বাংলাদেশ বার্তা টুডে
শার্শার বাগআঁচড়ায় প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন রজনীগন্ধা
"খেলাধুলায় বাড়ে বল, মাদক ছেড়ে খেলায় চল"এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় দিনব্যাপী বাগআঁচড়া বস্ত্র ব্যবসায়ীর সমিতির উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাগআঁচড়া হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ম্যাচ। স্থানীয় ৪টি শক্তিশালী ফুটবল দল এতে অংশ নেয়। দিনভর আনন্দ-উদ্দীপনা ও দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ‘শাপলা ফুটবল একাদশ’ এবং ‘রজনীগন্ধা ফুটবল একাদশ’। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উত্তেজনাকর ফাইনাল খেলায় শাপলা ফুটবল একাদশকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে রজনীগন্ধা ফুটবল একাদশ। খেলা শেষে বিজয়ী দল রজনীগন্ধা ফুটবল একাদশের অধিনায়ক রাকিবুল হাসান রিপনের হাতে প্রথম পুরস্কারের ট্রফি তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। পুরস্কার বিতরণী ও খেলায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জামাল উদ্দীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহম্মাদ, কুদ্দুস আলী বিশ্বাস, বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন এবং কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। এছাড়াও মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান রিপন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেন, , বাগআঁচড়া কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আক্তারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম টিটুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়ামোদী জনতা। আয়োজকরা জানান, মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে তরুণ ও যুবসমাজকে দূরে রাখতে এবং শারীরিক-মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে নিয়মিত এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
সোনারগাঁও রাজু হ/ত্যা মামলায় বাবা ছেলেকে আ/সামি করা হয় প্রতি/হিং/সা মূলক ভাবে দাবি পরিবারের
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর-কিশোরগঞ্জ এলাকায় রাজু হত্যা মামলায় ইউনিয়ন বিএনপির প্রবীণ নেতা মোতালেব মেম্বার ও তার ছেলে, যুবদল নেতা শাহাদাত প্রধানকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। শাহাদাত প্রধানের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, তার শ্বশুর ও স্বামী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি দাবি করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এলাকার কিছু নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের রাজু হত্যা মামলায় জড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তার শ্বশুর ও স্বামী বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তার দাবি। এছাড়া, তার শ্বশুর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ থাকায় তার স্বামীও বাড়িতেই ছিলেন বলে তিনি জানান। শাহাদাত প্রধানের বোন বলেন, তার বাবা মোতালেব মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের বিভিন্ন বিপদ-আপদে পাশে থেকেছেন এবং বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে দুঃসময়েও দল ছেড়ে যাননি। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বাবা একাধিক মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বাবা ও ভাইকে এই হত্যা মামলায় জড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তার বাবা ও ভাই পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ২৭ জুলাই রাত প্রায় ১১টার দিকে রাজুকে মারধরের ঘটনার পর তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, এই মামলাকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবারসহ এলাকার কয়েকটি নিরীহ পরিবারের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার বাদী, তদন্তকারী সংস্থা কিংবা পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্মৃতিতে জুলাই’ শীর্ষক দিনব্যাপী আয়োজন ১ আগস্ট
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘স্মৃতিতে জুলাই’ শীর্ষক একটি দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে থাকবে ফটো এক্সিবিশন, লাইভ ক্যানভাস পেইন্টিং, ওপেন ক্যানভাস ‘জুলাই স্বাক্ষর’, মিরর ইনস্টলেশন, বই প্রদর্শনী এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এসব আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, স্মৃতি ও তাৎপর্যকে ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে জানতে ও অনুভব করার সুযোগ পাবেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
ঝালকাঠিতে বাস–মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-২
