বাংলাদেশ বার্তা টুডে
উজিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে উজিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ পালন করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় "বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের প্রধান ফটকের সামনে বিলুপ্তপ্রায় সৌন্দর্যবর্ধক কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলী সুজা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ জাহিদ আলম, সদস্য সচিব সরদার সোহেল, সদস্য মাহাবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, মোঃ সোহাগ হাওলাদার, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মহসিন মিয়া লিটন, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাওছার হোসেন রাড়ী, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম আসাদ, সদস্য খলিলুর রহমান, উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ মারফুদুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র কর্মকার, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, মোঃ রেজাউল, নিখিল পাড়, মোঃ রুহুল আমিন। এছাড়াও সাংবাদিক মোস্তফা জামান সুমন, জাহিদ হাসান রানাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলী সুজা বলেন, "পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের কোনো বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বও নিতে হবে। উজিরপুর প্রেসক্লাবের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সমাজের অন্যান্য সংগঠনের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।" উজিরপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ জাহিদ আলম বলেন, "সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিবেশ সংরক্ষণেও সাংবাদিকদের ভূমিকা থাকা উচিত। সেই ভাবনা থেকেই আমাদের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। একটি গাছ শুধু ছায়া বা ফলই দেয় না, এটি মানুষের জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তা পরিচর্যার আহ্বান জানাই।" দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় মারকাযুল কারিম সালেমা মজিদ কওমি মাদ্রাসা, শিকারপুর জিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শোলক এম. এ. রশিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮৫ নম্বর মার্দাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুসলিম পাড়া জামে মসজিদ, আদর্শ গ্রাম জামে মসজিদ, চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদ, ঠাকুরহাট জামে মসজিদসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির শেষে উজিরপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রতি পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, একটি সবুজ, সুন্দর ও দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করা এবং রোপণকৃত গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগই পারে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ উপহার দিতে।
বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির মাগুরা জেলা কমিটি গঠন
বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (বিজেপিসি)-এর মাগুরা জেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্প্রতি এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে স্টার নিউজের মাগুরা জেলা প্রতিনিধি মোঃ ইউনুছ আলী-কে সভাপতি এবং সিএনআই এর মাগুরা জেলা প্রতিনিধি মোঃ আলী আশরাফ-কে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা কমিটিতে বিভিন্ন পদে স্থানীয় সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে বিকাশ বাছাড়কে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি কার্যনির্বাহী সদস্য পদেও একাধিক সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই হবে এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। নবগঠিত জেলা কমিটির সদস্যরা সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাগুরায় সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সংগঠনের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নোবিপ্রবিতে দুই দিনব্যাপী জাতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের ভিড়
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ফটোগ্রাফি ক্লাবের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘বাংলা দর্পণ সিজন-৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ ও ৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলোকচিত্রী, শিক্ষার্থী এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। সোমবার (৩ আগস্ট) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, "ফটোগ্রাফি শুধু একটি শিল্পমাধ্যম নয়, এটি সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও প্রকৃতির নান্দনিক দলিল। একজন আলোকচিত্রী একটি ছবির মাধ্যমে মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং সমাজের বাস্তবতাকে এমনভাবে তুলে ধরতে পারেন, যা অনেক সময় হাজার শব্দেও প্রকাশ করা সম্ভব হয় না।" তিনি আরও বলেন, তরুণ আলোকচিত্রীদের