উভয়পক্ষকে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে আদালত। আদালতের উক্ত নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ২০২৫ সালের ২মে মিউটিশন কেস নং ৭৯৮৯/২৪-২৫, নালিশী ১৩টি দাগের ১একর সাড়ে ৩৭ শতক জমি লক্ষীপাশা ভুমি অফিসের নায়েব শেখ মো: আব্দুল মোতালেব’র প্রতিবেদনে নাজির, কানুনগো ও অফিস সহকারীর সহযোগীতায় শুনানী ছাড়া একতরফা অতি গোপনে পৃথক নামজারী ২৫-১৮৬৭ নং খতিয়ানভূক্ত করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র। নামজারী দু’টি বাতিল চেয়ে ভূমি আইনের ১৫০ ধারায় বিবেকানন্দ দাস বাদী হয়ে লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর মিস কেস দায়ের করেন। যার নং ৯১/২৬ ও ৯৫/২৬। উভয় পক্ষের আইনজীবিসহ গত ২৬ জুলাই দুটি মিস কেসের শুনানীর দিন ধার্য্য করেন লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুস্মিতা সাহা। ধার্য তারিখে বাদী-বিবাদী উপস্থিত থাকলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপস্থিত থাকায় ওইদিন শুনানী অনুষ্ঠিত হয় নাই। উল্লেখ্য: সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুকুল কুমার মৈত্র ও মিঠুন মৈত্র দু’জনের সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। উভয়ের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার রামদিয়া গ্রামে। লোহাগড়া এলাকায় কথিত রয়েছে তারা নিজ নিজ দায়ীত্বে থাকা কালিন টাকার বিনিময়ে এহেন অপকর্ম নাই যে, চাচা-ভাতিজা করেন নাই। তাদের দুর্নীতি বিষয়ে একাধিকবার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী লোহাগড়া উপজেলান সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুস্মিতা সাহা’র নিকট জাল দলিল ও জালিয়াতির মাধ্যমে করা নামজারী বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। উজ্জ্বল রায়. নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।
শেরপুরে ‘আজকের তারুণ্য’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আজকের তারুণ্য’-এর উদ্যোগে শনিবার শেরপুর ডিসি উদ্যান বৃক্ষ মেলা প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চলমান সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার ষষ্ঠ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংগঠনটি এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য উন্মুক্তভাবে গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম আগামী রোববার পর্যন্ত চলবে। চারা বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি রবিউল ইসলাম রতন, জান্নাতুল বাকী, স্বেচ্ছাসেবী সদস্য আশিক, মেহেবুবা মৌসুম, রাহাত, মেহেদীসহ সংগঠনের আরও অনেক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক। সংগঠনের নেতারা বলেন, গাছ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গাছের ভূমিকা অপরিসীম। তাই প্রতিটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তারা। স্থানীয়দের মধ্যে এই উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই বিনামূল্যে গাছের চারা সংগ্রহ করে নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় বৃক্ষরোপণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। আয়োজকদের মতে, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শেরপুরে সবুজায়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।
আলফাডাঙ্গায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃ/ত্যু, হ/ত্যার অভিযোগ পরিবারের; তদন্তে পুলিশ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় সুমাইয়া নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার দিন সুমাইয়াকে তার স্বামী ঘরের ভেতরে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে ঘরের বাইরে তালা লাগিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। নিহতের মা ডলি বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” নিহতের বোনেরাও একই অভিযোগ তুলে বলেন, সুমাইয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক নয় এবং তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।