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রা (থ্রি-হুইলার) মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেলেও মাহিন্দ্রার চালক পলাতক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজাপুর-ভান্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের বড় কৈবর্তখালী সমবায় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, পাথরঘাটা থেকে ঢাকাগামী বরিশাল এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে ভান্ডারিয়াগামী যাত্রীবোঝাই একটি মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাহিন্দ্রায় থাকা দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং চারজন আহত হন। খবর পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহতরা হলেন পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর এলাকার মো. বেল্লাল সরদারের ছেলে মেহেদী (২৪) এবং ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার কচুয়া এলাকার বাসিন্দা, চরমোনাই কোরআন শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি শিক্ষক এবিএম আব্দুর রহিম। তিনি মৃত হোসেন মাস্টারের ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজাপুর উপজেলার তারাবুনিয়া এলাকার রিমন চন্দ্র বেপারী (৩৫), পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার আবির রহমান (৩১) ও নজরুল ইসলাম (৫৫)। আহত অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়া বাসটি শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
গাজীপুর মহানগরে এক গৃহিনী হত্যাকান্ডে ২ দিনের মাথায় খুনী স্বামী গ্রেফতার
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার পালেরপাড়া এলাকায় গৃহবধূ মিম আক্তার (২৮) হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী মো. আলম হোসেনকে (২৯) ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বরিশাল নগরীর কোতোয়ালী থানার লঞ্চঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই জানায়, গত ২৮ জুলাই ভাড়া বাসা থেকে মিম আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হলে নিহতের ভাই বাসন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই গাজীপুর। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক সংকট এবং দীর্ঘদিনের দাম্পত্য বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত আলম হোসেন মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং স্ত্রীর সঞ্চিত অর্থ জুয়ায় হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছে পিবিআই। পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বন্ধ হচ্ছে না মব সন্ত্রাস, বাড়ছে আতঙ্ক: ইলিয়াস হোসেন মাঝি
সাম্প্রতিক সময়ে মব সন্ত্রাস বা দলবদ্ব সহিংসতা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, বিচার বহির্ভূত আক্রমণ এবং বিশৃঙ্খলার কারণে সামাজিক নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক আগেই আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। আর এই কারণেই সমাজে মব সন্ত্রাসের অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এতে করে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ নির্মূলের জন্য যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভেঙ্গে পড়া সেই আস্থা মেরামত করতে হলে প্রথমেই মব সন্ত্রাসের লাগাম টানতে হবে সরকারকে। মবতন্ত্র কোন ভাবেই গনতান্ত্রিক সমাজের অংশ নয়। এটি গনতন্ত্রের বিপরীত শক্তি। ধর্মের নামে, সংস্কৃতির নামে কিংবা ন্যায় বিচারের নামে যে কোন ধরনের মব সন্ত্রাসকে কঠোর ভাবে দমন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দৃঢ়তা এবং সামাজিক সচেতনতা। মানুষের উগ্র মনোভাব, প্রতিহিংসা, লোভ, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার দুর্বলতা, অস্ত্রের চালান, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিদ্বেষ এবং দখলের প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলেছে মব সন্ত্রাসের মত ভয়াবহ অপরাধ। অপরাধের বিচার না হওয়া বা বিলম্বিত হওয়ার পেছনে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ রয়েছে। বহুবছর ধরেই এমনটা হয়ে আসছে, সকল সরকারের সময়েই প্রভাবশালী মহল বলে একটা মহল থাকে। এই মহল কারা, কীভাবে কাজ করে, কাদের দ্বারা কাজ করে এই তথ্য আইন রক্ষাকারী বাহিনী জানলেও বিভিন্ন কারণে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না। শুধু রাজনৈতিক সরকার নয়, ২০২৪ সালের অন্তবর্তীকালীন সরকারের ভিতরে ও এই প্রভাবশালীদের চক্কর দেখা গেছে। এই প্রভাবশালীদের কারনেই বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। মব সন্ত্রাসের মতো অপরাধ করবে কিন্তু বিচারের মুখোমুখি হতে হবে না, এটাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মব সন্ত্রাস বা গনপিটুনির মতো আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা যে কোন সভ্য সমাজের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। দেশে আইনের শাসন্য প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের জীবন মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
পঞ্চগড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টার অভিযোগ
পঞ্চগড়, ৩০ জুলাই ২০২৬: পঞ্চগড় পৌরসভার তুলারডাঙ্গা এলাকায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শহিদুল (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শহিদুল তুলারডাঙ্গা গ্রামের মৃত ভোদার ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে কবুতরের বাচ্চা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে তার ওপর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির পরিবারের সদস্যরা। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রেজোয়ানা রিয়াজ জানান, শিশুটি শারীরিকভাবে ব্যথা অনুভব করছিল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
ড. শফিকুল ইসলাম কি প্রো-ভিসি নাকি নোবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিএনপির সভাপতি?