উচিত প্রকৃতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং সমাজের ইতিবাচক ও বাস্তব চিত্র ক্যামেরাবন্দি করা। এতে ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামও বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতেও ফটোগ্রাফি ক্লাবের এমন সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং নোবিপ্রবি ফটোগ্রাফি ক্লাবের উপদেষ্টা ও সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিফাত-ই-মান্নান। প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী আশরাফুল ইসলাম শিমুল। আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী প্রায় ১,১০০টি আলোকচিত্র জমা পড়ে। সেখান থেকে বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৬৪টি সেরা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, জীবনসংগ্রাম, ঐতিহ্য, সমসাময়িক বাস্তবতা এবং মানবিক নানা গল্প ফুটে ওঠে নির্বাচিত আলোকচিত্রে। দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘জুলাই কর্নার’ এবং একটি ফটোবুথ স্থাপন করা হয়, যা ব্যাপক সাড়া ফেলে। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রদর্শনী প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। আয়োজকরা জানান, ‘বাংলা দর্পণ’ কেবল একটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা নয়; এটি নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন আরও বৃহত্তর পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মালামাল ক্রয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুনে যোগদানের পর থেকেই কোনো মালামাল ক্রয় না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে তিনি কয়েক লাখ টাকা পকেটস্থ করেছেন বলে জানা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার, মনিহারি বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার ও ৫০ হাজার, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কারে ৩০ হাজার, আসবাবপত্র মেরামত ও ক্রয়ে যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ৫৫ হাজার, কম্পিউটার মেরামতে ৪৫ হাজার, স্ট্যাম্প-সিলে ২২ হাজার, অফিস সরঞ্জামে ১৩ হাজার এবং পরিষ্কার সামগ্রীতে ৮ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ বিধি অনুযায়ী ব্যয় করা হয়নি। স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান বিল-ভাউচারের কেনাকাটার কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। সরজমিনে পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে নোংরা পরিবেশ দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ডা. মামুন যোগদানের পর প্রশাসনিক ও সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। নিয়মিত সময়মতো অফিসে না আসা, অধস্তন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও দালাল-ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য রুখতে তিনি উদাসীন। এমনকি চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণ কুমার দাস অফিস ফাঁকি দিয়ে বাইরে কাজ করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে তার প্রচার চালানো হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া আদায় এবং রোগীদের থেকে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের টাকা নেওয়ার বিষয়টিও তিনি চেপে যান। হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান, তাকে হিসাবের সব কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। সম্প্রতি এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে মারধরের ঘটনার পেছনেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে জানান, কেনাকাটার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের প্রমাণ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কালীগঞ্জ হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান ফেরাতে দুর্নীতিগ্রস্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সুধীসমাজ।
অনলাইন জুয়া ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়া ছেলেকে ত্যাজ্যপুত্র করলেন বাবা
অনলাইনে জুয়া ও নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে ছেলে অংচিংথোয়াই মার্মাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছেন তার পিতা চাথোয়াইমং মার্মা। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বান্দরবান জেলা কোর্ট প্রাঙ্গণে লোটারী পাবলিক কার্যালয়ে আইনজীবী উমংসিং মার্মার মাধ্যমে হলফনামার ভিত্তিতে এ ঘোষণা দেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবান জেলা কোর্টের আইনজীবী উমংসিং মারমা। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, সাবালক হওয়ার পর থেকেই অংচিংথোয়াই মার্মা বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া, খারাপ সঙ্গ গ্রহণ, নেশাগ্রস্ত হয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়া এবং জুয়া খেলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপচয় করার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। হলফকারী পিতা জানান, ছেলেকে সৎ পথে ফিরিয়ে আনতে তিনি বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া, চাহিদা পূরণ না করলে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা এবং সম্পত্তি বিক্রির জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলা হয়েছে হলফনামায়। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামায় আরও বলা হয়, অংচিংথোয়াই মার্মা ভবিষ্যতে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি অজ্ঞাতে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। তাই তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার পিতা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা নেবেন না বলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। পিতা চাথোয়াইমং মার্মা জানান, নিজ ও পরিবারের মান-সম্মান এবং অন্য সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
বারহাট্টায় মডেল গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
নেত্রকোনার বারহাট্টায় মডেল গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাক্তার মোঃ আনোয়ারুল হক। আজ (৩ আগস্ট) সোমবার উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ডেমুরা চাপারকোণা উচ্চবিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার, ডেমুরা চাপারকোণা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম.এ আওয়াল, বারহাট্টা উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আব্দুল বাতেন। অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকদের সভাপতি সালাউদ্দিন মিল্কি, বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমল, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান লালু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মানিক আজাদ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা শামীম, সাহতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হাসেমসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ডেমুড়া গ্রামে মোট ১৫’শ টি বৃক্ষ রোপণ করা হবে।
মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া, হয়রানি ও রেশন কার্ড আটকে রাখার অভিযোগ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ক্যাম্প-২২-এর ওন্সি প্রাং এলাকায় মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া, পরবর্তীতে অর্থ আদায়, হুমকি-ধমকি এবং রেশন কার্ড আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. হাসিমের পরিবারের দাবি, তাকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে একটি দালাল চক্র মিয়ানমারে নিয়ে যায়। পরে তার বাবা মো. হোসেন প্রায় ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে দালালদের কাছ থেকে ছেলেকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনেন। পরিবারটির অভিযোগ, এরপরও দালাল চক্রের সদস্য বলে অভিযুক্ত ক্যাম্প-২২-এর হেড মাঝি মোহাম্মদ রফিক এবং হামিদ নামে এক ব্যক্তি আরও টাকার দাবিতে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে পরিবারটিকে ক্যাম্প ছেড়ে চলে যেতে হবে বলেও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এছাড়া, হেড মাঝি মোহাম্মদ রফিক তাদের খাদ্য রেশন কার্ড আটকে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ রফিক ও হামিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।প্রকাশের মাধ্যম অনুযায়ী চাইলে এটি আরও সংক্ষিপ্ত, টিভি নিউজ স্ক্রিপ্ট বা পত্রিকার উপযোগী সংস্করণেও সাজিয়ে দিতে পারি।
বীরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ পূর্ণঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বীরগঞ্জ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পৌর শহর উল্লাস মোড়ের জামায়াত কার্যালয়ের সামনে ৩ আগস্ট সোমবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় আলোচনা সভা শেষে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দিনাজপুর জেলা উত্তর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উত্তর শাখার সভাপতি মোঃ সোহানুর রহমান সুমন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দিনাজপুর জেলা উত্তরের সাবেক সভাপতি মোঃ জাকিরুল ইসলাম, মোঃ আমিনুল ইসলাম ও মোঃ রেজাউল করীম ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোঃ রাশেদুন নবী বাবু। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দিনাজপুর জেলা উত্তর শাখার সেক্রেটারি মোঃ মমিনুল ইসলাম। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। আলোচনা সভা শেষে একটি গণমিছিল বীরগঞ্জ উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
৬'শ শিক্ষার্থীর শিক্ষক মাত্র একজন!
প্রায় ৬ শত শিক্ষার্থীর পাঠদানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। ক্লাশ বর্জন করে আন্দোলন করেও সুফল পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরে থাকা এক টুকরো বাংলাদেশ খ্যাত দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা সাবেক ছিটমহল। এটি তিন বিঘা করিডোর নামেও ব্যাপক পরিচিত। ভারতের ভুখন্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের সাথে যাতায়ত করতে হয় এ জনপদের বাসিন্দাদের। প্রথম দিকে অবরুদ্ধ থাকলেও কালক্রমে প্রথমে এক ঘন্ট এক ঘন্টা করে গেট খুলে রাখত ভারত সরকার। পরে তা সুর্য উঠা ঢুবাকে ঘিরে গেট খোলা বন্ধ করত। পরবর্তিতে তা ইন্দ্রা মুজিব চুক্তিমুলে ২৪ ঘন্টার জন্যই খুলে রাখা হয়। সেই দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটলে তৎকালিন সরকার দহগ্রামকে ইউনিয়ন ও সেখানে একটি ১০ শয্যার হাসপাতাল ও একটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। সেই একমাত্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়টি এখন শিক্ষক সংকটে ভুগছে। দীর্ঘ বন্দি থাকা এ জনপদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করন করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়টিতে বিষয়ভিত্তিক ২৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শুরুতে মাত্র ৭ জন শিক্ষক জাতীয় করণের আওতায় আসেন। পরবর্তীতে একে একে ৬ জন শিক্ষক অবসরে গেলে বর্তমানে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শুধুমাত্র একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক। প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি ক্লাস নিতে পারছেন। ফলে অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। এই পরিস্থিতির অবসান এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গেল মঙ্গলবার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের একটাই দাবি-অবিলম্বে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। চারদিকে ভারতের সীমান্তবেষ্টিত দহগ্রাম ইউনিয়নে যাতায়াতের একমাত্র পথ তিনবিঘা করিডর। ফলে উপজেলা শহরে গিয়ে লেখাপড়া করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য কষ্টসাধ্য। উপজেলা সদর থেকে দহগ্রামের দুরুত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। তাই স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থী শাহারিয়ার বলেন, একসঙ্গে ৫টি ক্লাস চালু হয়। সেখানে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। একমাত্র শিক্ষক কোন ক্লাশ নিবেন। এছাড়াও অফিসিয়াল কার্যক্রমও তাকে দৌড়াতে হয়। পাঠদান পুরো বন্ধই বলা যায়। তাই দ্রুত শিক্ষক পদায়নের দাবি তার। অভিভাবক আজিজুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষক দিয়ে একটি উচ্চ বিদ্যালয় কি ভাবে চলে। কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ে না আসলেও কাগজপত্র দেখে তো তাদের বুঝার কথা বিদ্যালয়টির পাঠদান কেমন হচ্ছে। অবহেলিত এ জনপদ অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে। বিদ্যালয়টির একমাত্র সহকারী প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম জানান, একাধিকবার শিক্ষক চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিক্ষক সংকটে পড়ে পাঠদান মারাত্বক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একাই পুরো প্রতিষ্ঠান সামলানো বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত শিক্ষক পদায়নের দাবি করেন তিনি। শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপ পরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, নন ক্যাডার থেকে নিয়োগে চেষ্টা চলছে। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় মাছের পোনা অবমুক্ত ও সোলার প্যানেল বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ কার্যক্রমের আওতায় আজ সোমবার (০৩ আগষ্ট) ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের অধিনস্ত ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বান্দরবানের দুর্গম বাকলাইপাড়া ও প্রাতাপারা এলাকায় স্থানীয় জনগণের জন্য পুকুর প্রস্তুতকরণ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রুই, সরপুটি, তেলাপিয়া ও নাইলোটিকা প্রজাতির মাছ। পাশাপাশি মাছ চাষের সফলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মাছের খাদ্য (ফিড) ও প্রয়োজনীয় সরন্জামাদি বিতরণ করা হয়। এছাড়াও একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাইনোয়ামপাড়া গ্রামের বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি প্রদানের মাধ্যমে সোরবিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা স্থানীয় পারাবাসীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি শিক্ষা, যোগাযোগ ও অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, বাকলাইপারা সাবজোন কমান্ডার, স্হানীয় পাড়াসমূহের কারবারি, ধর্মজাযক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাকলাইপারা সাবজোন কমান্ডার বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, দুর্গম এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আজকের এই উদ্দ্যোগ স্থানীয় জনগণের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও উন্নত করবে। স্থানীয় পাড়াবাসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করবে।
কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ৪ মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর বাজারে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চার মাংস ব্যবসায়ীকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওনা নাহিদ-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বাজারের বিভিন্ন মাংসের দোকান পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা এবং নিম্নমানের ও মাননিয়ন্ত্রণবিহীন মাংস বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত একজন ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা এবং অপর তিন ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৪৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। অভিযান চলাকালে অপরাধ শনাক্তকরণ ও প্রসিকিউশন উপস্থাপন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জিন্নু রাইন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওনা নাহিদ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কালীগঞ্জ-ঢাকা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন
গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে ঢাকার গুলিস্থান পর্যন্ত কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিঃ (কে,টি,এল) বাস সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন। সোমবার (৩ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার দেওপাড়া ফেরীঘাটের কে টি এল কাউন্টার সংলগ্ন কেটিএল সার্ভিসের চেয়ারম্যন সাদ্দাম মোড়লের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেন, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ আশরাফুল ইসলাম। উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান জুয়েল এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ হুমায়ুন কবির, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ লুৎফুর রহমান প্রমূখ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদি মোরসালিন, উপজেলা সমাজ সেবা আফরোজা বেগম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফী হাবিবুল্লাহ্, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান লাভলু, ফরিদ আহমেদ মৃধা, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, পৌর বিএনপির আহবায়ক সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান, সদস্য সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিআরটিসি বাস কর্তৃপক্ষ জানান, দেওপাড়া ফেরীঘাট হতে ৩০টি বাস প্রতিদিন গুলিস্থান পর্যন্ত চলাচল করবে। কে টি এল বাস সার্ভিসের ভাড়া ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এলাকাবাসীরা জানান, অনেক দিন পর কালীগঞ্জ বাসীর জন্য আরো একটি ভালো কাজ হলো এবং বর্তমান সাংসদ আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর ঢাকার সাথে কালীগঞ্জের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা চালু হয়েছে। পূর্বে কালীগঞ্জ থেকে ঢাকার গুলিস্থান পর্যন্ত কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের বাস চলাচল করলেও বিভিন্ন প্রতিকুলতা আর সংকটের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর আজ দুপুরে কালীগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট লিমিটে পূর্বের ঐতিহ্য নিয়ে বাস চলাচল শুরু করেন।
শরনখোলায় কোস্ট গার্ডের আয়োজনে চিকিৎসা সেবা,ঔষধ সামগ্রী বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত
বাগেরহাটের শরনখোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী বিতরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কোস্ট গার্ড। সোমবার (০৩ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় (৩ আগস্ট) সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টা হতে বিকাল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার ব্যবস্থাপনায় বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন রায়েন্দা সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। উক্ত মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন-এ ২৫৫ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়াও উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতা, নৈতিক মূল্যবোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
সোনারগাঁও পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। লোডশেডিংয়ের ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং কৃষি অর্থনীতি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ঘন ঘন ও দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের ফলে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, যা শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যবসাকে ব্যাহত করছে। স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়া বিদ্যুতের এই চরম ভোগান্তিতে স্থানীয় পল্লি বিদ্যুৎ অফিস কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর থাবা পড়েছে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে। সোনারগাঁয়ে বিদ্যুৎনির্ভর ছোট-বড় সকল কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। সোনারগাঁ পৌরসভার দিঘিরপাড় গ্রামের চাকরিজীবী আব্দুল বাতেন শিবলী বলেন, পৌরসভার মতো এলাকায় মানুষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘরে থাকাই দায়, প্রচণ্ড গরমে রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাতে হয়। ছোট বাচ্চা আর বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে আমরা এক নরকবাসের মধ্যে আছি। দিনের বেলায় অফিস বা কাজকর্মে গিয়েও শান্তি নেই, আর বাসায় ফিরলে লোডশেডিংয়ে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। পৌরসভায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীরা অভিযোগ করে জানায়, মাদ্রাসায় জেনারেটর থাকলেও তাতে অতিরিক্ত ডিজেলের ব্যবহার হচ্ছে বিধায় যেকোনো সময় তা আর ব্যবহারের যে পরিমান অর্থের প্রয়োজন হয় তা কর্তৃপক্ষ বহন করতে পারবেনা বিধায় আমাদেরকে বিদ্যুতের এহেন উঠা নামার কুফল বহন করতে হবে। পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আ: মালেক বলেন, গরমে আমরা অতিষ্ঠ। বিদ্যুৎ একবার চলে গেলে আর আসার নামই নেয় না। এক বিঘা জমিতে শখ করে সবজি চাষ করেছিলাম, কিন্তু সময়ের মাপে সেচ দিতে না পেরে চোখের সামনে ফসল শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে চার ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাই না। বারদী ইউনিয়নের শান্তির বাজার এলাকার অটোরিকশাচালক চান মিয়া বলেন, অটোরিকশার সামান্য আয়েই আমার কোনোমতে সংসার চলে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো গাড়ি চার্জই দিতে পারছি না। গ্যারেজে বসে থাকতে থাকতে দিনে আয় নেমেছে তলানিতে। বউ-বাচ্চাকে দুবেলা দুমুঠো ভাত খাওয়ানোই আজ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দমদমা এলাকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বি জানায়, সামনেই এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু এমনও দিন যায়, পুরো রাতে এক ফোঁটাও বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ঘেমে নেয়ে মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করা তো দূরের কথা, টেবিলে বই নিয়ে টিকে থাকাই দায়। অতিব দুঃখের সহিত জানাতে হচ্ছে যে, এই সংবাদ লিখার সময় বিদ্যুতের উঠা নামা নামক লুকোচুরির কবলে পড়তে হয়েছিলো। পরিসংখ্যানে দেখা যায় এক ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে ২ ঘন্টার জন্য উধাও হয়ে যায়। আজ সকাল থেকে এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিলো প্রায় ৫ ঘন্টা। নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (সোনারগাঁ জোনাল অফিস) এর উপমহাব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি এখন একটি জাতীয় সমস্যা। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না থাকায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে, আমাদের চাহিদা ১৪৫ মেগাওয়াট থাকলেও আমরা পাচ্ছি মাত্র ১০০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ সংকট কাটবে না। আশা করা যায়, শিগগির এ সমস্যার সমাধান করা হবে।
মঠবাড়িয়ায় ইজিবাইকের তীব্র যানজটে নাভিশ্বাস পৌরবাসীর
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ পৌরবাসী। পর্যাপ্ত ট্রাফিক জ্ঞানের অভাব, অনিয়ম এবং বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন হাজার হাজার বাহনে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ফলে পুরো শহরে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে বর্তমানে চলচলকারী বাহনগুলোর সঠিক পরিসংখ্যান নেই। প্রতিদিন শহরের প্রধান সড়কসহ দক্ষিণবন্দর মাছ বাজার, সদর রোড, পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে, মন্দির রোড ও টাওয়ার রোড এলাকায় দিনভর যানজট লেগেই থাকে। সরেজমিনে দেয়া গেছে, পৌরসভার বাইরের ১১টি ইউনিয়ন থেকেও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ইজিবাইক নিয়ে কিশোর ও অদক্ষ চালক পৌরশহরে প্রবেশ করে। বেপরোয়া গতি এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে পথচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ বাহন চলাচল করছে। তাই প্রশাসনও এদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। পাশাপাশি অতিরিক্ত চার্জিংয়ের কারণে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা সামিয়া রহমান বলেন, সকালে সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ও ইজিবাইকের জটলায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। নগরীকে যানজট মুক্ত রাখতে টেকসই পরিকল্পনার জোর দাবি জানাই। অপর বাসিন্দা শাকিল আহমেদ জানান, প্রশাসনকে সকল প্রভাব মুক্ত হয়ে দ্রুত অবৈধ বাহন চিহ্নিত ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোঃ আতাউর রাব্বী জানান, ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এখন জাতীয় সমস্যা। মঠবাড়িয়ায় চলাচলরত যানবাহনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতনের পরামর্শ অনুযায়ী যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল বলেন, "জনবহুল মঠবাড়িয়ায় যানজট নিরসনে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। বিকল্প পথ না থাকায় দূরপাল্লার বাস শহরের মাঝখান দিয়ে চলে, যা যানজট বাড়িয়ে দেয়। তবে ইজিবাইক চালিয়ে বহু মানুষের সংসার চলে। তাই চালকদের রুটি-রুজির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শহরকে যানজটমুক্ত করতে কার্যকর ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।"