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অন্যতম সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সভাপতির পদে বহাল রয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পূর্ণকালীন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে দলীয় শিক্ষক সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকা এবং সভাপতি হিসেবে তার স্বাক্ষরিত কিছু বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য একটি স্বায়ত্তশাসিত, পূর্ণকালীন ও নীতি-নির্ধারণী প্রশাসনিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু তিনি সরাসরি দলীয় শিক্ষক সংগঠনের সভাপতির পদে আসীন থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ‘স্বার্থের সংঘাত’ এড়ানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার বা মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রদান করেন। ফলে তাঁরা সরকারি পদের প্রশাসনিক মর্যাদা ধারণ করেন। সরকারি কর্মকর্তা (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধি ২৫(১) এ বলা আছে "কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক কাজ করে এমন কোনো সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না, কিংবা অন্য কোনো উপায়ে তার সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করতে পারবেন না।" এছাড়াও , বিধি ২৫(২) এ বলা হয়েছে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা দলীয় পদের দায়িত্ব সামলাতে পারবেন না। তাছাড়া ,বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও ইউজিসি অনুযায়ী, ভিসি (উপাচার্য), প্রো-ভিসি (উপ-উপাচার্য) এবং ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) পদগুলো হলো সার্বক্ষণিক প্রাধিকারভুক্ত প্রশাসনিক পদ।একজন সাধারণ শিক্ষক ক্লাসের বাইরে শিক্ষক রাজনীতি করতে পারলেও, তিনি যখন ইউজিসি ও সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে 'প্রো-ভিসি' হিসেবে দায়িত্ব পান, তখন তাঁর প্রধান আইনি বাধ্যবাধকতা হয় সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর জন্য নিরপেক্ষ অভিভাবক হিসেবে কাজ করা। দলীয় শিক্ষক সংগঠনের যেকোন পদে বহাল থাকা অবস্থায় প্রশাসনিক উপ-উপাচার্যের দায়িত্বে থাকলে সরাসরি 'Conflict of Interest' বা স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়। এছাড়াও , ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় দেশের তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে। ওই আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ,কর্মকর্তা, কর্মচারীর নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন, সহযোগী সংগঠন, অঙ্গ সংগঠন বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সঙ্গে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে সম্পৃক্ত হয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ধরনের দলাদলি নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়াও , নোবিপ্রবি আইন ২০০১-এর ধারা ৪৭ (৫) ও (৬) এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রশাসনের ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না। তবে এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "এটা তো কোনো দলীয় রাজনৈতিক দল না। আমরা এমনিতেই আমাদের সাদাদলের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি "। তিনি আরও বলেন , এ ব্যাপারে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাশনিক পদে থেকে এধরনের সংগঠনের সাথে যুক্ত না থাকাই ভালো"
কয়রার বেজপাড়া হায়াতুননেছা দাখিল মাদ্রাসায় বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি
কয়রার বেজপাড়া হায়াতুননেছা দাখিল মাদ্রাসায় বৃক্ষ রোপন: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শপথ বৃক্ষ লাগান পরিবেশ বাঁচান"কয়রার বেজপাড়া হায়াতুননেছা দাখিল মাদ্রাসায় বৃক্ষ রোপন: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শপথ বৃক্ষ লাগান পরিবেশ বাঁচান" মোক্তার হোসেন কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: বৃক্ষ নিধনের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এই বাস্তবতায় কুরআন-হাদিসের আলোকে পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিল কয়রা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আমাদী ইউনিয়নের বেজপাড়া হায়াতুননেছা দাখিল মাদ্রাসা। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় সকল শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানের সুপার *একেএম আজহারুল ইসলাম*-এর সার্বিক পরিচালনায় এবং সকল শিক্ষকের উপস্থিতিতে এ কর্মসূচী পালিত হয়। অনুষ্ঠানে সুপার একেএম আজহারুল ইসলাম কঠোর ভাষায় বলেন, কুরআন-হাদিসের আলোকে আমাদের দায়িত্ব। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও যদি সুযোগ থাকে, তবুও প্রতিটি মানুষকে একটি করে বৃক্ষ রোপণ করে যেতে হবে। এটা শুধু ইবাদত নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য আমানত। প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মাওলানা এম এ সালাম কুরআন-হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন - কিয়ামত কায়েম হয়ে যাচ্ছে, এমন সময়ও যদি তোমাদের কারো হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে দেয়। চিন্তা করুন, বৃক্ষরোপণকে ইসলাম কত গুরুত্ব দিয়েছে! আজ মানুষ দুনিয়ার লোভে গাছ কাটছে, ইট-ভাটা বানাচ্ছে। অথচ আল্লাহ পাক বলেছেন - 'তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না'। বৃক্ষ নিধনই সবচেয়ে বড় ফাসাদ। মনে রাখবেন, একটি গাছ লাগানো মানে হাজারো পাখির রিজিকের ব্যবস্থা করা। মৃত্যুর পরও কবরবাসী পর্যন্ত এর ছায়া ও ফল ভোগ করবে। এটাই সদকায়ে জারিয়াহ। তাই আমি বলছি পৃথিবীতে মহাপ্রলয় আসার আগের সেকেন্ডেও যদি সুযোগ থাকে, তবুও একটি বৃক্ষ রোপণ করতেই হবে। এটাই কুরআন-হাদিসের চূড়ান্ত নির্দেশ। সিনিয়র শিক্ষক মোক্তার হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃক্ষ নিধন। তাই আমাদের সকলের উচিত বাড়ির আঙিনায় এবং প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপণ করা। বিশ্বের বিশ্বায়নে জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের বিজয় রক্ষায় বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী শিক্ষক মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম, মাস্টার আব্দুস ছালাম, আইসিটি শিক্ষক আব্দুর রউফ, মাস্টার রায়হান আলী, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা এম এ ছালাম, সাবিনা ইয়াসমিন, বাবু কুমারেশ মন্ডল, মাকসুদুর রহমান। এদিকে সকল শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় ও নিজ বাড়িতে বৃক্ষ রোপণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
পারিবারিক বিরোধ, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
গাইবান্ধা শহরের সরকার পাড়ায় পরিবারকে নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, জমি দখল এবং ব্ল্যাকমেইলের প্রতিবাদে ৩০ জুলাই রাতে গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মো. মোকছেদুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মোকছেদুর রহমানের পিতা মো. জাহিদুল ইসলাম আজাদ, ভাই মিজানুর রহমান মুন্না, মা মাসুদা বেগম মিনা, ভাইয়ের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। গত ২৮/০৭/২০২৬ ইং তারিখে সংঘটিত একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় যে, প্রতিপক্ষ পক্ষই উল্টো তাদের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং মারধরের নাটক সাজিয়ে অজ্ঞান হওয়ার অভিনয় করে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রতিপক্ষের শফিকুল ইসলাম বাবু ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। শফিকুল ইসলাম তার লোভে পড়ে বৃদ্ধ বাবাকে ভুল বুঝিয়ে জমি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকার একটি বাস কাউন্টারে চাকরি হারিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন মহলে তেলবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের হেয় প্রতিপন্ন করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোই তার মূল পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার এই মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এবং শফিকুল ইসলামের ব্ল্যাকমেইলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ বিষয়ে তাদের ক�
রংপুর মেডিকেলে বাড়ছে আইসিইউ, বসছে সিসিটিভি: ত্রাণমন্ত্রী
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও ১০টি আইসিইউ শয্যা যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালজুড়ে এক মাসের মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অবহেলা ছিল। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও জনবল সংকট নিরসনে কাজ করছে। অনেক হাসপাতালে অবকাঠামো থাকলেও জনবল না থাকায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রংপুর মেডিকেলে রোগীর স্বজনদের থাকার ব্যবস্থা, অ্যানেস্থেশিয়ার সংকট নিরসন এবং অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জনবল সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আরও ৫০ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হবে এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাশ পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালভিত্তিক তালিকাভুক্তি, নির্ধারিত ভাড়া এবং চালানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, নির্মাণাধীন ৪৬০ শয্যার ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ বিশেষায়িত ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবনটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারিত হবে। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বিকেলে রংপুর নগরীর কুকরুল এলাকায় জিয়া খাল পরিদর্শনকালে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে খালের দুই পাশের গাছের পরিচর্যার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জিয়া খাল পুনঃখনন করে এটিকে নগরবাসীর চলাচল ও বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শন ও আলোচনা সভায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অফিস খুলে সালিশের নামে চাঁদাবাজি করলে তাদের পুলিশে দেওয়া হবে: রাশেদ খান
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে , এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অফিস খুলে সালিশের নামে চাঁদাবাজি করলে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।' বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার ৪৭টি ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকার চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আব্দুল মজিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, পিএএ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক সফল প্যানেল মেয়র, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ গণমানুষের নেতা হামিদুল ইসললাম হামিদ। প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাএসময় উপস্থিত তবিবুর রহমান মিনি, ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, কালীগঞ্জে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মিলন, বাহারুল ইসলাম কাজল,সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সোনারগাঁও জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ ও সরকারি কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার
নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁয়ে সেবার মান বাড়ানো, কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করণ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর ও চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিন্নাত,সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিকুর রহমান,ওসি তদন্ত আনোয়ার হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলাম,নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের পুত্র খায়রুল ইসলাম সজীবসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা,স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন,সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং জনগণের কাছে প্রশাসনিক সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে। তিনি বলেন এ ধরনের পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সোনারগাঁয়ের উন্নয়নের ধারা আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠুক একটি উন্নত, আধুনিক ও জনবান্ধব সোনারগাঁ। পরিদর্শন শেষে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের আওতায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে ৪ টি হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয় এবং একজন প্রতিবন্ধীকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান শেষে উপজেলা পরিষদ কক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়
এনসিপি বাংলাদেশে ভণ্ডের বন্দোবস্ত কায়েম করছে: রাশেদ খাঁন
এনসিপি বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি বন্দোবস্ত’র নামে ভণ্ডের বন্দোবস্ত কায়েম করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। বৃহস্পতিবার(৩০ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপি জামায়াতের মস্তিষ্ক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। জামায়াত একটি চালাক ও ধুরন্ধর একটি দল। তারা নিজেরা বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখছে। সংসদ চলাকালে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে প্রশংসা করে বক্তব্য দেয়। কিন্তু তারা মাঠে গিয়ে দেখি তারা গণঅভ্যুত্থানের হুমকি দেয়। আবার তারাই এনসিপির নেতৃবৃন্দকে দিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করে। রাশেদ খাঁন বলেন, এনসিপির নেতৃবৃন্দকে বলব আপনারা রাজনীতির পরিবেশকে যদি নষ্ট করে তাহলে তার উত্তম জবাব দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। জামায়াত ও এনসিপির সকল ষড়যন্ত্রের দাতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি দেন রাশেদ খাঁন। এর আগে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাড. এম এ মজিদ, জেলা প্রমাসক নোমান হোসেনসহ সরকারী কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভায় জেলার নানা উন্নয়ন, সম্ভাবনা, সমস্যা ও তা সমাধানে পরামর্শ গ্রহণ করেন রাশেদ খাঁন এবং তা সমাধানের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।
শরণখোলায় সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে সহায়তা উপকরণ বিতরণ
শরণখোলা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে সহায়তা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০জুলাই)উপজেলার সমাজসেবা অফিসে ৮ জন প্রতিবন্ধীর মধ্যে হুইল চেয়ার, একটি ট্রাই সাইকেল একটি চাইল্ড হুইল চেয়ার ও পাঁচটি স্মার্ট কেইন বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত অর্থিতা হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, উপজেলা জামাতের আমির সহকারী অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির , সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, জামাত নেতা মোঃ ফজলুল হক, শরণখোলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আঃ মালেক রেজা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাই, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শিশির কুমার, উপজেলা নির্বাচন অফিসাররা প্রাপ্ত মোঃ মঈন উদ্দীন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রধান শিক্ষক নান্না মিয়া ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন বাদল।